দৈনিক দিনকালের ‘ডিক্লারেশন’ বাতিলে ফখরুলের নিন্দা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৪৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দৈনিক দিনকালের ‘ডিক্লারেশন’ বাতিলে ফখরুলের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৩ ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৩ ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ

 

দেশের জাতীয় দৈনিক ‘দৈনিক দিনকাল’-এর ডিক্লারেশন ও মুদ্রণের ঘোষণা পত্র বাতিল করা হয়েছে।

পত্রিকাটি বিএনপির মুখপাত্র ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা দৈনিক দিনকালের ডিক্লারেশন ও মুদ্রণের ঘোষণাপত্র বাতিল করে দিয়েছে সরকার জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক বার্তায় মির্জা ফখরুল বলেন ‘বর্তমান নিশিরাতের সরকারের অধীনে গণমাধ্যমের যে কোনো স্বাধীনতা নেই, তা আবারও প্রমাণিত হলো।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের নির্দেশে গত ২৬ ডিসেম্বর দিনকালের ডিক্লারেশন ও পত্রিকা মুদ্রণের ঘোষনাপত্র বাতিল করেছেন ডিসি। দৈনিক দিনকালের পক্ষ থেকে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন ও মুদ্রণ বাতিলের আদেশের স্থগিতাদেশ চেয়ে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সেলে আবেদন করলে, গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত ছিল।

তিনি বলেন, দৈনিক দিনকাল পত্রিকাটি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলের মুখপত্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে। বিরোধী দলের একমাত্র পত্রিকাটির প্রকাশনা বাতিল সরকারের চরম হিংসা চরিতার্থ করার বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, সরকারের অগণতান্ত্রিক, গণবিরোধী কর্মকাণ্ড, চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থ পাচার, চরম দলীয়করণ, নির্বাচনের নামে প্রহসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসম চুক্তি, বিরোধী দলের ওপর দমন-নিপীড়ন, হত্যা, গুম, খুন, প্রহসনের সত্য সংবাদ দ্বিধাহীনভাবে প্রকাশ করায় দৈনিক দিনকাল সরকারের চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।’

ফখরুল বলেন, ‘লাখ লাখ মানুষের কণ্ঠস্বর দৈনিক দিনকাল বন্ধের কারণে পত্রিকাটিতে কর্মরত শত শত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সরকারের নির্দেশে জেলা প্রশাসক পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিল করেছেন এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলও পত্রিকাটির আপিল খারিজ করে দিয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত। মাত্র কয়েকদিন আগেই ১৯১টি অনলাইন বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তথ্যমন্ত্রী ভোটারবিহীন সরকারের সংসদে কদিন আগে বক্তব্য দিয়েছেন-গত মাসে ১০০টি পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়েছে এবং আরও শতাধিক বাতিল করা হতে পারে। এরই মধ্যে আজ বিরোধী দলের মুখপত্র দৈনিক দিনকাল পত্রিকা বন্ধ করা তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেরই প্রতিফলন।’

মহাসচিব আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত করা হয়। ১৯৭৫ সালের আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি পত্রিকা ছাড়া বাকি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমান নিশিরাতের আওয়ামী সরকার তাদের প্রকৃত দর্শন একদলীয় ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন করছে নতুন আঙ্গিকে। সে কারণে তারা সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের ওপর অব্যাহত জুলুম চালাচ্ছে এবং হুমকির সর্বগ্রাসী কর্তৃত্ব কায়েম করছে। বর্তমান দুঃসময়ে সব গণমাধ্যমের কর্মীদের শঙ্কা ও ভয়ের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের চরমভাবে নিগৃহীত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের সমালোচনা করায় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন। আমি দৈনিক দিনকাল পত্রিকা বন্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন ও মুদ্রণের ঘোষণাপত্র বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানচ্ছি।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ