নির্বাচনী ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকানো হয়েছে সুপ্রীম কোর্টে: ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৩৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নির্বাচনী ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকানো হয়েছে সুপ্রীম কোর্টে: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ১৭, ২০২৩ ৩:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ১৭, ২০২৩ ৩:১৬ অপরাহ্ণ

 

দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকানো হয়েছে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতিতে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘গত ১৫ ও ১৬ মার্চ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। এ নির্বাচনকে ঘিরে বিজ্ঞ আইনজীবীদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষেরও ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কিন্তু আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে লক্ষ্য করেছি যে, দেশের অন্য সকল নির্বাচনের মতো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সমিতির নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের যে রাজনৈতিক চরিত্র তার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আইনগতভাবে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও নির্বাচনের নাটক সাজিয়ে একতরফাভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অবৈধভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।’

শুক্রবার (১৭ মার্চ) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও তাদের ছত্র-ছায়ায় দেশের কোথাও কোন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, জনগণের ভোটারাধিকারে বিশ্বাসী নয়, বিগত ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নির্বাচনে ইতোপূর্বে বার-বার প্রমানিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রমান সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এর আগে ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনেও একই ধরনের প্রহসনের নির্বাচন করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, দেশের সাধারণ মানুষের আইনের আশ্রয় নেওয়ার শেষ ভরসাস্থল, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীদের সমিতিতে তারা নগ্ন হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে, এই সমিতি নির্বাচনের জন্য বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সমিতির কার্যকরী কমিটির সভাপতি ও অবৈধ সম্পাদক, যে গতবছর সমিতির নির্বাচিত সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)-কে নির্বাচিত হওয়ার ৪২ দিন পর পুলিশ ও বহিরাগতদের সহায়তায় সম্পাদকের দপ্তর জবর-দখল করে নেয়, ভোট কারচুপির মাধ্যমে একতরফাভাবে বিজয়ী হওয়ার জন্য প্রথমে একতরফা ভাবে একটি তল্পীবাহক নির্বাচন সাব-কমিটি গঠন করে। অথচ সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক কার্যকরি কমিটির সংখ্যাগরিষ্টের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন সাব-কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান কার্যকরি কমিটিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিতরা সংখ্যাগরিষ্ট। এক পর্যায়ে সাধারণ আইনজীবীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ইতোপুর্বে দলীয় অনুগত নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ককে পরিবর্তন করে সর্বসম্মতিক্রমে সাবেক বিচারপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মো. মুনসুরুল হক চৌধুরীকে আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়। যদিও তিনি একজন আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন তথাপিও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সদস্যরা তার প্রতি আস্থা স্থাপন করেছিলেন। তিনি একজন সৎ, সজ্জন ও দৃঢ়চেতা মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নও করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের দুইদিন আগে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সভাপতি ও সম্পাদক পদপ্রার্থী তাকে দিয়ে তাদের অনৈতিক ভোট ডাকাতির নির্বাচনে সম্মত করতে না পারলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং তাদের একান্ত অনুগত একজন দলীয় আইনজীবীকে দিয়ে নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্ত করার আয়োজন করে। নির্বাচন শুরুর পুর্বের দিন রাতের আধারে করার সময় সেই আহ্বায়ক দাবীদার সাধারণ আইনজীবীদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচন সাব-কমিটি পুনর্গঠন না করা পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান না করার জন্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীরা যখন দাবী জানান তখনই আওয়ামী সমর্থিত সভাপতি শতশত পুলিশ নিয়ে গত ১৫ মার্চ, ২০২৩ সমিতির অডিটরিয়ামে প্রবেশ করে এক নারকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। তারা আইনজীবীদের উপর আক্রমন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের জোর পূর্বক বের করে দেয়। পুলিশি আক্রমনে সমিতির সভাপতি পদপ্রার্থী ও সমিতির সাবেক সাত বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ, এম, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সমিতির তিনবারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মোঃ রুহুল কুদ্দুস (কাজল) সহ শতাধিক আইনজীবী আহত হন। নারী আইনজীবারাও পুলিশি আক্রমন ও নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। পেশাগত দায়িত্ব পালনরত বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে বেদম প্রহার করে গুরুতর আহত করা হয়। উল্টো ঐক্য প্যানেলের সভাপতি ও সম্পাদক পদপ্রার্থী, বর্তমান কার্যকরী কমিটির ৬ জন সদস্য, সর্বসম্মত নির্বাচন সাব-কমিটির দু’জন সদস্যসহ ১২ জন বিজ্ঞ আইনজীবীর বিরুদ্ধে দু’টি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজন আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসবই তাদের ফ্যাসিষ্ট চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আওয়ামী আইনজীবী ও পুলিশী তান্ডবে পরবর্তীতে আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে। এটা শুধুমাত্র আইনজীবী সমাজেরই নয়, পুরো জাতীর জন্যই কলঙ্কজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সভাপতি ও সম্পাদক প্রার্থী ও সমিতির সাবেক দুইজন সভাপতি জনাব এ, জে, মোহাম্মদ আলী, জনাব জয়নুল আবেদীন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা (বাদল) নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম থেকেই মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়কে সকল ঘটনা অবহিত করে এসেছেন। এমনকি ১৫ মার্চ, গুরুতর আহত সাংবাদিকরাও প্রধান বিচারপতির কাছেও পুলিশী নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে প্রতিকার প্রার্থনা করেছেন। এতদস্বত্ত্বেও একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয়নি। এ থেকেই প্রমানিত হয় রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ আজ এমন একটি দেউলিয়া দলে পরিণত হয়েছে যে, আইনজীবীদের একটি সমিতির নির্বাচনেও পুলিশ ও বহিরাগতদেরকে ব্যবহার করে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করতে হয়। এটা বড় লজ্জার বিষয়। সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট ডাকাতিতে সিদ্ধ্যহস্ত আওয়ামীলীগের মুখোশ আরেকবার উন্মোচিত হল।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ