রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটের পাশাপাশি জমে উঠেছে ফুটপাতের মা‌র্কেটও - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৫৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটের পাশাপাশি জমে উঠেছে ফুটপাতের মা‌র্কেটও

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৩ ৪:৩০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৩ ৪:৩০ অপরাহ্ণ

 

আর মাত্র দুইতিনদিন পরই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটের পাশাপাশি জমে উঠেছে ফুটপাতের মা‌র্কেটও। ক্রেতাদের ভিড়ে যেন দম ফেলারও জায়গা পাচ্ছেন না ফুটপাতের দোকানিরা।

সরেজমিনে গু‌লিস্তান, জুরাইন, শ‌নিরআখড়া জিয়া সর‌ণির রো‌ডের ফুটপা‌তের মা‌র্কেটগু‌লো ঘু‌রে দেখা গেছে, প্রচণ্ড গরম আর তীব্র রোদ উপেক্ষা করে দুপুর থেকেই ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেন ক্রেতারা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় বাড়তেই থাকে।

ক্রেতাদের অভিযোগ ফুটপাতের দোকানগুলোতে সব ধরনের পোশাকের দামই অনেক বেড়ে গেছে। আর খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বঙ্গবাজার ও নিউমার্কেটে আগুনের প্রভাব পড়েছে বাজারে। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের। প্রতিটি পোশাক ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের। তাই বেশি দামে বিক্রি ছাড়া উপায় নেই খুচরা ব্যবসায়ীদের।

গু‌লিস্তা‌নের বঙ্গবন্ধু এভি‌নিউ রো‌ডের ফুটপা‌তে মে‌য়ের জন‌্য জামা কিন‌ছেন সাইফুল না‌মের একজন তি‌নি একটা কোম্পা‌নি‌তে চাকরি ক‌রেন। তি‌নি জানান, এবার বঙ্গবাজার ও নিউমার্কেটে আগুনের কারণ দেখিয়ে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা।

গু‌লিস্তা‌নের ফুটপাত থে‌কে প‌্যান্ট কিন‌ছেন আশিক। তি‌নি ব‌লেন, ‘কয়েকদিন আগেও যে গেঞ্জি কিংবা শার্ট ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় কিনেছি। এবার সেটা ৪০০ টাকার কমে দিচ্ছে না। আগে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে জিন্সের প্যান্ট কিনতে পারতাম। এখন ৫০০ টাকার নিচে কোনো প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণত কমদামে কেনাকাটার আশায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে আসি। কিন্তু এবার দামের যে অবস্থা তাতে কেনাকাটা করা মুশ‌কিল হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে।’

গু‌লিস্তা‌নে ছোট বাচ্চার জামা বি‌ক্রি কর‌ছেন শা‌হিনুর। তি‌নি বলেন, ‘আমার কা‌ছে ‌ছোট বাচ্চার জামা ১ হাজার থে‌কে ২ হাজার টাকার ম‌ধ্যে আছে।’

দাম বেশি কেন জান‌তে চাই‌লে তি‌নি ব‌লেন, ‘আমা‌দের বেশি দা‌মে কিন‌তে হয় তাই বেশি দা‌মে বি‌ক্রি কর‌তে হয়। আমা‌দের যে খুব লাভ হয় তা না। লাভ আগের মতই। এমনিতেই সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। তার উপর বঙ্গবাজার আর নিউমার্কেটের আগুনের কথা বলে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন অসাধু অনেক ব্যবসায়ী।’ দি‌নে কত টাকার বি‌ক্রি হয় জান‌তে চাইলে তি‌নি ব‌লেন, ‘দি‌নে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বি‌ক্রি হয়।’

এ দি‌কে সন্ধ‌্যা নামলেই জ‌মে ওঠে শ‌নিরআখড়ার জিয়া সর‌ণির ফুটপা‌তের বাজার। সেখা‌নে ঘু‌রে দেখা গে‌ছে বেশিরভাগ ম‌হিলারা মা‌র্কেট কর‌ছে। ‌সেখা‌নে মা‌র্কেট কর‌তে আসা শার‌মিন বলেন, ‘এ বছর সব কিছুরই দাম বেশি কেনাকাটা করা যা‌চ্ছে না। তার ম‌ধ্যে দামদর করা যায় না। ম‌নে হ‌চ্ছে এক রে‌টের দোকা‌নে এসে‌ছি। যে জামা তিন থে‌কে চারশত ছি‌লো সেই জামা এখন ১ হাজার ক‌রে নি‌চ্ছে এ যেন ম‌গের মুল্লক। দেখার কেউ নাই।’

সেখা‌নে আব্বাস না‌মের এক দোকানী বলেন, ‘আর দুইতিনদিন প‌রেই ঈদ। তাই এখন বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু ভিড় থাকলেও বেচা-কেনা তেমন হচ্ছে না। দাম বেশি হওয়ায় বেশিরভাগ ক্রেতাই দরদাম শেষে না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।’

জুরাইন বিক্রমপুর প্লাজার সামনের ফুটপা‌তের বাজার ঘু‌রে একই অবস্থা দেখা গে‌ছে। মানু‌ষের পা ফেলার জায়গা নাই। ত‌বে বি‌ক্রেতারা বল‌ছে ভিড় প্রচুর কিন্তু বি‌ক্রি নাই। মানুষ এসে দাম ক‌রে চ‌লে যায়। এর কারণ জানতে চাই‌লে বি‌ক্রেতা হা‌সিনুর ব‌লেন, ‘মিথ‌্যা ব‌লে লাভ নাই জি‌নি‌সের দাম বেশি মানু‌ষের ক্রয় ক্ষমতার বা‌হি‌রে তাই হয় তো কি‌নে না।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ