জাপায় বিরোধ দানা বাঁধছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৩ ১০:১১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৩ ১০:১১ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচন যতই কাছাকাছি আসছে, জি এম কাদের ও রওশন এরশাদকে ঘিরে জাতীয় পার্টিতে (জাপা) অভ্যন্তরীণ বিরোধ ততই দানা বাঁধছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাপার ভেতরকার এই বিরোধ মূলত দলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই বিরোধের অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে দলের বাইরে থেকে। ফলে এই বিরোধ নিরসনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন দলটির নেতাদের অনেকে।
জাপার গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, দলের কর্তৃত্ব, কমিটি গঠন ও প্রার্থিতা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ সামনে আরও প্রকাশ্য হতে পারে। নেতা-কর্মীদের বড় অংশটি এখন পর্যন্ত দলীয় চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে থাকলেও একটা পক্ষ নির্বাচন সামনে রেখে জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদকে ঘিরে তৎপর রয়েছেন। আবার অনেকে দুই দিকেই সম্পর্ক রেখে চলছেন।
জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে কী করবে, সেটা এখনো বলার সময় হয়নি।
জাপার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের অনেকের মধ্যে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকতেই দলে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভক্তি যেভাবে জিইয়ে ছিল, সেটা আগামীতেও থাকবে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় জি এম কাদের কোনো কারণে সরকারবিরোধী অবস্থান নিলে, রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন অংশ পাল্টা অবস্থান নেবে। আর এ ক্ষেত্রে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ যে সরকারের সঙ্গেই থাকবেন, তা তিনি বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে বলেছেন।
দলটির নেতাদের অনেকে বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। ওই দুটি নির্বাচনে জাপাকে অংশ নিতে হয়েছিল সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে। আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ না নেয়, সে ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে জাপার গুরুত্ব বেড়ে যাবে।
জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হোক, তা কোনো সরকারই চায় না। কারণ, জাতীয় পার্টি দুর্বল হলেই তাদের লাভ। কিন্তু যারা নিজ দলকে দুর্বল করতে চক্রান্তের অংশ হচ্ছে, তারা না বুঝে করছে। শেষ পর্যন্ত তাদের অস্তিত্ব থাকবে না।
সে সম্ভাবনা সামনে রেখে জাপার সাবেক ও বর্তমান নেতাদের অনেকে সংসদ সদস্য হওয়ার আশায় এখন থেকেই রওশন এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। কারণ, সরকারের কাছে জি এম কাদেরের চেয়ে রওশন এরশাদ বেশি আস্থাভাজন বলে জাপার নেতাদের অনেকের ধারণা। সম্প্রতি দল পরিচালনা নিয়ে জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের যে পরিস্থিতির মধ্য পড়েছিলেন, তাতে দলের নেতাদের এই ধারণা আরও জোরদার হয়েছে।
জি এম কাদেরের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার পর তাঁর দল পরিচালনায় এখন সমস্যা না থাকলেও দলের ভেতরকার সংকট কাটেনি।
যদিও জাপার অন্যতম কো–চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি জাতীয় পার্টিতে কোনো দ্বন্দ্ব দেখেন না। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে হয়তো কথা আছে, সেটা দলে ভাঙন সৃষ্টি করতে পারবে না। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে কী করবে, সেটা এখনো বলার সময় হয়নি। তবে জাতীয় পার্টি যা–ই করবে, সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ