জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার আজকের প্রজন্মের সময়ের দাবি : শেখ পরশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৩ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৩ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার আজকের প্রজন্মের সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্ম খুনি জিয়ার মরণোত্তর বিচার চায়।
আজ শুক্রবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের দ্বিতীয় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামালের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান, দৈনিক কালবেলার প্রধান সম্পাদক আবেদ খানসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।
পরশ বলেন, জিয়াউর রহমান তো মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামাল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তার প্রমাণ পাওয়া যায় জিয়ার পরবর্তী কার্যকলাপের মধ্যেই। এই মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে সেনাবাহিনীর যে সদস্যরা হত্যা করেছিল তাদের সেনা আইনে বিচার না করে কেন জিয়ার অবৈধ সরকার খুনিদের পুরস্কৃত করে। সেই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার করা যাবে না বলে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করে জিয়াউর রহমানের পার্লামেন্ট। খুনিদের বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়, দুইজন খুনিকে জনগণের ভোট চুরি করে জাতীয় সংসদে সদস্যপদ দেওয়া হয়। এমনকি খুনিদের দিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ করে দেয়।
স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান, গণতন্ত্র এমনকি সেনা আইন কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চালু করেছিল জিয়াউর রহমান দাবি করে পরশ বলেন, শুধু তাই নয়, শেখ জামালসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের রক্তে রঞ্জিত এই জিয়াউর রহমানের হাত। সুতরাং জিয়াউর রহমানের বিএনপির নেতৃবৃন্দ যখন গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের কথা বলে, ওদের লজ্জা পাওয়া উচিত এবং এ দেশের মানুষের কাছে মাফ চাওয়া উচিত ওদের অন্যায় এবং জাতির সাথে প্রতারণা করার জন্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক খান বলেন, শেখ জামালের জন্মদিনে তাকে স্মরণ করায় যুবলীগকে ধন্যবাদ জানাই। একইসঙ্গে শুধু শেখ জামালের জন্মদিন পালন করলে হবে না, শেখ জামাল সম্পর্কে জানতে হবে, মানুষকে জানাতে হবে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশ গড়তে হলে ‘সোনার মানুষ চাই’, বাংলাদেশ যুবলীগে সেই মানুষ আছে, শেখ জামালের মতো সাহসী নেতৃত্ব আছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবেদ খান বলেন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে আমাকে যখন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় তখন থেকে আমরা দেখেছি কি অবস্থায় বাংলাদেশের রাজনীতি চলছে। খালেদা জিয়া, এরশাদ, তারেক রহমানরা এরা চলে যেতে পারে কিন্তু তাদের প্রেতাত্মারা রয়ে যাবে। বিভিন্নভাবে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে গ্রাস করার চেষ্টা করবে।
তিনি আরও বলেন, আজকের বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে ধারণ করেই। আর সেটাকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ষড়যন্ত্র থেমে যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্র হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে এত ষড়যন্ত্র কোথাও হয়নি। সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যেমন শক্তি আছে তেমনি আমাদের কিছু কিছু মিডিয়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বিভাজন করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে ইন্ধন দিচ্ছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ