১০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মানবন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৩ ৩:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৩ ৩:০৯ অপরাহ্ণ

বাৎসরিক ১০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মানবন্ধন
সর্বনিম্ন মজুরি ২৪ হাজার টাকা ও ৩ টি গ্রেড নির্ধারণ এবং বাৎসরিক ১০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে মানবন্ধন করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ।
গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদের নেতারা দাবি তুলে বলছেন, গার্মেন্টসের উৎপাদন ও রপ্তানি দুটোই বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। কিন্তু শিল্পের উন্নয়নের কোন ফলই গার্মেন্টস শ্রমিকরা পাচ্ছে না।
সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসকল দাবি জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে জীবন যাপন করা দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারনে খাদ্য, নিত্যপন্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ব্যয়, বাড়িভাড়া, যাতায়াত ভাড়া ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবী এখন সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সংগঠন ও জোটের পক্ষ থেকেও মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি করে আসছে।
তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের ১৪১ ধারা অনুযায়ী জীবনযাপন ব্যয়, জীবনযাপনের মান, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে হবে। ৭০ শতাংশ বেসিক মজুরি নির্ধারণ করে, নিম্নতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা ঘোষনাসহ ৩টি গ্রেডে নির্ধারন করার দাবী জানাচ্ছি।
গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদের সদস্য সচিব ও রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কস ফেডারেশনের সভাপতি দাগী ইয়াসমিন বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী সেই সেক্টরের জন্য মজুরী কমিশন গঠিত হবে। সেই সেক্টরের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের প্রতিনিধিকে মজুরি বোর্ডের সদস্য করার জন্য আমরা অনুরোধ করছি। বর্তমানে শ্রমিকদের মজুরির সাথে জীবনমানের খরচ এতোই বৃদ্ধি পেয়েছে যে তা দিয়ে কোন ভাবেই শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহ হয় না।
তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকগন দেশের মূল অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি। অথচ তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা নাই। তাদের জন্য নাই কোন প্রণোদনা ব্যবস্থা। তাই আমরা সকল গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি।
গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদের ৬ দফা দাবিগুলো হল-
১. গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে।
২. গার্মেন্টস সেক্টরের শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের মজুরি বোর্ডের সদস্য করতে হবে।
৩. নিম্নতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা (৭০% মূল বেসিক) ঘোষণাসহ ৩টি গ্রেডে নির্ধারন করতে হবে।
৪. প্রতি বছর ১০% বাৎসরিক মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে।
৫. নিম্নতম মজুরি ঘোষনায় বিলম্ব হলে মূল বেসিকের ৪০% মহার্ঘ্য ভাতা দিতে হবে।
৬. স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সকল গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ এর আহবায়ক ও মুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মিয়া।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস্ শ্রমিক পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জাহানারা বেগম, বাংলাদেশী গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম আক্তার, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মোঃ নাহিদুল হাসান নয়ন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল লেবার ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম আকনসহ কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ।
জনতার আওয়াজ/আ আ