অডিও ফাঁস : নিখোঁজ নন, ‘আত্মগোপনে’ স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৩ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৩ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু আসিফ নিখোঁজ না কি আত্মগোপনে—এ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশুগঞ্জে তোলপাড় চলছে। তার স্ত্রী তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বললেও আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন তিনি আত্মগোপনে থেকে নাটক করছেন। তবে একটি অডিও ফাঁস হওয়ার পর আজ সোমবার আবু আসিফের বিষয়টি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়।
আবু আসিফ আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) উপনির্বাচনে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও বহিষ্কৃত নেতা উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। আবু আসিফ মোটরগাড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। ক’দিন থেকেই আবু আসিফ অভিযোগ করে আসছিলেন, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য তার ওপর প্রচণ্ড চাপ ছিল। তার নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানি করাসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। তবে এর মধ্যেও তিনি নির্বাচন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
গত ২৬ জানুয়ারি আসিফ অভিযোগ করেছিলেন, গত ২৫ জানুয়ারি রাত থেকে তার শ্যালক ও নির্বাচন পরিচালনকারী কমিটির প্রধান সমন্বয় শাফায়েত হোসেন (৩৮) নিখোঁজ রয়েছেন। ওইদিন রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেন তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মুসা মিয়াকে। যদিও পুলিশ বলেছিল মারামারির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত রোববার আশুগঞ্জে খবর ছড়িয়ে পড়ে আবু আসিফ নিখোঁজ। তার স্ত্রী মেহেরুন্নিছা জানান, গত দুই দিন ধরে তার স্বামী ঘরে ফেরেনি। আমাদের লোকজনও ভয়ে রয়েছে। এজেন্ট নিয়োগ দিতে সমস্যা হচ্ছে। কাজের লোক এলেও ছবি তুলে রাখে, ভিডিও করে রাখে। এভাবে তো সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না।
এ বিষয়ে থানায় বা কোথাও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। আমিও ভয়ের মধ্যে আছি। দ্রুত একটা কিছু করব।
তবে আবু আসিফ নিখোঁজ হবার খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসিফের স্ত্রী এবং বাসার কেয়ারটেকারের মাঝে ফোনালাপ বলে একটি অডিও ফাঁস হয়। যেখানে বাড়ির কেয়ারটেকারকে আসিফের জন্য জামা কাপড় গোছানোর নির্দেশ দিতে শোনা যায়।
কথোপকথনে একটি নারী কণ্ঠ বলে, ইউসুফ (কেয়ারটেকার) স্যার কই, স্যারের (আসিফ) কতগুলো জামা কাপড়, গেঞ্জি, প্যান্ট, শীতের কাপড়, জুতা-মোজা ব্যাগে ভরে দিয়ে দে তাড়াতাড়ি। আরে তাড়াতাড়ি দে। কেউ যেন না জানে স্যার কই গেছে। ক্যামেরা বন্ধ করে দে। ক্যামেরার লাইন বন্ধ কর বাসার। স্যার গেলে আরও ১০মিনিট পর ক্যামেরার লাইন খুলবে।
এমন কথোপকথন ফাঁস হবার পর বিএনপি নেতা আসিফ নিখোঁজ না কি আত্মগোপনে গেছেন এ নিয়ে আলোচনা আরও ডালপালা মেলতে শুরু করে। এরপর থেকে সোমবার সারা দিন ফোন করলেও আসিফের স্ত্রী ফোন রিসিভ করেননি। আসিফের ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
আসিফের ভাতিজা ও আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের বলেন, আমি সাত্তার সাহেবের (কলার ছড়ি) নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। চাচা আসিফের বিষয়ে কিছুই জানি না। আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (১) এম এম তোফায়েল আলী রুবেল বলেন, আসিফ নিজেই আত্মগোপন করে নাটকের জন্ম দিয়েছেন। নির্বাচনে আলোচনায় থাকার জন্যই তিনি এ কাজ করেছেন।
আশুগঞ্জ থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, আবু আসিফের বিষয়ে তার স্ত্রী বা পরিবারের কেউ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। আমরা তার বাসায় যাইনি বা আশপাশে ঘুরাফেরাও করি নাই।
পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, তার নিখোঁজের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি নিজে থেকেই লুকিয়ে রয়েছেন নাকি নিখোঁজ হয়েছেন তা অনুসন্ধানে পুলিশসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহগীর আলম জানান, আমাদের কাছে এমন কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।
জনতার আওয়াজ/আ আ