জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নসহ ৬ দফা দাবি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:০৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নসহ ৬ দফা দাবি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জুলাই ১০, ২০২৩ ১০:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জুলাই ১০, ২০২৩ ১০:৫০ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অনতিবিলম্বে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন এই সেবাখাতের চালকেরা।

সোমবার (১০ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি জানান।

তাদের দাবিগুলো হলো-

১। সেবাখাতে বিআরটিএ কর্তৃক অ্যাম্বুলেন্সে প্রাইভেট কারের মতো আয়কর (এটিআই) না নেওয়া।
২। অনতিবিলম্বে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৩। অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অ্যাম্বুলেন্সের টোল ফ্রি বাস্তবায়ন।
৪। দেশের প্রত্যেকটি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের পার্কিং সুবিধা দেওয়া।
৫। রোগী থাকা অবস্থায় প্রতিটি পাম্পে সিরিয়াল ছাড়া তেল এবং গ্যাস নিতে দেওয়া।
৬। সড়কে হয়রানি মুক্ত অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাদল মাতব্বর বলেন, নানা দুর্যোগে দুঃসময়ে আমরা মানুষের পাশে থাকলেও বিভন্ন সময়ে নানা সমস্যা নিয়ে মুখ বুঝে সহ্য করে আসছি। করোনা মহামরির সময় দেশের মানুষ যখন জীবন বাঁচাতে ঘরে নিরাপদে অবস্থান করেছে, তখন মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে জীবনের ঝুকি নিয়ে আমাদের সহকর্মীরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে দিয়ে গেছে অ্যাম্বুলেন্স সেবা। করোনা সংক্রমনের ভয়ে পরিবার প্রিয়জনকে ঘরে রেখে আমাদের সহকর্মীদের থাকতে হয়েছে হোটেল কিংবা গাছতলায়।

তিনি আরো বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা কিংবা চুড়িহাট্টা, সোহরাওয়ার্দী হাসাপাতালে আগুন, চট্টগামের বিএম কন্টেইনার ডিপুতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে শুরু করে দেশের যে কোন দুর্যোগ দুঃসময়ে অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীরা অতন্ত্র প্রহরীর মতো সেবা দিয়ে যেতে কোনো দিন কার্পণ্য করেনি। কিন্তু এর বিনিময়ে কোনদিন প্রতিদান চাইনি আমরা।

তিনি বলেন, জাপান থেকে আমরা অ্যাম্বুলেন্স আমদানি করি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে। বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন করি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবেই, অথচ আয়কর দেওয়ার সময় দিতে হয় প্রাইভেট গাড়ি হিসেবে। হাসপাতাল এবং ট্রাস্টি বোর্ডের অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে আয়কর নেওয়া হয় মাত্র ৫২ টাকা। অথচ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে অতীতে নেওয়া হতো ৩০ হাজার টাকা, এ বছর থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হবে বলে জানতে পেরেছি। সেবাখাতে একই দেশে দুই ধরনের আইন কি করে হয় সেটা আমাদের বোধগাম্য নয়। সেবার ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা এমন হটকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাই।

বাদল মাতব্বর বলেন, যদিও জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর সেবায় আমাদের অ্যাম্বুলেন্স অর্ন্তভুক্ত হয়ে সেবা দিয়ে আসছি আমরা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন, অ্যাম্বুলেন্স টোল ফ্রি থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রায় ২ বছর পার হয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি অদৃশ্য কারণে। আমাদের টোল ট্যাক্স অ্যাম্বুলেন্সের নেওয়া হলেও মানি রিসিট দেওয়া হয় মাইক্রোবাসের।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে ঘুরেও আমরা এর কোনো প্রতিকার পাইনি। জাতীয় নীতিমালার দাবিতে ৬৪ জেলায় মানবন্ধন করা হলেও হয়নি সুরাহা। উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হলেও সমাধান হয়নি। তাই আমরা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ণসহ ৬ দফা দাবি জানাচ্ছি।

অনতিবিলম্বে দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচি নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন সমিতির নেতারা।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা, সহ-সভাপতি মো. দবির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. উজ্জল হোসেন চৌধুরী, উপদেষ্টা চাঁন মিয়া, সমিতির ঢাকা জেলার সভাপতি আবু সালেহ খান রিপন প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ