সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া সম্ভব নয় অবাধ নির্বাচন : সিইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, মে ১৬, ২০২৩ ২:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, মে ১৬, ২০২৩ ২:২৪ অপরাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল নির্বাচনী আচরণ ভঙ্গকারীদের শাস্তির আওতায় আনার বিষয়ে বলেছেন, ‘লোম বাছতে গিয়ে যদি কম্বল উজাড় করে ফেলি, সেটা খুব বাস্তবসম্মত হবে না।’
জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হাওয়ার আশঙ্কার কথা জানানোর পর সিইসি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। গতকাল সোমবার দলের মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে।
সরকারের যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকে তবে নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে এককভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন বলে মন্তব্য করে সিইসি বলেন, আমরাও স্বীকার করেছি এবং আমরাও জোর দিয়ে বলেছি—আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে সরকার বিদ্যমান থাকবে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা অবশ্যই প্রয়োজন হবে। তাদের সদিচ্ছা ছাড়া অবাধ নির্বাচন কঠিন। আমরা বলেছি নির্বাচন কমিশন এককভাবে কখনোই একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবে না, যদি সংশ্লিষ্ট সবাই প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এবং একই সঙ্গে সরকারের যে প্রশাসন, পুলিশ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা না করে। এতে নির্বাচন কমিশনের যে দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা, তা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। এটা আমরা উনাদের বলেছি।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ইভিএমে সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না, এতে উনারা খুশি। পুলিশের ভূমিকার কথা উনারা বলেছেন পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমরা বলেছি, আমরা চেষ্টা করব এবং সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে, সেটা সরকারকেও করতে হবে।
সরকারি দলের প্রার্থীরাই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বেশি, সরকারের সহায়তা পাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের তরফ থেকে কোনো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ পাইনি। আমাদের তরফ থেকে সরকারের ওপর চাপ থাকবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অসংখ্য আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে। সবকিছু আমলে নেওয়ার মতো হবে না। কারণ হচ্ছে লোম বাছতে গিয়ে যদি কম্বল উজাড় করে ফেলি, সেটা খুব বাস্তবসম্মত হবে না। আমি বলেছি, দিন শেষে মানুষ জানবে যে নির্বাচনটা কেমন হলো।
বৈঠক শেষে মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকারের গত নির্বাচনে বিশেষ করে গত ইউপি নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করেছিলাম, সেখানে শাসক দলের প্রার্থীরা অনেক জায়গায় আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন, জোর জবরদস্তি করেছেন। সেই সময় যারা নির্বাচন কমিশনে ছিলেন, তারা তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব আরও বলেন, ভোটের সময় ইসির কথা না শুনলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে না গিয়ে নিজেরাই যেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে, সেই আইনের জন্য বারবার বলেছি। সেই আইনটা করলে ইসিই ব্যবস্থা নিতে পারত।
তিনি বলেন, পাঁচ সিটির ভোটে নির্বাচনে আচরণবিধি মানা হচ্ছে না। সিলেটে একজন প্রার্থী রাস্তা দখল করে মঞ্চ বানিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। গত ১২ মে ভোট চেয়েছেন। আমরা এটার প্রমাণ দিয়েছি। বরিশালের রিটার্নিং কর্মকর্তার বাজে ব্যবহারের এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের বিষয়টিও তোলা হয়েছে। সিইসি বলেছেন, তদন্ত করে দেখবেন।
জাপা প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক-২ এম এ রাজ্জাক খান।
আগামী ২৫ মে থেকে ২১ জুন পর্যন্ত তিন ধাপে পাঁচ সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ