সরকার এখন ভিক্ষা করার জন্য একবার আইএমএফের কাছে যায়: মান্না - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:১৮, রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকার এখন ভিক্ষা করার জন্য একবার আইএমএফের কাছে যায়: মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

 

যে সরকারের টাকা নেই, সেই সরকার আবার কিসের সরকার প্রশ্ন করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এই সরকার এখন ভিক্ষা করার জন্য একবার আইএমএফের কাছে যায়, একবার ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কাছে যায়, একবার এডিবির কাছে যায়। অন্যের কাছে ভিক্ষা করা ছাড়া এই সরকারের এখন বাঁচার কোনো উপায় নেই। সরকারের অবস্থা এত খারাপ, কাতুকুতু দিলেই পড়ে যেতে পারে।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সরকার ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হোন ১৪ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলন জোরদার করুন’ শিরোনামে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

কমপক্ষে এক হাজার মানুষ গুম খুন হয়েছে উল্লেখ করে মান্না বলেন, সবাই যখন এই কথা বলেছে, তখন তারা (সরকার) বলেছে, কিসের গুম? ওরা ভূ-মধ্যসাগরে ডুবে গেছে, প্রেম করে পালিয়ে গেছে, পাওনাদারের টাকা দেওয়ার ভয়ে লুকিয়ে আছে। এইবার যখন দক্ষিণ এশিয়া সহকারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লু এসেছে, তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের র‌্যাবও তো কিছু বাড়াবাড়ি করেছে।

ঠেলায় পড়লে বাঘেও ধান খায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাঘে ধান খাওয়ার মতো স্বীকার করেছেন, র‌্যাব মানুষ মেরেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি, অবস্থা ঠিকঠাক হয়ে গেছে। এখন থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বিবৃতি দিয়েছে, এমন কোনো কথা তাদের সাথে হয়নি।

বর্তমান সরকারে মন্ত্রীদের চোর আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, তারা পরপর দুইবার ভোটচুরি করেছে। আবার ভোট চুরি করতে বিভিন্ন ফন্দি ফিকির বের করেছিল। এখন সব রাষ্ট্র বলছে, এসব চলবে না। কোনো টালিবালি হবে না। ভোট ঠিকভাবে করতে হবে। তা না হলে ব্যবস্থা আছে।

শেখ হাসিনার অধী‌নে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা ভোটে যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি বলেছে, শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় আছে, ততদিন কোনো ভোট হবে না। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় আছেন তার অধীনে কোন নির্বাচ‌নে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা ভোটে যাবে না।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, তাদের দল দুর্বল নয়, ধাক্কা দিলে পড়ে যাবে না। আমি তো দেখছি, সরকারের অবস্থা এত খারাপ, কাতুকুতু দিলে পড়ে যেতে পারে। যে সরকারের কাছে টাকা নাই, যে সরকারের কথা পুলিশ-আর্মি শোনে না, যে সরকারের বিরুদ্ধে সারা পৃথিবীর রাষ্ট্রগুলো, সে সরকার দুর্বল নয়তো কি?

সরকার আগামী শীত পর্যন্ত টিকবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই সরকার পুরো বছর টিকে কি না কে জানে। বয়োবৃদ্ধদের সম্পর্কে মানুষ যেমন বলে, এই শীত টিকে কি টিকে না। তেমনি এই সরকারের অবস্থা হচ্ছে, এই শীত টিকে কি টিকে না। ২০২৩ সাল শেখ হাসিনার পতনকাল।

চাপাবাজি করে দেশ চলে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, মিথ্যা কথা বলে, প্রতারণা করে দেশের মানুষকে বেশিদিন বিভ্রান্ত করা যায় না। এজন্য এখন সারা দেশের মানুষ জেগেছে। আওয়ামী লীগ একটি বড় পার্টি, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমান এই দলের নেতা ছিলেন। তাই আওয়ামী লীগকে মানুষ সম্মান করতো। কিন্তু এখন যারা আওয়ামী লীগ করছেন, এখন যে নেতৃত্ব, এই দলকে মানুষ ঘৃণা করে।

আওয়ামী লীগ নিজেরা নিজেদেরকে পাহারা দেয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, জনগণ যদি রাস্তায় নেমে শ্রীলঙ্কার মতো বঙ্গভবন, গণভবনে ঢুকে পড়ে এজন্য তারা নিজেরা, নিজেদের পাহারা দেয়। সামনে দিন আসছে, পাহারা দেওয়ার লোকও পাওয়া যাবে না। তারা (সরকার) এত অন্যায় করেছে, এত পাপ করেছে, এত লোক মেরেছে, এত মানুষকে জেল খাটিয়েছে, এত বড় বড় নেতাকে অপমান করেছে, এগুলো আল্লাহ সহ্য করবে না। এজন্য তাদের শাস্তি হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণসংহ‌তির প্রধান সমন্বয়ক জোনা‌য়েদ সা‌কি, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণ অধিকার পরিষদে সদস্য সচিব নুরুল হক নুর প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ