ভারতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ৪, ২০২৩ ৬:৪১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ৪, ২০২৩ ৬:৪১ অপরাহ্ণ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে অনুপ্রবেশ মামলায় দেশটির একটি আদালত থেকে গত ১ মার্চ বেকসুর খালাস পান। তবে তাকে দেশে ফেরত আনা কিংবা ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে দাবি দলটির। দেশে ফিরতে উদগ্রীব সালাহউদ্দিন আহমেদ এখন ভারত সরকারের পদক্ষেপের অপেক্ষায়। তবে এখনো দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেননি। পরিস্থিতি বুঝে যোগাযোগ করবেন বলে জানান বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সাবেক এ যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সোমবার কালবেলাকে বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশটির একটি আদালত থেকে সম্প্রতি বেকসুর খালাস পান। এরপর তাকে মুক্ত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছি। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারকেও আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই।
সালাহউদ্দিনকে দেশে ফেরত আনতে বিএনপি সরকারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তো সরকারকে বলেছি, অনুরোধ জানিয়েছি।’
বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরা থেকে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তখন তিনি যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিখোঁজের ৬৩ দিন পর ওই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ের পুলিশ উদ্ভ্রান্ত অবস্থায় সালাহউদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ভারতে প্রবেশ করলেও তার কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখায়। সেই মামলায় ২০১৫ সালের ২২ জুলাই শিলংয়ের আদালতে তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের দায়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত সালাহউদ্দিন আহমেদকে খালাস দেন। কিন্তু রাজ্য সরকার আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করায় তার দেশে ফেরা হয়নি। এরপর গত ১ মার্চ শিলং জজ আদালতের আপিল বিভাগ রাজ্য সরকারের ওই আপিল আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতের রায়ে তাকে বেকসুর খালাস দিয়ে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করার নির্দেশনাও দেন আদালত।
সালাহউদ্দিন আহমেদ ইস্যুতে গত ৯ মার্চ ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি। সালাহউদ্দিনকে মুক্ত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তাকে বিনা কারণে অন্যায়ভাবে দীর্ঘ ৮ বছর ভারতের কারাগারে এবং নজরবন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। এখন তাকে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন। অবিলম্বে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সরকারের।’ এ সময় ভারতের আদালতের রায় ও নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের এক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদকে অবিলম্বে সসম্মানে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
এরপর ১০ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বিদেশের কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের ফেরানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকেও ফিরতে হবে সেই প্রক্রিয়ায়। এটা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই। বিদেশে বাংলাদেশের কেউ জেল খাটলে, সাজাভোগ করে দেশে ফিরে আসেন। সালাহউদ্দিন আহমেদও আসবেন। এটা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।
শিলং জজ আদালতের আপিল বিভাগের ওই রায়ের পর দেশে ফেরার বিষয়ে অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গত রোববার সালাহউদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘একটাই অগ্রগতি। মেঘালয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদন দিয়ে পরবর্তী কাজ সম্পাদনের জন্য কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এটাই নাকি নিয়ম। মন্ত্রণালয়ের বাকি কী কাজ, সেটা জানি না। বিদেশ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে ওরা বাকি কাজ করবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দিল্লির দূতাবাসের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করিনি। যদি সে রকম অবস্থা হয় কিংবা আমাকে জানানো হয়, তাহলে করব।’ দেশে ফিরতে এখন ভারত সরকারের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন কি না—জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘কোর্টের অর্ডার ওই রকম। এখন অপেক্ষায় আছি।’
এদিকে সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে অবস্থান করলেও দুই মাস ধরে সেখান থেকেই ভার্চুয়ালি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় যোগ দিচ্ছেন এবং সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিচ্ছেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ