নুরুল হক নুর-জোনায়েদ সাকির সম্পর্ক কী বাতা দিচ্ছে? - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৩২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নুরুল হক নুর-জোনায়েদ সাকির সম্পর্ক কী বাতা দিচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ৮, ২০২৩ ৮:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ৮, ২০২৩ ৮:৪৯ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে গঠিত সাত দলের জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ ত্যাগ করে গণ অধিকার পরিষদ। শনিবার (৬ মে) এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। গত বছরের ৮ আগস্ট গণতন্ত্র মঞ্চ সাতটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত হয়। দলগুলো হলো- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

উল্লেখ্য, গণ অধিকার পরিষদ প্রথমে এই জোটের সাথে থাকলেও মার্চে তারা জোট থেকে বের হয়ে আসে। গণ অধিকার পরিষদের দপ্তর সমন্বয়ক ও যুগ্ম-আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চের ব্যানারে গণঅধিকার পরিষদ আর কোনো কর্মসূচি পালন করবে না।

গণতন্ত্র অধিকার পরিষদের আ্বায়ক ড.রেজা কিবরিয়া বলেন, আমাদের বিভিন্ন নীতি রয়েছে। এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এটার পক্ষে কেউ কথা বলেনি। মানে এখানে থেকে আমাদের আন্দোলনে এসে কোন লাভ নেই। এখানে আমাদের মনে হয় না যে ছয়টি দলের মধ্যে ওরকম জনসমর্থন আছে। এখন এটা একটা ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। আমাদের মনে হয়, তারা তাদের মতো আন্দোলন করুক আমরা আমাদের মতো করব যুগপৎভাবে। আমরা তো বিএনপির সাথে আলোচনা করেছি। যুগপৎ থাকা উচিত এবং সব বিরোধী দলদের কাজ করা উচিত। আমাদের লক্ষ্যের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা এই সরকারকে হঠানোর ব্যাপারে অনড়। এই সরকার অবৈধ, ক্রিমিনাল। ঘৃণিত সরকার। জনগণ তাদের ঘৃণা করে। তাদেরকে সরানোই আমাদের লক্ষ্য আগের মতোই আছে। প্রোগ্রাম আমরা ওইভাবে অ্যানাউন্স করি না। এমনিতেই সরকার কত ঝামেলা করে বিভিন্ন প্রোগ্রামে। তো আমরা সেই ধরনের কোন কর্মসূচি এখন থেকে ডিক্লেয়ার করব না। আমরা নিবন্ধনটা পাই তারপর আমরা আলোচনা করব। নিবন্ধনটা এখনো হাতে পাইনি। আমাদের সাংগঠনিক কাজে এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে আরও শক্তিশালী হওয়া। এটা আমাদের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র মন্ত্রের সাথে কাজ করাটা ওটার আওতায় ছিল না।

গণ অধিকার পরিষদের জোট ত্যাগ করার বিষয়ে নাগরিক ঐক্য দলের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ওরা তো স্টেটমেন্ট একটা দিয়েছে। সেই স্টেটমেন্টটা ওদের দুটো পয়েন্ট আছে মেইন। একটা পয়েন্ট হচ্ছে যে তাদের মনে হচ্ছে তারা গণতন্ত্র মঞ্চে যথাযোগ্য মর্যাদা পাচ্ছে না। মর্যাদা বাদে এখানকার সিস্টেমটা হলো কি, আমাদের কো-অর্ডিনেশনটা বাই রোটেশন হয়। সভাগুলোতে সভাপতিত্ব করা, পরিচালনা করাও বাই রোটেশন হয়। এখন তাদের একটা ব্যাপারে আপত্তি হতে পারে যে যেহেতু তারা জুনিয়র এখন তারা যদি সিনিয়রদের চাইতে পরে বক্তব্য করতে যায় তা তো হবে না। তো ওদের এক্সপেক্টেশনটা সম্ভবত সেটাই ছিল। আরেকটা বিষয় হলো তারা অলি আউলিয়ার মুক্তি চায়। সেটা আমরাও চেয়েছি। কিন্তু এইটা নিয়ে তো আমাদের ইস্যু বাড়াতে চাই না। অলি আউলিয়ার একটা নিজস্ব ইস্যু তো আছে, তো ওরা আলোচনা রাখলে ওটাকে ইস্যু বানানো যায় না। এই কারণে এখানে একটা বিষয় আছে। কিন্তু এগুলো কখনোই আমাদের পথে আটকায়নি।

তিনি আরও বলেন, এরকম হয় যে ‘আপনার এইটা হচ্ছে’, ‘আপনার এই কাজটা করা যাবে না’ কিংবা ‘এই পথেই যেতে হবে’ এরকমটা। কথাবার্তা যেটা বোঝা গেছে এই পর্যন্তই। আর গতকালকে তো আমাদের মিটিংয়ে আসছিল ওরা। তারা এসে বলছে প্রধানত ওই কারণটাই। যে আমাদের দলটাকে আমরা একটু গোছাতে চাই এজন্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট কাজ করতে চাই। তাই আমরা জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। বিএনপি তো আমাদের সাথেও বসে আবার বিভিন্ন পার্টির সাথে বসে। তাহলে ওদের সাথে বসবে। ওদের সাথে বসলে ওদের সম্মানটা বাড়লো। মানে সাত জনের ঐক্য হওয়ার চেয়ে একাই একজন। এটা একটা তারা মনে হয় আলাদাভাবে মনে করে এইজন্য বলেছে। এছাড়া বাকি অন্য কোন কারণ নেই উল্লেখ করার মতো।

গণ অধিকার পরিষদের গণ সংহতি আন্দোলনের সাথে কোনো টানাপোড়েন চলছে কি-না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘না, না, এটা তো আমি খেয়ালই করিনি কখনো। চলছে এটা আমি কখনো দেখিনি। দুই-একবার হ্যাঁ মিটিমিটি হয়েছে তাদের সাথে সরাসরি। তবে সেটা নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে তখনই। আর আমাদের ক্লাসটা হবে কি নিয়ে? একটা ব্যাপার হতো হচ্ছে যদি পলিটিক্যাল থিউরিটিক্যাল ব্যাপার যদি হয়। আরেকটা হচ্ছে পজিশন নিয়ে হয়। কিন্তু পজিশন নিয়ে তো হয়েছে।

তিনি নুর সমন্ধে তিনি বলেন, এখন নূর যদি মনে করে যে সে এখন বড় নেতা, সেটা তার প্রজেকশন দরকার। এখন সেই প্রজেকশন কে দিবে? এখানে তো কেউ আমরা কাউকে বড় নেতা হিসেবে দেখাচ্ছি না। কিন্তু আ স ম রব কে আমরা যখন মিটিংয়ে পাচ্ছি তখন অন্যান্যরা অ্যাডজাস্টেবল সবাই। স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী এটা বলছে। সেটা একটা বিশাল এট্রিবিউট। আপনার যদি এরকম একটা এট্রিবিউটই না থাকে, সেটা বলবেন কি করে? সেই হিসেবে উনি বড় কিছু পাচ্ছেন। আমি ডাকসুতে একবার জিএস ছিলাম, দুইবার ভিপি ছিলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। নূর একবার ভিপি হয়েই যদি মনে করে যে উনিও ভিপি ছিল আমিও ভিপি ছিলাম, এরকম হলে তো ইক্যুয়েশনটা হবে না। বয়সেরও তো অনেক গ্যাপ। ওইসব কারণেই তাদের ইয়ে থাকতে পারে। যে প্রপার মূল্যায়নটা তারা এখানে পাবে না। এজন্যই বের হয়ে যাচ্ছে। আদারওয়াইজ কোন কিছু সমস্যা কখনোই হয়নি।

গণসংহতি আন্দোলনের সাথে গণ অধিকার পরিষদের কোনো টানাপড়েন চলছে কি-না জানতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সাথে যোগাযোগ করে। তিনি জানান যে তিনি মিটিংয়ে আছে। পরে কল দিবেন। তবে তার সাথে পরবর্তীতে যোগাযোগ করা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর ব্রেকিংনিউজকে বলেন, আমি এখন মিটিংয়ে আছি। পরে কথা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে তার সাথেও যোগাযোগ করা যায়নি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ