চলমান ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে: ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, মে ১৪, ২০২৩ ২:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, মে ১৪, ২০২৩ ২:০৭ অপরাহ্ণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চলমান ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে শেখ হাসিনা ও তার কুশীলবেরা নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী সাংসদ কর্নেল হুদার মেয়ে নাহিদ ইজাহার খানের মামলা সেই লাগাতার ষড়যন্ত্রের একটি ঘৃণ্য উদাহরণ মাত্র।
তিনি বলেন, গণবিচ্ছিন্ন এই দখলদার সরকারের তরফে আগামিতে এ ধরনের ষড়যন্ত্র চলমান থাকবে। বিশেষ করে সরকার পতনের সময়কাল যত এগিয়ে আসবে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ বিএনপির বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্রের মাত্রা আরো বাড়বে। আমরা দ্বার্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষদের সাথে নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল নস্যাত করে দেবো।
রবিবার (১৪ মে) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মোখা মোকাবিলায় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
দলীয়করণ না করে মোখা মোকাবিলায় সরকারকে সকলের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম সহযোগী ছিলেন কর্নেল নাজমুল হুদা। অভ্যুত্থানে সক্রিয় নেতৃত্ব দিতে তিনি ঢাকা আসেন। উল্লেখ্য, খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে তাদের নেতৃত্বে তৎকালীন সেনাপ্রধান (পবর্তীতে রাষ্ট্রপতি) মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। মূলত খালেদ মোশাররফ ও তার সহযোগীদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষীতার সুযোগে প্রথমত ইতিহাসের নৃশংস জেলহত্যাকাণ্ড সঙ্ঘটিত হয়।
তিনি বলেন, খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সঙ্ঘটিত অভ্যুত্থানের ফলে সেনাছাউনিতে চরম বিশৃংখল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যে সুযোগের অপব্যবহার করে কর্নেল তাহের-ইনু গংয়ের নেতৃত্বে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ও জাসদ গণবাহিনীর নেতৃত্বে পাল্টা-অভ্যুত্থান সঙ্ঘটিত করে সেনা বাহিনীতে সেনা অফিসার-সৈনিক বিরোধ সৃষ্টি করে নির্মম সেনা অফিসার হত্যার সুদূরপ্রসারী দেশী-বিদেশী চক্রান্তে শামীল হয়। যার নির্মম শিকার হচ্ছেন খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সঙ্ঘটিত অভ্যুত্থানের অন্যতম সহযোগী কর্নেল নাজমুল হুদা।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতালোভীদের চক্রান্তে সঙ্ঘটিত শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ড, ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থান ও ৭ নভেম্বর জাসদ গণবাহিনী ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক আদর্শে কর্নেল তাহের-ইনু গংদের নেতৃত্বে পাল্টা সেনা অভ্যুত্থান এবং সৈনিক-অফিসার বিরোধ উস্কে দিয়ে নৃশংস সেনা অফিসার হত্যার নীল নকশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অস্তিত্ব বিলীন করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র রূখে দিতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, রণাঙ্গনের যোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতির ক্রান্তিলগ্নে সাহসী ভূমিকা অবতীর্ণ হন।
‘‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সকালে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত দশম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের কার্যালয়ে আশ্রয় নেয়া কর্নেল হুদাকে হত্যার ঘটনায় তার মেয়ে নাহিদ ইজহার খান ৪৮ বছর পর যে মামলা দায়ের করেছেন সেখানে সেই হত্যার আদেশদাতা হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন। অত্যন্ত রূঢ় সত্যি হচ্ছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী নিশিরাতের নির্বাচনের বিনাভোটের গঠিত সংসদের একজন সদস্য নাহিদ ইজহার খান সম্ভবত তার নিজের মায়ের লেখা বইটাও পড়ে দেখেননি। দায়েরকৃত মামলার বাদী নাহিদ ইজাহার খানের মায়ের লিখিত গ্রন্থের ১৩৪ পাতায় সুস্পষ্টভাবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কর্নেল তাহেরের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে উঠে এসেছে।’’
ফখরুল বলেন, এতে আরো উঠে এসেছে কর্নেল তাহেরের নির্দেশে হ্যাকাণ্ডের চারদিন পূর্ব থেকে কর্নেল হুদাসহ অন্যনাদের ভারতের চর হিসেবে সেনাবাহিনীতে প্রচার করেছিল জাসদ গণবাহিনী। মেজর জেনারেল আমীন আহম্মেদ চৌধুরীও একই কথা লিখেছেন বইটির ভূমিকায়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ