৪ মার্চ পরবর্তী কর্মসূচি : তৃণমূল শক্তিশালী করতে আজ থেকে বিএনপির বৈঠক শুরু - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:২৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

৪ মার্চ পরবর্তী কর্মসূচি : তৃণমূল শক্তিশালী করতে আজ থেকে বিএনপির বৈঠক শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৩ ৩:৪৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৩ ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

সরকার পতনের ১০ দফা দাবিতে গত ডিসেম্বর মাস থেকে রাজপথে গড়ানো যুগপৎ আন্দোলন এগোচ্ছে টানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলো প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচির পর আবারো নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে। জানা গেছে, ৪ মার্চ নতুন কর্মসূচির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই কর্মসূচিও হবে জনসম্পৃক্ততামূলক। এ দিকে সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন আরো বেগবান করতে দল সমর্থিত প্রায় আড়াই হাজার সাবেক ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের সাথে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার রংপুর বিভাগের জনপ্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলীয় ফোরামে আলোচনা থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রমজানের আগে বড় কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি। চলমান যুগপৎ আন্দোলন আরো বেগবান করতে রমজানের আগে একটি বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা ছিল দলটির। কিন্তু নতুন করে মামলা-হামলা-গ্রেফতারের শঙ্কাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রমজান পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সময়ে যুগপৎ আন্দোলনের পাশাপাশি ইস্যুভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করবে বিএনপি। সাধারণত রমজানে ইফতার ছাড়া অন্য কর্মসূচি না থাকলেও এবার পুরো রমজানেই মাঠের কর্মসূচিতে থাকবে দলটি। এ ছাড়া এই সময়ে মাঠের কর্মসূচির পাশাপাশি চলমান আন্দোলন বেগবান করার কৌশল নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথেও পর্যায়ক্রমে বৈঠক করবে বিএনপির হাইকমান্ড। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটাতে কঠিন শর্তে আইএমএফের ঋণগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়। শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ তখন বলেন, রমজানের আগে অথবা রমজান মাসে সরকার আরো সঙ্কটে পড়তে পারে। এমন অবস্থায় বিএনপির পক্ষ থেকে গতানুগতিক কর্মসূচির বাইরে গিয়ে একটা বড় কর্মসূচি দেয়া উচিত। ওই মিটিংয়ে এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণও করা হয়। কিন্তু স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে ওই বিষয়টি গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। নেতারা অভিমত দেন, সে রকম বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া ওই ধরনের কর্মসূচি দিলে নেতারা নতুন করে মামলা-হামলা-গ্রেফতারের শিকার হবেন।

এতে তারা পরিবারের সদস্যদের সাথে রমজান এবং ঈদ উদযাপন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। ফলে ওই প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। তারা রমজানের আগে স্বাভাবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। সর্বশেষ গত সোমবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে ইউনিয়ন, মহানগর, জেলা পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচির পর মহানগরের থানা ও ওয়ার্ডে কর্মসূচি দেয়ার প্রস্তাব দেন নেতারা।

এ ছাড়া গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের মিটিংয়েও নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রমজানের আগে কঠোর কর্মসূচির পরিবর্তে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন তারা। বৈঠকে সাংগঠনিক সম্পাদকরা বলেন, রমজানের পরে যাতে বড় কর্মসূচির প্রস্তুতি নেয়া যায় সেজন্য রমজান মাসকে সাংগঠনিক মাস হিসেবে নিতে হবে। তবে রমজানে ইফতার রাজনীতির পাশাপাশি কর্মসূচিও চালিয়ে যেতে হবে। কোনোক্রমেই রাজপথ ছাড়া যাবে না।

জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি পালিত হবে আগামী ৪ মার্চ। তবে কী কর্মসূচি আসবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কর্মসূচি হিসেবে মহানগরের থানা ও ওয়ার্ডে পদযাত্রার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। শরিক দলগুলোর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে শিগগিরই তা চূড়ান্ত করবে বিএনপি। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জেলার পদযাত্রা থেকে নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জনপ্রতিনিধিদের সাথে আজ থেকে বৈঠক : চলমান আন্দোলন আরো বেগবান করতে দল সমর্থিত প্রায় আড়াই হাজার সাবেক ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের সাথে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করবে বিএনপি। আজ রংপুর বিভাগের জনপ্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রস্তাবিত রুটিন অনুযায়ী গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আগামী ১৬ মার্চ পর্যন্ত বিভাগভিত্তিক এসব বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি বৈঠকে ২৫০ জনপ্রতিনিধির সাথে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। এসব জনপ্রতিনিধি দলের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির বর্তমান কিংবা সাবেক সদস্য অথবা কর্মকর্তা। আন্দোলন ও জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তাদের দলে সক্রিয় এবং সম্পৃক্ত করতে চায় বিএনপি।

সম্প্রতি সাবেক ছাত্রনেতাদের তত্ত্বাবধানে ১৯৯১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দলের সমর্থনে বিজয়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ সাবেক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের চার হাজার জনের একটি তালিকা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে বৈঠক করবে দলের হাইকমান্ড। বাকি জনপ্রতিনিধিদের সাথেও পরে মতবিনিময় করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ