দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সংঘর্ষের আতঙ্কে এলাকাবাসী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:০৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সংঘর্ষের আতঙ্কে এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জুন ২৪, ২০২৩ ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জুন ২৪, ২০২৩ ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

 

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ পাল্টাপাল্টি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার (২৩ জুন) দলের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন আমিনপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক বেড়া উপজেলা চেয়াম্যান রেজাউল হক বাবু। দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা গেছে।

দলটির একাধিক নেতাকর্মী জানান, নগরবাড়ি ও কাজীরহাট ঘাটের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আমিনপুর থানা আওয়ামী লীগ দুই গ্রুপে বিভক্ত। প্রবীণ নেতারা একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করলেও আমিনপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবুর একগুয়েমির কারণে গ্রুপিং বন্ধ হচ্ছে না। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও বিভক্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। মঞ্চে বক্তৃতাকালে নেতারা একে অপরকে নিয়ে নানারকম কটূক্তি করেন।

রীতি অনুযায়ী দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সঞ্চালনার কথা থাকলেও রেজাউল হক বাবু অনুষ্ঠানেই আসেননি। অন্যদিকে বিকেলে, দলের আমিনপুর থানার সাধারণ সম্পাদক ও বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মাসুমদিয়া ঢালারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ব্যানারে কাজীরহাটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। এ সভার ব্যানারে বড় আকারে প্রধান বক্তা রেজাউল হক বাবুর নাম দেয়া হয়। সেখানে থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনুপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, তিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠান হলেও তা আয়োজন, অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু। তিনি পাবনা-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান উজ্জ্বলের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য জেলার সহ-সভাপতি আহমেদ ফিরোজ কবিরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন। উজ্জ্বল সমর্থকদের সাথে নিয়ে আলাদা অনুষ্ঠান করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী মন্তব্য করেন, নেতারা দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে; আর আমরা সাধারণ কর্মীরা বলির পাঠা হই। আমরা কার অনুষ্ঠানে যাব? একজনের সভায় গেলে আরেকজনের বিরাগভাজন হতে হয়।

এ বিষয়ে আমিনপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, রেজাউল হক বাবু দলের মধ্যে স্বেচ্ছাচারি, স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করছেন। আমিনপুর থানার কারও সাথে আলোচনা না করেই একক সিদ্ধান্তে দলের প্রোগ্রাম করছেন। গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যক্রমের জন্য তাকে সতর্ক করেও কোন লাভ হয়নি।

যুগ্ম সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ সোহাগ বলেন, রেজাউল হক বাবুর স্বেচ্ছাচারি আচরণের বিষয়ে আমরা জেলা কমিটিকে জানিয়েছি। বড় দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী, পছন্দ, অপছন্দ থাকবে। কিন্তু তাই বলে দলে বিভক্তি কাম্য নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলে ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি।

এ বিষয়ে রেজাউল হক বাবুর সাথে যোগাযোগ করতে একাধিকবার কল করলে রিসিভ করে কেটে দেন। পরে আর রিসিভ করেননি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ