পুত্রবধূ ও দুই নাতনির সঙ্গে ঈদ করবেন খালেদা জিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ২১, ২০২৩ ৫:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ২১, ২০২৩ ৫:১৫ অপরাহ্ণ

সরকারের নির্বাহী আদেশে সাময়িক কারামুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াএবার ছোট পুত্রবধূ ও দুই নাতনির সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। দাদির সঙ্গে ঈদ করতে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় আসেন তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুপুর পৌনে ২টায় তারা খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় যান। এর আগে গত ২১ মার্চ লন্ডন থেকে ঢাকায় আসেন কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। তিনি শাশুড়ির সঙ্গে ফিরোজাতেই থাকছেন। এ ছাড়া আত্মীয়স্বজনরা ঈদের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন।
জানা গেছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। বাসায় থেকেই তার স্বাস্থ্যের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে। অবশ্য পুত্রবধূ ও আদরের নাতনিদের কাছে পেয়ে মানসিকভাবে অনেকটা চাঙ্গা খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ম্যাডাম সব মিলে ভালো আছেন। ওষুধ দিয়ে ডায়াবেটিসসহ অন্য সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। তবে লিভারের সমস্যার তেমন উন্নতি হয়নি। আপাতত হাসপাতালে নেওয়া না হলেও এরই মধ্যে বাসায় স্বাস্থ্যের কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো—ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার অবনতিও নেই, আবার উন্নতিও নেই।
ঈদের দিন দুপুরে সাধারণত নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারেন খালেদা জিয়া। এবারও তার বোন সেলিমা ইসলাম, ভাই শামীম ইস্কান্দার ও পরিবারের সদস্য, আরেক ভাই প্রয়াত সাঈদ ইস্কান্দারের স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ফিরোজায় খালেদা জিয়ার কাছে আসবেন। তারা দুপুরে একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। এর আগে বেগম জিয়া লন্ডনে থাকা তার বড় ছেলে তারেক রহমান, বড় পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান ও নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে ফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ঈদের দিন দলীয় কোনো নেতার খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার কোনো কর্মসূচি নেই। তবে সন্ধ্যায় ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বেগম জিয়ার বাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে দুই নাতনি জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানের সঙ্গে ফিরোজায় কোরবানির ঈদ উদযাপন করেন খালেদা জিয়া। তবে কারাবন্দি অবস্থায় থাকা এবং দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে তার আগে কয়েক বছর তিনি ঈদ উদযাপন করতে পারেননি।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। পরে দেশে করোনা মহামারির মধ্যে পরিবারের আবেদনে সাজা স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তাকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। পরে কয়েক দফায় তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
কারাগার থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়া গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় ওঠেন, এখনো তিনি সেখানেই থাকছেন। তবে অসুস্থতার কারণে কয়েক দফা তাকে বসুন্ধরার এয়ারকেয়ার হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ৭৭ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। ২০২১ সালে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার ‘পরিপাকতন্ত্রে’ রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান চিকিৎসকরা।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তারা সেখানেই ঈদ করবেন। আর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢাকায় ঈদ করবেন। ঈদের পর তিনি নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন।
ঈদে নির্যাতিত নেতাদের পাশে বিএনপি : ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং জেলা নেতারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনে কারান্তরীণ নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। ঈদের দিন এবং পরবর্তী দুদিন এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের মাধ্যমে কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের পরিবারের নিকট ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন। এর আগে গত ১২ এপ্রিল থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা চলমান আন্দোলনে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারবর্গ এবং পঙ্গুত্ববরণকারী নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঈদ উপহারসহ নববর্ষ ও ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড হস্তান্তর করেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ