নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা অর্জনের চেষ্টায় কতটুকু সফল ইসি - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা অর্জনের চেষ্টায় কতটুকু সফল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৩ ২:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৩ ২:২২ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

নানা আলোচনা আর সমালোচনার মধ্য দিয়ে এক বছর পার করেছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর অনাস্থার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক বছর নানাভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের অবিরাম চেষ্টা, বিতর্কিত নির্বাচন বাতিল ও দোষীদের শাস্তি প্রদান এবং বিভিন্ন সময় বক্তৃতা-বিবৃতিতে নিরপেক্ষ বচনের পরও কমিশনকে মেনে নিতে পারেনি সরকারবিরোধী দলগুলো। কমিশনের পদত্যাগ দাবিতে এখনো মাঠে রয়েছে তারা। আবার কোনো কোনো সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষমতাসীনদেরও সমালোচনার তীর বিদ্ধ করেছে কমিশনকে। সব মিলিয়ে এই এক বছরে কতটুকু আস্থা অর্জন করেছে ইসি?

দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরপূর্তি উপলক্ষে গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান নিজেদের মূল্যায়ন করে বলেছেন, ‘কত সময় পার হলো, প্রথম বছর গেল কিংবা শেষ বছর এলো—এটি আমার কাছে মুখ্য নয়। সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছি; এটা করেই যাব। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সবগুলো নির্বাচন সততার সঙ্গে আন্তরিকভাবে করেছি। আমাদের কাজের মূল্যায়ন সময়ই করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কঠোর বার্তা দিতে পেরেছি নির্বাচন ব্যবস্থাপনায়; গাইবান্ধা উপনির্বাচন অনিয়মের কারণে বন্ধ করে দিয়েছিলাম। সিটি নির্বাচনগুলো সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। ভোটারদের আস্থা ফিরছে। সামনেও নির্বাচন রয়েছে। সংসদ নির্বাচনেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে সুন্দর নির্বাচনের। প্রতিটি নির্বাচনে আমাদের কঠোর মনোভাব, স্বচ্ছতা ও সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি ছিল না, আগামীতেও থাকবে না।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর পরপর দুটি আলোচিত-সমালোচিত জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে এক ধরনের আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়। ওই সংকটময় পরিস্থিতিতে গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন, যে নির্বাচন কমিশনের অধীনেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দলগুলোর আস্থা অর্জনের বিরামহীন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান কমিশন। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনীতির দ্বিধাবিভক্তির ফাঁদে পড়ে তারা কতটুকু সফল তা এখনই বলা কঠিন। কারণ, বারবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বানের পরও এই কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে রয়েছে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী সমমনা দলগুলো।

গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন আলোচিত-সমালোচিত কেএম নূরুল হুদা কমিশন। নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্যসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থাহীনতার সংকটে পড়ে নূরুল হুদা কমিশন। পুরোনো ভোটারদের স্মার্টকার্ড দিতে না পারা, এনআইডি অনুবিভাগ নিজেদের কাছে রাখতে জোরালো ভূমিকা না রাখা, ইভিএমে ভোটগ্রহণ, ভোটে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নগ্ন হস্তক্ষেপ, সরকারদলীয় প্রার্থীদের একক প্রভাব, ভোটারদের অনীহা, বিনা ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া, কেন্দ্রে সহিংসতার পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানি রুখতে না পারার বিগত ১০ বছরের ব্যর্থতা আসে ইসির ঘাড়ে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় কাজী রকিবউদ্দিন কমিশন ও সর্বশেষ কে এম নূরুল হুদা কমিশনের রেখে যাওয়া সংকট নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশনকে। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় আনতে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে বর্তমান কমিশনকে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুতেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করে বর্তমান কমিশন। সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হাবিবুল আউয়াল সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘সমঝোতা জরুরি’ বলে মন্তব্য করেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বেশিরভাগ দল সেই সংলাপ বর্জন করে কমিশনের প্রতি শুরুতেই অনাস্থা প্রদর্শন করে। তবে ওই সংলাপের পর দলগুলোর মতামতকে পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বর্তমান কমিশনের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রভাবশালী এমপি আ ক ম বাহারকে এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয় কমিশন। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে পিছু হটতে বাধ্য হয় তারা। পরবর্তী সময়ে ‘বাহার অস্বস্তি’ এবং ফলাফল ঘোষণায় তুঘলকি কাণ্ড নিয়েই কুমিল্লা সিটির ভোট সম্পন্ন করে ইসি। গত ১৩ সেপ্টেম্বর আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে আউয়াল কমিশন। বিরোধীরা সেটিও প্রত্যাখ্যান করে। নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণ করতে অনিয়মের অভিযোগ এনে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন বন্ধ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা, এডিসি, পুলিশের কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ মোট ১৩৪ জনকে শাস্তির আওতায় আনতে সুপারিশ করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি, যা বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিরোধীদের নির্বাচনে আনতে বিভিন্ন সময়ে সরকারের সমালোচনায় মুখর হোন বর্তমান কমিশন। বিরোধীদের ছাড়া নির্বাচনে বিতর্ক রয়েই যাবে বলে মত তাদের। গত ৮ অক্টোবর ৬৪ জেলা

ডিসি-এসপিদের নিয়ে ইসির মতবিনিময় সভায় কমিশনার আনিছুর রহমান ডিসি-এসপিদের নখদন্তহীন বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন, যা নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ শুরু হয়। আরপিও ইস্যুতে আইন মন্ত্রণালয়কে আলটিমেটাম দিয়ে কমিশনের কোমর সোজা প্রমাণের চেষ্টা করে ইসি। সেই চেষ্টা এখনো অবিরাম চলছে। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের ভূমিকা আরও পর্যবেক্ষণে রেখেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ