আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পেশাজীবীরা সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মার্চ ১১, ২০২৩ ৭:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মার্চ ১১, ২০২৩ ৭:০০ অপরাহ্ণ

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পেশাজীবীরা সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, ভিন্নমতের হাজার হাজার পেশাজীবীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দলীয় বিবেচনায় যোগ্য অফিসারদের পদোন্নতি আটকিয়ে রাখা হয়েছে। বহু পেশাজীবীকে গুম-খুন করা হয়েছে। শুধু এ সরকারের আমলে ৫৪ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। মামলা দিয়ে পেশাজীবীদের ঘরছাড়া, বাড়িছাড়া করা হয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীতে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। ১০ দফা দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মতিঝিলের নটর ডেম কলেজের সামনে পেশাজীবীরা এই মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম, অ্যাব সভাপতি কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. সাহিদুর রহমান, অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. মেহেদি হাসান, অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার একেএম জহিরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান চুন্নু, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হানিফ, ইঞ্জিনিয়ার আইনুল কবির, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম রহমান রাজিব, ইঞ্জিনিয়ার নাহিদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার রাকিবুল ইসলাম রকি, সাংবাদিক সাখাওয়াত ইবনে মঈন চৌধুরী, এস এম রিয়েল রোমান, জেটেব সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফখরুল আলম, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ডিএ্যাব সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাইফুজ্জামান সান্টু, ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত, ইঞ্জিনিয়ার এবিএম রুহুল আমিন আকন্দ, মেডিকেল টেকনোলজি অ্যাসোসিয়েশন-অ্যামট্যাবের হাফিজুর রহমান, বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, কৃষিবিদ নুরুন্নবী ভূইয়া শ্যামল, কৃষিবিদ ড. শফিকুল ইসলাম শফিক, কৃষিবিদ ড. আমিনুজ্জামান রিপন, কৃষিবিদ মো. আব্দুর রাকীব প্রমুখ অংশ নেন।
কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বহু অপেক্ষা করেছি। এ সরকার দিন দিন হিংস্র থেকে হিংস্রতর হচ্ছে। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই আর বসে থাকলে চলবে না। পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শামিল হতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পেশাজীবী-বুদ্ধিজীবীকে ইস্পাত-দৃঢ় ঐক্য নিয়ে রাজপথে থাকতে হবে।’
অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, সরকার ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সব অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। জনগণ আজ ভোট দিতে পারে না, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত। এভাবে দেশ চলতে পারে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার নিশ্চিত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আদায়ের দাবিতে জনগণ ঐক্যবদ্ধ। পেশাজীবীদেরও জনতার কাতারে গিয়ে শামিল হতে হবে। পেশাজীবী-জনতা একতা গড়ে তুলে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে।
অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, দেশে মানুষের জান, মাল, ইজ্জতের নিরাপত্তা নেই। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই। দেশ মনুষ্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একদিকে মানুষ না খেয়ে মরছে, অন্যদিকে সরকারের লোকেরা দুর্নীতি ও লুটের টাকা দিয়ে বিদেশে সেকেন্ড হোম কিনছে। এমনি পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গাজীপুরে মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ