বগুড়ায় করতোয়া ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করায় কারাদন্ড - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:০৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বগুড়ায় করতোয়া ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করায় কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ২১, ২০২৩ ৩:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ২১, ২০২৩ ৩:১২ অপরাহ্ণ

 

বগুড়ায় করতোয়া নদীর একাংশে নওদাপাড়া এলাকায় মাটি ভরাট করে রাস্তা তৈরি করার অভিযোগে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) কে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২০ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে নদীর সীমানা পরিমাপ করতে যায়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজা পারভীন জরিমানার এ আদেশ দেন।

জরিমানা পরিশোধ না করায় টিএমএসএসের মালিকানাধীন মম ইন ইকোপার্কের ব্যবস্থাপক জাকিরুল ইসলাম জাকিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ জাহাঙ্গীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, উপজেলা এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ ছিলো আগে থেকেই। ইতোপূর্বে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে একাধিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বগুড়ায় ৩৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করতোয়া নদী দখল করে বাড়ি, অত্যাধুনিক সপিংমল, বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে বলে সভায় আলোচনাও হয়েছে। পরে কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম। যে জায়গা ভরাট করা হচ্ছে সেটি তার নিজের জায়গা বলে দাবী করেন। পরে হোসনে আরা বেগমের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজা পারভীন বলেন, শনিবার করতোয়া নদী ভরাটের অভিযোগে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তখন নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি।

শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তারা টিএমএসএসের জন্য কাজ করছেন। সোমবার (২০ মার্চ) করতোয়া নদী পরিমাপের সীমানা নির্ধারণের দিন ছিল। পরিমাপে দেখা যায়, করতোয়ার মাঝ দিয়ে বালু দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন ‘এর আগে এসে দেখেছিলাম টিএমএসএসের অংশে ময়লা ও বালু ফেলা হচ্ছিল; আমি সেই কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। তারা কাজ বন্ধ রাখার অঙ্গিকার করেছিলেন। কিন্তু ২০ মার্চ (সোমবার)ও সেই কাজ চলমান দেখা গেছে। এজন্য পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ১৫ ধারা অনুযায়ী টিএমএসএসকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ইউএনও ফিরোজা পারভীন আরও বলেন, টিএমএসএস জরিমানার টাকা পরিশোধ করবে না। তাই কারাদন্ড বহাল রাখা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত রায় দেওয়ার পরপরই সেখানে থাকা টিএমএমএসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাতে আপত্তি তুলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় পরিবর্তনের কথা বলতে থাকেন টিএমএমএস‘র কর্মকর্তারা। নদী ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এজন্য টিএমএসএসকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা প্রদানে ব্যর্থ হলে টিএমএসএসের পক্ষে একজন তিন মাসের কারাভোগ করবেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, নদীর ওপর যে রাস্তা করা হয়েছে তা সাময়িক, যা এ অঞ্চলের মানুষ যাতায়াতের জন্য নির্মাণ করেছেন। এরসঙ্গে টিএমএসএসের কোনো স¤পৃক্ততা নেই। ফলে এ রায় টিএমএসএসের জন্য হতে পারে না। এজন্য রায় স্থগিত রাখার জন্য ইউএনওকে অনুরোধ করা হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ