সংলাপ কেবল কথায়, বাস্তবে দু’পক্ষই অনড়
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, জুলাই ৪, ২০২৩ ১:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, জুলাই ৪, ২০২৩ ১:৪৫ অপরাহ্ণ

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কিছু নেই : ড. রাজ্জাক
নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিলেই কেবল আলোচনা : মির্জা ফখরুল
ডেস্ক নিউজ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট সংকট নিরসনে আবারও আলোচনায় সংলাপ। নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসার ইতিবাচক বক্তব্য দেওয়ার এক দিন পরই সরকারের আরেক মন্ত্রী তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। বলেছেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের প্রশ্নই ওঠে না। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচন প্রশ্নে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের চাপে সংলাপ প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এলোমেলো বক্তব্য দিচ্ছেন। এটিকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে সম্মত নন তাঁরা।
অবশ্য ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি এমন বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সবাইকে যার যার অনড় অবস্থান থেকে ছাড় দিয়ে হলেও আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। অন্যথায় সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সৃষ্ট সংকটের অবসান হবে না। সেইসঙ্গে জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগ-উৎকণ্ঠারও নিরসন ঘটবে না।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সংবিধানেই বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচন কীভাবে ও কোন সরকারের অধীনে হবে। কাজেই এ নিয়ে আলোচনা বা সংলাপের কিছু নেই। তবে আগামী নির্বাচন কীভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা যায় এবং এ নিয়ে বিরোধী দলের কোনো পরামর্শ থাকলে সেটা তারা তুলে ধরতে পারে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের চলমান মহাসংকট থেকে মুক্তি পেতে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধ নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য আগে এই সরকারকে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেই কেবল আলোচনা হতে পারে।
সংলাপ প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা কিছুদিন নীরব থাকার পর গত দু’দিনে দুই শিবিরের দুই নেতা এ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেন। এরপরই সংলাপ ইস্যুটি আবারও আলোচনায় উঠে আসে। সংলাপের সম্ভাবনা নিয়ে নানা মহলে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বরফ গলতে শুরু করছে কিনা অথবা সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেকার মতো দু’পক্ষ আবারও আলোচনার টেবিলে বসছে কিনা– এমন প্রশ্ন নিয়েও নানা গুঞ্জন শুরু হয়।
গত শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেন, রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকেই সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটা পথ বের করতে হবে। পর দিন রোববার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘মির্জা ফখরুলকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁরা সংলাপ করতে রাজি আছেন কিনা? এরপর আমরা বিবেচনা করব। কারণ, আমাদের রাষ্ট্রপতি একবার ডেকেছিলেন, নির্বাচন কমিশন দু’বার তাঁদের ডেকেছে, তাঁরা আসেননি। তাঁদের মনোভাবটা (অ্যাটিচিউড) কী, সেটা আগে জানান।’
এ অবস্থায় গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি বিএনপি দেশে একটি গণ্ডগোল পাকাতে চায়, বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করাই তাদের দাবি এবং আন্দোলনের উদ্দেশ্য। তাই এ নিয়ে সংলাপের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।’
অবশ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র আমির হোসেন আমু গত ৬ জুন ১৪ দলের এক সমাবেশে ‘জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসার’ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করলে সেবারও সংলাপ নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। তবে একদিন পরই ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা-মন্ত্রীরা আমুর বক্তব্যকে তাঁর ‘ব্যক্তিগত মতামত’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি নাকচ করে দেন। আমির হোসেন আমুও তাঁর অবস্থান থেকে সরে এসে ভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরলে সংলাপ নিয়ে গুঞ্জনের অবসান ঘটে। পরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেন। সংলাপ নিয়ে সর্বশেষ অবস্থান প্রসঙ্গে জানতে সমকাল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের বক্তব্য থেকে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যার যার অবস্থানে এখনও অনড় রয়েছে দুই দলই। আলোচনার প্রশ্নেও পরস্পরবিরোধী মত উঠে আসছে তাঁদের কথায়। এ ছাড়া একে অপরের দিকে দায় চাপিয়েছেন তাঁরা।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবেই একটি মীমাংসিত ইস্যু। সংবিধানে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সরকারের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একটি নির্বাচিত সরকারই আরেকটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। যেটা সংসদীয় গণতন্ত্র আছে– এমন সব দেশেই অনুসরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনেও এমন কথাই বলেছেন। কাজেই নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে কারও সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই। একমাত্র আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক এবং অবাধ ও সুষ্ঠু করার প্রশ্নে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। এর পরও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতা ও সরকারের মন্ত্রীদের আলোচনায় মাঝেমধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। এই প্রসঙ্গটিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বলেন, রাজনীতির মাঠে কত ধরনের আলোচনাই তো হয়। সব কিছুর কী পরিণতি আসে! তাছাড়া বিএনপি যখন বলে– সরকারকে পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি পূরণ করেই আলোচনায় বসতে হবে, তখন সেটা কী মানা সম্ভব?
আরেকজন নেতা বলেন, বিএনপির সঙ্গে আলোচনার অতীত অভিজ্ঞতাও ভালো নয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর মধ্যস্থতায় দুই দলের নেতাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সংলাপ হয়েছিল। ওই সংলাপে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এর পরও বিএনপি ও তার মিত্ররা নির্বাচন বানচালে আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু বিএনপিই নয়, নিবন্ধিত সব দলের সঙ্গেই আলোচনায় বসেছিলেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন সরকার মেনে নিয়েই সবাই নির্বাচনে এসেছিলেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে পরাজয়ের পর নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ও তার মিত্ররা যেমন প্রশ্ন তুলেছে, তেমনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো অসাংবিধানিক দাবিকে সামনে নিয়ে এসে আবারও সহিংস আন্দোলনের ষড়যন্ত্র করছে। এ অবস্থায় তাদের সঙ্গে আর আলোচনার কোনো প্রশ্ন উঠছে না।
অন্যদিকে, সংলাপের চেয়ে রাজপথের আন্দোলনকেই এবার প্রাধান্য দিচ্ছেন বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতারা। তাঁদের মতে, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি নানাবিধ চাপে সংলাপ প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-নেতারা একেকজন একেক রকম বলছেন। তাঁদের নিজেদের মধ্যেই সমন্বয় নেই। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপের আয়োজন না থাকলে এখনই এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চান না তাঁরা। দলটির নেতারা আরও বলছেন, দাবিতে অনড় রয়েছেন তাঁরা। নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে আগে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মানতে হবে। এর পর সংলাপের প্রশ্ন আসবে। সেখানে নির্বাচনকালে সরকার গঠনে আলোচনা হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে দু’দফায় অনুষ্ঠিত সংলাপের ফল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তারা কোনো ওয়াদা রক্ষা করেনি। ফলে বিএনপি আওয়ামী লীগকে আর ভরসায় রাখতে পারছে না। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এবারও তারা একই কৌশল নিয়েছে। তাই এবার আর তাদের ফাঁদে পা দেওয়ার রাস্তায় হাঁটবে না বিএনপি। জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দাবি আদায়ে তাদের শক্ত অবস্থান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, আসলে ২০১৪ ও ২০১৮– বিগত দুটি বিতর্কিত নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ এখন দেশে-বিদেশে বেকায়দায় রয়েছে। এর সঙ্গে দ্রব্যমূল্য, লুটপাট, অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থা এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিপর্যস্ত অবস্থায় সংকটে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল ও সরকার। ফলে এলোমেলো রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন নেতা-মন্ত্রীরা। এর আগে গত মাসের শুরুতে দলটির দায়িত্বশীল নেতা আমির হোসেন আমু সংলাপে আগ্রহের কথা বললেও এর এক দিন পর ওই বক্তব্যকে নাকচ করে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য নেতারা। এবারও ওবায়দুল কাদের সংলাপ ইস্যুতে কথা বললেও এক দিন পর সরকারের আরেকজন মন্ত্রী সেটা নাকচ করেছেন। তাঁরা কখন কী বলেন, আর কখন কী করেন– সেটা তাঁরা নিজেরাও জানেন না। পুরো দলটি এখন সকালে এক কথা বলে, বিকেলে আরেক কথা। তাই তাদের কথায় আস্থা রাখার মতো অবস্থা আর নেই।
বিশ্লেষকরা যা বললেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সমকালকে বলেন, সংলাপ তো সবসময়ই প্রয়োজন। যে কোনো সংকটের সমাধান সংলাপই করতে পারে। আবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাও কোনো সমাধান হতে পারে না। এটা কখনোই গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়। আমরা আশা করি, সব দলই বুঝতে পারবে জনগণের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া যায় না, ক্ষমতায় থাকা যায় না। আর এজন্যই দলগুলো সংলাপে বসে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার পাশাপাশি কীভাবে ওই নির্বাচনে জনগণের সমর্থন আদায় করা যায়– সেদিকেই মনোযোগী হবে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেছেন, দেশে এখন কেউ কারও ছায়া দেখব না, কারও সঙ্গে কথা বলব না এবং একসঙ্গে হাঁটব না– এমন অপরাজনীতিই চলছে। এটা অত্যন্ত নীচু মানসিকতা। রাজনীতি একটি প্রক্রিয়া। সেটা আলাপ-আলোচনায় সমঝোতা ও সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া হতে পারে। তিনি বলেন, এখন যে রাজনীতি চলছে, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে। সংলাপের মাধ্যমেই এর সমাধান করতে হবে। এর কোনো বিকল্প আছে বলেও মনে হয় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবধর্মী খোলা মন নিয়ে সংলাপ হতে হবে। তাহলে ভালো কিছু অবশ্যই হবে। এর অন্যথা লোক দেখানো কিছু হলে সেটার ফলও অতীতের মতোই হবে।
অন্য নেতাদের অভিমত
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের বিদ্যমান সংকট নিরসনে সরকারকেই সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু যদি এই সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংলাপের আয়োজন করা হয়, সেই সংলাপে অংশ নেওয়ার দরকার আছে বলে মনে করি না। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালে নির্দলীয় তদারকি সরকারের রূপরেখার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা দিয়ে আলোচনা শুরু করা হলে, সেটা সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক ভূমিকা রাখবে। সরকার সদিচ্ছা নিয়ে সে ধরনের কোনো সংলাপ আয়োজন করলে, তখন নিশ্চয় সেটাতে ভালো ফল বয়ে আনবে। কিন্তু নির্দলীয় তদারকি সরকারের দাবি আদায়ে রাজপথের বিকল্প নেই। জনগণকে রাজপথেই থাকা দরকার।সূত্রঃ সমকাল
জনতার আওয়াজ/আ আ