ব্রিটিশ বাংলা জার্নালিিষ্ট ইউনিয়নের উদ্যোগে মহান মে দিবস পালিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, মে ৪, ২০২৩ ৮:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, মে ৪, ২০২৩ ৮:১০ অপরাহ্ণ

ইয়াসমিন আক্তার
বিশেষ প্রতিনিধি-জনতার আওয়াজ,
লন্ডন
ইস্ট লন্ডন ৩ই মে ২০২৩ইং স্থানীয় ব্রিকলেনের একটি হলে ‘ব্রিটিশ বাংলা জার্নালিষ্ট ইউনিয়নে’র উদ্যোগে মহান মে বিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।আলহাজ্ব ছমির উদ্দিনের সভাপতিত্তে এবং ডা:গিয়াস উদ্দিনের আহমদের সঞ্চালনায় এ সভায় ‘বি বি জে ইউ’র নেতৃবৃন্দসহ আর এ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে ১৮৮৬ সালের ১লা মে আমেরিকার শিকাগো শহরে যারা জীবন দিয়েছেন তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে শ্বরন করা হয়। সে সাথে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমিকের অধিকার আদায়ের জন্য যারা প্রান দিয়েছেন,তাদের প্রতি ও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বক্তাগন বলেন ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে ১লা মে আমেরিকার শিকাগো শহরের দৈনিক আটঘণ্টার কাজের দাবিতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামার বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে।
ফলে অনেক শ্রমিক ও পুলিশ হতাহত হয়। ১৮৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে ১৮৯০ সাল থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লাভিনে। সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সূচনা হয়। আর ১৮৯১ সালে প্যারিসেই দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। স্বীকৃতি পায় মে দিবস।
এরপর ১৯০৪ সালে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই উপলক্ষে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বজুড়ে পহেলা মে তারিখে মিছিল ও শোভাযাত্রা আয়োজন করতে সকল গণতান্ত্রিক দল এবং ট্রেড ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সেই সম্মেলনে সব শ্রমিক সংগঠন মে মাসের ১ তারিখে ‘বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না-করার’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবের পর থেকে বিপুল সমারোহে দেশটিতে মে দিবস উদযাপিত হতে থাকে। এই উপলক্ষে দেশটিতে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হতো ।মে দিবসে সরকারি ছুটি থাকে অন্তত ৮০টি দেশে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।
এদিকে মে দিবস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক শ্রেণির মাঝে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মালিক-শ্রমিক সম্পর্কে এই দিবসের তাৎপর্য ও প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এর ফলে শ্রমিকদের দৈনিক কাজের সময় নেমে আসে ৮ ঘণ্টায়।
সারা বিশ্বের শ্রমিকরা তাদের শ্রমের উপযুক্ত মর্যাদা পেতে শুরু করেন। নিজেদের অধিকার আদায়ে সফল হয়েছেন। বিশ্বের ইতিহাসে সংযোজিত হয় সামাজিক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়। মে দিবসের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচনা হয়, তার ফলে ধীরে ধীরে লোপ পেতে শুরু করে সামাজিক শ্রেণি-বৈষম্য।
শ্রমিকদের বৈষম্য এখনও পুরোপুরি নির্মূল করা না গেলেও মে দিবসের সেই আত্মত্যাগ নিপীড়িত শ্রমজীবী মানুষকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে অনেকটাই মুক্ত করেছে।যদিও বিভিন্ন দেশ
মে এখনও শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করতে হচ্ছে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে যারা বক্তব্য রাখেন,তারা হলেন,শাহাব উদ্দিন শেবুল,শাহ আতিকুল হক কামালী,ইনামুল হক চৌধুরী,আব্দুছ ছালাম,ইয়াছমিন আক্তার,হায়দর আলী খান, মোহাম্মদ কে ভূইয়া ,আব্দুছ ছাত্তার, খায়রুজ্জামান সান্নীসহ
আর ও অনেকে।
সভার শেষ পর্যায়ে সাংগঠনিক ব্যাপারে ও আলোচনা হয় এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তী সভা অনুষ্টিত হবে জুনমাসের ১২ তারিখ। যথা সময়ে সবাইকে সময় ও স্থান জানানো হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ