বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:২৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মে ১৮, ২০২৩ ১১:২৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মে ১৮, ২০২৩ ১১:২৮ অপরাহ্ণ

 

টবি ক্যাডম্যান
বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ দেশে স্বৈরতন্ত্রের উত্থানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গুরুত্বের সাথে খেয়াল করছে এবং তারই প্রমাণ দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায়; দেশটির সরকার প্রধান এবং তার সরকারের আক্রমণাত্মক প্রচারণা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশে বিগত দু’টি নির্বাচন মূলত প্রতিনিধিত্বমূলক ছিল না, বরং তা ছিল ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক অপকৌশলের অভিযোগদুষ্ট। তাই গণতন্ত্র ও আইনের শাসন খর্ব করার প্রক্রিয়া বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশ সরকারের ওপর আরো বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হবে। সঙ্গত কারণে, দেশটিতে অনুষ্ঠেয় ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং স্বাধীন নাগরিক সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় এবং এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়; রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটি অবশ্য প্রতিনিধিত্বমূলক হতে হবে, একই সাথে সব রাজনৈতিক দলের অবাধ ও পূর্ণ অংশগ্রহণে নির্বাচন স্বচ্ছ হতে হবে।

তবে সতর্কসঙ্কেত দেখা যাচ্ছে যা সবার চোখে দৃশ্যমান। বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার আরেকটি কারচুপির নির্বাচনের মঞ্চ তৈরি করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি সময় মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় তাহলে পরে নিজেদের ওপর দোষারোপ করা ছাড়া তাদের আর কিছু করার থাকবে না। লক্ষণীয়, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনরা তাদের একদলীয় শাসনের প্রতি যেকোনো ধরনের হুমকি নস্যাতের মরিয়া চেষ্টায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে আরো দুর্বল করছে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের গ্রেফতার ও আটকের মধ্য দিয়ে। তাদের নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের স্বীকার করা উচিত যে, এ ধরনের আচরণ গণতন্ত্রের যেকোনো নীতির পরিপন্থী। স্বীকৃত মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি মেনে নিতে পারে না।
আইন বিশেষজ্ঞ যারা নানা মৌলিক মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেন, তারা একটি বিবৃতি দিয়েছেন, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের পরিস্থিতির স্পষ্ট প্রতিফলন। কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া প্রত্যেক নাগরিকের নিজেদের পছন্দের যেকোনো ব্যক্তিকে ভোট দেয়া তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। ক্ষমতাসীন দলের অগণতান্ত্রিক আচরণ যদি প্রতিহত করা না যায়, তাহলে তা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য যেমন হুমকি; তেমনি এটি বৃহত্তর আঙ্গিকে এ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা আরো বাড়িয়ে দেবে।

গুম, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনী দায়মুক্তি পাওয়ায় এসব কাজ আরো বেশি করে করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে স্পষ্ট হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন এবং গুমের মতো গুরুতর অপরাধ যেভাবে সংঘটিত করেছে তা নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ছিল না।

এ দিকে বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২০২০ কান্ট্রি রিপোর্টে বলা হয়েছে : ২০১৮ সালের নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাছে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে বিবেচিত হয়নি। ওই নির্বাচনে সরকারি দলের পক্ষে রাতে ব্যালটবাক্স ভর্তি করা, নির্বিচারে ব্যালটে সিল মারা, বিরোধী পোলিং এজেন্ট এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোসহ অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য খবর হলো, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ বেআইনি বা নির্বিচারে হত্যা; জোরপূর্বক অন্তর্ধান; সরকারের নির্যাতন বা নিষ্ঠুরতা, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে নির্বিচারে আটক ও গ্রেফতার করা। এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্র্র্মীরা ফৌজদারি মামলার সম্মুখীন হয়েছেন। ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-নিপীড়ন এখনো চলছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি রাজনৈতিক দল হওয়া সত্তে¡ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, এর সদস্যদের নির্বিচারে আটক এবং গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর হেফাজতে আদালতে নেয়ার সময় পায়ে শিকল পরিয়ে নেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির গ্রেফতার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শামসুল ইসলাম, মিয়া গোলাম পরওয়ার, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, শাহজাহান চৌধুরী প্রমুখ।
এ ব্যাপারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর সাঁড়াশি আক্রমণ চালাচ্ছে। হামলাকারীদের দায়মুক্তি দেয়ায় এই হামলার ঘটনা বাড়ছে।

লেখক : টবি ক্যাডম্যান, আন্তর্জাতিক আইনবিশেষজ্ঞ
জি ৩৭ চেম্বার থেকে ইংরেজি হতে ভাষান্তর

নয়াদিগন্ত

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ