পঞ্চগড়ে সংঘর্ষ: ছয় মামলার আসামি ৮২০০, গ্রেফতার ৮১
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, মার্চ ৬, ২০২৩ ৩:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, মার্চ ৬, ২০২৩ ৩:০০ অপরাহ্ণ

পঞ্চগড়ে শুক্রবার (৩ মার্চ) আহমদিয়া সম্প্রদায়ের (কাদিয়ানি) ‘সালানা জলসা’ অনুষ্ঠানে পুলিশ ও মুসলিম ভক্তদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৮১ জনকে। এরই মধ্যে পঞ্চগড় সদর থানায় পুলিশ চারটি, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) দুটি এবং আহমদিয়া মুসলিম জামায়াত আরেকটি মামলা করে।
পুলিশ জানায়, গুজব ছড়ানো, হামলা, ভাঙ্চুর, লুটপাট ও সরকারি কাজে বাধা দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৩১ জনের নাম ও অজ্ঞাতনামা ৮ হাজার ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে রাজনগর এলাকার ফজলে রাব্বি (২৮) ও তেঁতুলিয়া উপজেলার সাতমেরা এলাকার রাব্বি ইমনকে (২৬) আটক করা হয়।
আহমদিয়া মুসলিম জামায়াতের ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান হত্যার ঘটনায় পঞ্চগড় পৌরসভার রাজনগড় এলাকার ইসমাইল হোসেন ঝানু (২৫) ও পৌরসভার তুলারডাঙ্গা এলাকার রাসেল হোসেনকে(২৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশ ও র্যাবের দায়ের করা মামলায় ৭৭ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার বিবরণী অনুযায়ী, র্যাব-১৩-এর পক্ষে উপ-পরিদর্শক মাসুদ রানা, সাইদুর রহমান, শামসুজ্জোহা সরকার, আলতাফ হোসেন ও ডিএডি আবদুস সামাদ বাদী হয়ে গত ৪ মার্চ রাতে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলাগুলো করেন। প্রকৌশলী জাহিদ হাসানের বাবা ওসমান আলী আহমদিয়া মুসলিম জামাতের পক্ষে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় কারও নাম না থাকলেও অজ্ঞাতনামা ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জাহিদ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও র্যাবের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এসপি বলেন, ‘আমরা ঘটনার তদন্ত করছি এবং জড়িতদের গ্রেফতার করছি। হামলাকারী যেই হোক না কেন, তাদের রেহাই দেয়া হবে না। অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।’
এর আগে, শুক্রবার পঞ্চগড় জেলা শহরে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে মুসলিম ভক্তদের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়। পরে শনিবার একটি স্বার্থান্বেষী মহল জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ায় যে, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের (কাদিয়ানি) কয়েকজন সদস্য দুই মুসলমানকে গলা কেটে হত্যা করেছে।
গুজবের পর, লাঠি ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত কিছু যুবক রাস্তা অবরোধ করে, অগ্নিসংযোগ করে এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের দোকান ও বাড়িঘর লুট করে।
জনতার আওয়াজ/আ আ