‘কেয়ার গিভার’ প্রশিক্ষণ নিলে আপনিও হতে পারেন কেয়ার গিভার।কর্মসংস্থানের হতে পারে আধুনিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৩ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৩ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

ফরহাদুল ইসলাম ও নাহিন আকতার স্বামী-স্ত্রী। তারা দুজনই চাকরি করেন। ফরহাদের বৃদ্ধ বাবা এবং মা তাদের সঙ্গে ঢাকাতেই থাকেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে প্রায়ই ভোগেন তারা।
চাকরির ব্যস্ততায় দিনেরবেলা বাবা-মায়ের দেখভাল ঠিকমতো করতে পারেন না ফরহাদ-নাহিন। এমন অবস্থায় এই তরুণ দম্পতি যোগাযোগ করেন একটি কেয়ার গিভার প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে।
এই প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করছে দক্ষ ‘কেয়ার গিভার’,যারা নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে যত্ন সহকারে প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে থাকেন।
তানিয়া আক্তার এমনই একজন কেয়ার গিভার। রাজধানীর একটি কলেজের স্নাতক পড়–য়া তানিয়া ‘পার্ট টাইম জব’ হিসেবে বাসায় গিয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেবা দিয়ে থাকেন। প্রশিক্ষিত ও দক্ষ তানিয়ার সেবায় সন্তুষ্ট ফরহাদের বাবা-মা।
তাদের সন্তুষ্টি অনেকটা চিন্তামুক্ত করেছে ফরহাদ-নাহিন দম্পতিকে।
আর এ সেবার বিনিময়ে পারিবারিকভাবে অসচ্ছল তানিয়ার মাসে আয় হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। শুধু তানিয়া নন, অনেক বেকার তরুণ-তরুণীর জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে ‘কেয়ার গিভিং’ ধারণা।
পূর্ণকালীন চাকরি (৮ ঘণ্টা ডিউটি) হিসেবে এ কাজের মাধ্যমে অনেকেই ২৫-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।
দক্ষ কেয়ার গিভারদের চাহিদা রয়েছে বিদেশেও। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ইংরেজীতে মোটামুটি দক্ষতা থাকলে প্রতিঘণ্টায় ১৫ ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেয়ার গিভার ধারণাটি আমাদের দেশে নতুন।
কিন্তু বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে পরিচিত ও প্রচলিত। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় মানুষের ব্যস্ততা বাড়ছে বহুগুণ।
ফলে বাংলাদেশেও শহরাঞ্চলে বিশেষ করে রাজধানীতে বিভিন্ন সচ্ছল পরিবারে অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য কেয়ার গিভারের চাহিদা বাড়ছে।
বৃদ্ধাশ্রম’ও শিশুদের জন্য ‘দিবাযত কেন্দ্র’থেকে সেবা নেয়ার জন্য ব্যক্তি বা শিশুকে যেতে হয় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে।
কিন্তু অনেকে আছেন, যারা ঘরেই সেবা পেতে চান। মূলত তাদের জন্যই ‘কেয়ার গিভার’।
দেশে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল চাহিদার প্রেক্ষিতে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারী সংস্থাগুলো বৈশ্বিক সেবাধর্মী কোর্সটি চালু করেছে । প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি তাদের চাকরির ব্যবস্থাও করবে।
পিকেএসএফ আশা করছে এই উদ্যোগ দেশে কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে; যা দারিদ্র্য বিমোচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পিকেএসএফের মূল উদ্দেশ্য কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করা। প্রশিক্ষিত কেয়ার গিভার তৈরি করতে পারলে উচ্চ মজুরিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন সৃষ্টি হবে পাশপাশি প্রবীণরা সেবাও পাবেন।
ভবিষ্যতে আরও অধিক কেয়ার গিভার তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা পিকেএসএফের রয়েছে ।
ভর্তির যোগ্যতা
কমপক্ষে এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় পাস ছাত্র/ছাত্রীগণ কেয়ারগিভার কোর্সের জন্য যোগ্য।
তবে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ, মেডিকেল টেকনোলজি, ডিপ্লোমা নার্সিং, মিডওয়াইফারী, ফাষ্ট এইড প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীদের দক্ষতা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসাবে বিবেচ্য এবং অগ্রাধিকার।
যে কোন বয়সের ছেলে-মেয়েরা এ কোর্সটি করতে পারবেন।
তবে দেড়ি কেন ??
আপনার পাশের কোন প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ে নিন ‘কেয়ার গিভার’ প্রশিক্ষণ ।
প্রশিক্ষণ শেষে চাকুরি প্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হয় ।
ফ্রি প্রশিক্ষণ নিতে এই লিঙ্কটির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে নিনঃ
লিঙ্কে ক্লিক করে নিজের তথ্য দিন https://forms.gle/PAm2hZ1jyn5SZzmb7
ধন্যবাদ ভালো থাকবেন ।
জনতার আওয়াজ/আ আ