মিথ্যা মামলায় নাম ভূক্ত নেতা-কর্মীদের কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে :মির্জা ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:৫৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মিথ্যা মামলায় নাম ভূক্ত নেতা-কর্মীদের কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে :মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৫, ২০২৩ ৭:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৫, ২০২৩ ৭:৫০ অপরাহ্ণ

 

সম্প্রতি বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের ওপরে সরকারের জুলুম নির্যাতন বিভিন্ন কৌশল বেড়েই চলেছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বিএনপিকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে খুন, হত্যা, মিথ্যা মামলা, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মিথ্যা মামলায় নাম ভূক্ত নেতা-কর্মীদের কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে।
অতি সম্প্রতি এই ধরনের এক ভয়ংকর চক্রান্ত মূলক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নায়ক, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব এবং নরসিংদী জেলার আহŸায়ক সাবেক সংসদ সদস্য জনাব খায়রুল কবির খোকনকে এবং তার সহধর্মীনী এবং ৯০এর ছাত্র গণঅভূত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা বিএনপি’র স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য মিসেস শিরীন সুলতানাসহ নরসিংদীর প্রায় ৫০ জন ছাত্রনেতা, যুবনেতা ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় চক্রান্ত মূলক ভাবে জনাব খোকনের নরসিংদীর বাসভবন ও বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়েছে। এই ঘটনা কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ যোগ সাজসে এবং সমর্থনে কিছু সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হত্যাকান্ড ও পরবর্তীতে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়েছে।
ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে জনাব খোকন, তার স্ত্রী ও ছাত্রদল ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রদান করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে নরসিংদী হতে বিএনপিকে নিমূল করা এবং জনাব খোকনের ন্যয় একজন ভদ্র, সজ্জন রাজনীতিবিদকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জনাব খোকনের ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। ছাত্র জীবনে থেকে এখন পর্যন্ত তিনি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তার নেতৃত্ব, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনে তার অবদান সর্বজন বিদিত।
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
গত ২৫শে মে, নরসিংদীতে সংঘটিত অনাকাংখিত ঘটনার সময় জনাব খোকন ২৭ মে অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় কর্মসূচী সফল করার লক্ষে নরসিংদী জেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সমূহের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করছিলেন। সেই দিন দুপুরে আকষ্মিক ভাবে নরসিংদী শহরে ট্রাকে করে ব্যান্ড পার্টির সহযোগে কোটি টাকার প্রাডো জীপসহ ২০ থেকে ৩০টি মটর সাইকেলে কতিপয় সরকারী মদদপুষ্ট বেআইনী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আক্রমনাত্মক মিছিল শুরু করে। মিছিলটি জেলা খানা মোড়ে আসামাত্রই মিছিলের ভিতর থেকে ২ রাউন্ট গুলি হয়। যাহা গণমাধ্যমের সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়। সেখানে দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়। উল্লেখ থাকে যে তাদের মধ্যে একজন আশরাফুল ছাত্রদলের সাবেক নেতা। ঐ দিন সন্ধ্যায় সাদেক ও পরের দিন আশরাফুল সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
প্রসংগত উল্লেখ্য যে, ঐ দিন নরসিংদী জেলার সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ঢাকার পল্টনস্থ ভাসানী ভবনে প্রস্তুতি কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন। অথচ এই নির্মম হত্যা কান্ডের মামলায় জনাব খোকন ও জনাব খোকনের স্ত্রীসহ আরও ৩০ জন নেতা-কর্মীকে আসামী করে মামলা করা হয়। পরের দিন খোকনের নামে আরো একটি বিষ্ফোরক আইনে মামলা করা হয়। বর্তমানে যে সময় সারাদেশে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ঘরের ভিতরে থেকে গ্রেফতার হচ্ছে। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের নির্যাতন্তের কারনে রাস্তায় বাহির হওয়ার সুযোগটা পর্যন্ত নাই সেখানে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মিছিলের নামে তান্ডব চালাচ্ছে কি করে? গত ২৭ মে মে নরসিংদী জেলা বিএনপি সমাবেশকে সফল করার লক্ষে প্রস্তুতি সভা চলাকালে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় বিএনপি’র গোলাম কবির কামাল, খবিরুল ইসলাম বাবুল, কবির আহমেদ, আ.ফ.ম মোস্তাকিম পান্না, আলমগীরসহ ১০ জন বিএনপি’র সিনিয়র নেতা। ঠিক এর পরদিন সন্ত্রাসীরা আগ্নোয়াস্ত্রসহ মিছিল করে কিভাবে?
কিভাবে প্রকাশ্যে দিবালোকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ত্রাসীদের মধ্যে স্বশস্ত্র গোলাগুলি হয়। উক্ত গোলাগুলির ঘটনায় দুই দুটি তরতাজা প্রাণ প্রদীপ নিভে যায়। এই গোলাগুলি কারা করে, কাদের সহায়তায় গোলাগুলি করে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দ্রæত পালিয়ে গেলো? এমন শত শত প্রশ্ন নরসিংদীবাসীর মনে জেগে উঠছে। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে সে সকল প্রশ্নের উত্তর পেতে চাই আমরা।
সরকারের মদদে সন্ত্রাসীরা জঘন্য হত্যা রক্তের হলি খেলায় মেতে উঠে যারা নেতৃত্ব দিয়ে আসছে তাদের বিরুদ্ধে কেন কোন মামলা এখন পর্যন্ত হয় নাই। এই সব আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক স্বস্ত্রীক খায়রুল কবির খোকনসহ বিএনপি’র অধিকাংশ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক মামলা দিয়ে চলমান সময়ের সরকার বিরোধী আন্দোলনকে প্রতিহত করার হীন প্রচেষ্টার অংশ।
যারা নিহত হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং আমরা এই নির্মম নির্দয় হত্যা কান্ডের সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি। আপনারা জানেন জনাব খায়রুল কবির খোকন একজন আদর্শবাদী সৎ ও ত্যাগী মানুষ হিসাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত। তিনি রাজনৈতিক কারনে অনেক বার জেলে গেছেন কিন্তু কখনও কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন না।
আপনরা শুনলে অবাক হবেন যে, জনাব খোকন এমন এক জেলায় বাস করেন, যেখানে নিজ বাড়িতে, নিজ দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে গুলিবৃদ্ধ হয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছে, নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানকে এবং একই ভাবে সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে। একই ভাবে সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারাতে হয় নরসিংদী পৌর মেয়র লোকমানকে। প্রসঙ্গত নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান গুলি খেয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হন ৩১ মে। এই সব অপকর্ম ঢাকতে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ সরকারি প্রশাসন। সরকারী দলের নির্দেশে পুলিশের মদদে সেই দিনই নিরসিংদী চিনিশপুরের বিএনপি’র কার্যালয়টি আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দেয় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা। প্রসঙ্গত নরসিংদী চিনিশপুরে খায়রুল কবির খোকনের বাড়ি নিচ তলায় বিএনপি নরসিংদী জেলা কার্যালয়।
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
১১ ফেব্রুয়ারি সকালে রায়পুরা থানা বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. এ কে নেছার উদ্দিনের জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য রওনা দিলে পথি মধ্যে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে শিবপুরে ইটাখোলা মোড়ে জীবন নাশ ও হত্যার উদ্দেশ্যে খোকনের বাড়ি বহরে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি ও ককটেল হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের থেকে প্রাণ রক্ষা করার জন্য লাইসেন্সকৃত বৈধ পিস্তুল থেকে ৩ রাউন্ট ফাকা গুলি করে, তাৎক্ষনিভাবে আত্মরক্ষা করে। ফলত জানাজায় অংশগ্রহণ না করে দ্রুত ঢাকায় ফিরে আসেন। এই ঘটনায় খোকন থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। উল্টো যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বাদি করে খায়রুল কবির খোকনকে ১নং আসামী করে বিএনপি’র ১৮ জন প্রবীন নেতাদের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে। সরকারী সন্ত্রাসীরা ১২, ২৪, ও ২৫ ফেব্রুয়ারি শহরে জঙ্গী হোন্ডা মিছিল শেষে চিনিশপুরস্থ বিএনপি অফিসের সামনে এসে ককটেল ফাটিয়ে, আগ্নোযাস্ত্র দিয়ে গুলি করে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরী করে, পুরো আবাসিক এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত করে আওয়ামী আশ্রিত সন্ত্রাসীরা। সেই সকল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ৩ এপ্রিল ছাত্রদল নেতা শশির উপর হামলা করে। ঐ দিন দুপুরে এই ছাত্রদল নেতা আদালতে থেকে বাড়িতে ফেরার পথে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে দিবালোকে আবারো হামলা চালায় এবং পরে শশিকে চলন্ত ট্রেনের নিচে ফেলে হত্যার চেষ্টা করা অবস্থায় অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা নিয়ে জীবন বাজি রেখে বিএনপি’র নেতা চৌধুরী সুমন ও শরিফ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে শশিকে উদ্ধার করে।
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
নরসিংদী জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সভা চলাকালে গত ৫ এপ্রিল আলোচ্য সন্ত্রাসীরা হামলা, ভাংচুর এবং পরে ১৪-১৫টি ককটেল নিক্ষেপ করে, নিরসিংদী বিএনপি’র অফিস ও খায়রুল কবির খোকন এর বাস ভবন লক্ষ কলে। সেই দিনও বিএনপি’র সিনিয়র ৫ জন নেতা মারত্মকভাবে আহত হন। ১৩ মার্চ উপজেলা মোড়ে আমাদের যুবদলের কর্মীদের উপর হামলা চালায় এই আওয়ামী প্রশাসনের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনী। ৭ মে সন্ত্রাসীরা হোন্ডা মিছিলসহ জেলা বিএনপি অফিস ভাংচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
আবার ২০ মে জেলা বিএনপি’র অফিসের সামনে ইট পাটকেল ককটেল নিক্ষেপ করে, অফিস ভাংচুর করে অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করে। খুবই অবাক লাগে যে, এই ভাবে আমাদের নেতা-কর্মীরা যখন রাস্তায় নামতে পারে না, বাসায় থাকতে পারে না, পুলিশের ভয়ে, ঠিক একই সময়ে এই স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা জেলা শহরে ঘন্টার পর ঘন্টা মিছিল করে হামলা ভাংচুর বোমা ফাটিয়ে আতংক তৈরী করে। অথচ পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। তা হলে এই স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কারা?
অন্যদিকে জনাব খায়রুল কবির খোকন এবং নরসিংদী জেলা বিএনপি’র কার্যালয় হামলা, ভাংচুর করা হলে তৎপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ দেয়া হলে, জিডি এজাহার করতে গেলে কোন কিছুই পুলিশ গ্রহণ করেনি। সর্বশেষ স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অন্যতম একজন আমাদের দলীয় অফিস পুড়িয়ে দিয়ে, বোমা মেরে আতংক তৈরী করার কথা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকারউক্তি দিয়েছেন। দায় স্বীকার করার পরও পুলিশ ঐ সন্ত্রাসীকে এখনও গ্রেফতার করে নাই। এমনকি থানায় কোন অভিযোগও গ্রহণ করে নাই।
আমরা বিশ্বাস করি আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর এবং খোকনের বাড়ি ও জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং আগুন জ¦ালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে সরকারী মদদপুষ্ঠু। তাই অপরাধীরা যে দলেরই হোক না কেন এই নেক্কার জনক হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত ও তাদের নেপথ্যে গডফাদার যারা মদদ দিয়ে যাচ্ছে তাদেরকেও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।
আমরা আশা করি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানাচ্ছি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ