ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্যাতিতা ছাত্রীকে সাদ্দামের স্যালুট - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্যাতিতা ছাত্রীকে সাদ্দামের স্যালুট

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৩ ৫:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৩ ৫:০৯ অপরাহ্ণ

 

সম্প্রতি কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রলীগ নেত্রী দ্বারা নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর প্রতিবাদের মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তিনি ওই ছাত্রীকে ‘স্যালুট’ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের সেই ছাত্রীর মতো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন পূর্ববর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দুপুর ১২টায় মধুর ক্যান্টিন থেকে পথযাত্রা শুরু করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ, টিএসসিতে ক্যাম্পেইনসহ নানাবিধ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ ‘অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট র‌্যাগিং অ্যান্ড সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট ইন ক্যাম্পাস’ শেষ করেন।

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকে স্যালুট জানাই। তিনি সাহসিকতা দেখিয়েছেন, ন্যায়বিচারের জন্য লড়েছেন৷ এটা সবার জন্য অনুপ্রেরণা। তাই আমি প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ফুলপরীর মতো হওয়ার আহ্বান করবো।’ তবে ভিকটিম ব্লেমিংয়ের ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

র‌্যাগিং সম্পর্কে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কাছে একটা পরিষ্কার বার্তা দিতে চাই। তা হলো, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতি আদর্শিকভাবে উদ্বুদ্ধ হওয়ার রাজনীতি, এটা আলোকিত প্রজন্ম গড়ার রাজনীতি। এখানে অর্থ-বিত্তের জন্য অথবা আধিপত্য দেখানোর জন্য রাজনীতি নয়, পেশীশক্তি প্রদর্শনের জন্য রাজনীতি নয়, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করার জন্য রাজনীতি নয়। আমরা রাজনীতি করি ছাত্রসমাজের জন্য। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন, তার স্বপ্নের সমান যেন আমরা বড় হতে পারি, আমরা তার হাতে গড়া স্মার্ট জেনারেশন, আমরা যেন স্মার্ট ছাত্র রাজনীতি উপহার দিতে পারি, সেটিই আমাদের চেষ্টা থাকবে। তাই যারাই এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে, শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে, ছাত্র রাজনীতির জন্য তাদের কোনো দরজা খোলা আছে বলে আমরা মনে করি না।’

এসময় ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের যারা কর্মী রয়েছেন তাদের কাছে আমরা বার্তা দিয়েছি। আমরা জানিয়েছি, হ্যারাসমেন্টের বিরুদ্ধে, র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেবে না এবং জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এন্টি হ্যারেজম্যান্ট সেল বা এন্টি র‌্যাগিং সেল গঠন করার যে নির্দেশনা রয়েছে তা যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকরে তার আহ্বান জানাই এবং অন্যান্য আইন অনুযায়ী যেসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তারা যেন তা করে।’

ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন। সেখানে স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট ক্যাম্পাস– স্মার্ট ছাত্রলীগ গড়বার প্রত্যয়ে আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো নীতিমালা গ্রহণ করেছি। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার।’

সৈকত বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হলো একটি মুক্তচিন্তা চর্চার কেন্দ্র। এখানে এসে একজন শিক্ষার্থী তার নিজের শিক্ষা দিয়ে, নিজের বিবেচনা বোধ দিয়ে, নিজের মনন দিয়ে নিজেকে তৈরি করে নেবে। ফলে এক শিক্ষার্থী আত্মমর্যাদায় বিশ্বাসী হবে। আর তার আত্মমর্যাদা যেন ক্ষুণ্ন না হয় সে জন্য ছাত্রলীগ কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা কিছু নীতি প্রণয়ন করেছি এবং আমরা সামনে আরও কাজ করবো।’

অভিভাবকরা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করানোতে অনাগ্রহ দেখানোসংক্রান্ত এক প্রশ্নে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ থেকে বলতে চাই, আপনারা আসুন, আপনার সন্তানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপদ করতে ছাত্রলীগ কাজ করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত সাত কলেজের ক্ষেত্রেও একই বার্তা দিতে চাই।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ