পদযাত্রায় রাজধানীসহ সারাদেশে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:০২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পদযাত্রায় রাজধানীসহ সারাদেশে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৮, ২০২৩ ৮:৫২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৮, ২০২৩ ৮:৫২ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

সরকার পতনের এক দফা ঘোষণার প্রথমদিনের পদযাত্রায় রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে লক্ষীপুরে একজন নিহত ও সারাদেশে পুলিশ-সাংবাদিক ও কয়েকশ’ রাজনৈতিক নেকাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানী
পদযাত্রা ও শান্তি সমাবেশ ঘিরে রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর বাংলা কলেজ গেটের কাছে এ সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষে প্রায় অর্ধশত নেতা কর্মী আহত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি নেতাকর্মীরা পদযাত্রার উদ্দেশে বাংলা কলেজের সামনে সকাল থেকে জড়ো হচ্ছিলেন। তখন তাদের সঙ্গে মিরপুর বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষই সংঘর্ষে জড়ায়। বিএনপির বিক্ষুব্ধে কিছু কর্মী তখন একটি মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেলে আগুন দেন।

লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপি নেতাকর্মী। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের সামাদ মোড়, বাগবাড়ী ও তেরবেকী এলাকায় আলাদা আলাদা এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।

নিহতের নাম সজিব, তার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি জানা যায় নি।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, বিএনপি মিছিল নিয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে হাইওয়ে সড়কে উঠতে চাইলে পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। বিএনপি’র হামলায় সদরের ওসি মোসলেহ উদ্দিন, সদর সার্কেল সোহেল রানাসহ পুলিশের ১০জন আহত হন বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ী
পদযাত্রা কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির কার্যালয়ে দলটির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পদযাত্রায় অংশ নিতে সকাল থেকেই সশস্ত্র বিএনপি। নিজেদের বিবাদমান দুই পক্ষের কর্মীরা নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে লাঠিসোটাসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে দিয়েছেন মহড়া। এরপরই চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ।

জেলা বিএনপির আহবায়ক লিয়াকত আলী বাবু ও সাবেক সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মঙ্গলবার দুই পক্ষই আজাদী ময়দান এলাকার দলীয় কার্যালয়ে ঢোকা নিয়ে তর্কে। জড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর ভাংচুর করা হয় দলীয় কার্যালয়ের চেয়ার টেবিল ও কয়েকটি মোটরসাইকেল। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো.ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আজকে (মঙ্গলবার) বিএনপির পদযাত্রা ছিল। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে আমরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।’

পিরোজপুর
সকাল থেকেই পিরোজপুর শহরের আজাদী ময়দান এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থান নেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কামরুল আলম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ ছাড়াও এ গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম গ্রুপের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটাসহ মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকতে যায়। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। পরে এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যেকার উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নিলে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হন।

এ সময় দুপক্ষই দলীয় কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল, দরজা-জানালা ও কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।

কিশোরগঞ্জ
কি‌শোরগ‌ঞ্জে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপু‌রে শহ‌রের রথ‌খোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘ‌টে।

সকালে শহ‌রের গুরুদয়াল সরকারি ক‌লেজ মাঠ এক‌টি মি‌ছিল বের হয়। দুপুর সা‌ড়ে ১২টার দি‌কে মিছিলটি রথ‌খোলা মা‌ঠে প্রবেশ না ক‌রে পু‌লি‌শের ব্যারিকেড ভেঙে সাম‌নে যাওয়ার চেষ্টা ক‌রে। এ সময় পু‌লিশ বাধা দি‌লে পু‌লিশ‌কে লক্ষ্য ক‌রে ইটপাট‌কেল নি‌ক্ষেপ করা হ‌লে দু-প‌ক্ষের ম‌ধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় রথ‌খোলা থে‌কে আখড়াবাজার পর্যন্ত সংঘর্ষ ছ‌ড়ি‌য়ে প‌ড়ে। প‌ু‌লিশ রাব‌ার বু‌লেট ও টিয়ার‌শেল নি‌ক্ষেপ ক‌রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ফ‌লে পণ্ড হ‌য়ে যায় জেলা বি‌এনপির পদযাত্রা কর্মসূচি।

কি‌শোরগ‌ঞ্জের অতিরিক্ত পু‌লিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোস্তাক সরকার জানান, বিএন‌পি কর্মীরা বিনা উসকানিতে পু‌লি‌শের ওপর হামলা চালায়। তা‌দের ইটপাট‌কে‌লে বেশ ক‌য়েকজন পু‌লিশ সদস‌্য আহত হন। পরি‌স্থি‌তি নিয়ন্ত্রণ কর‌তে পু‌লিশ বেশ কিছু টিয়ারশেল ও রাব‌ার বু‌লেট নিক্ষেপ ক‌রে। ২০ মি‌নিট পর প‌রি‌স্থি‌তি স্বাভা‌বিক হয়।

বগুড়া
বগুড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা অনুমোদিত এলাকার বাইরে পদযাত্রা করতে চাইলে তাতে বাধা দেয় পুলিশ। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানিয়েছেন, অনুমোদিত রোডম্যাপ অনুসরণ না করে শহরের মূল কেন্দ্র সাতমাথায় যাওয়ার চেষ্টা করলে ইয়াকুবিয়া মোড়ে পদযাত্রায় বাধা দেয় পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা ছুড়তে শুরু করে দলটির নেতাকর্মীরা। এসময় ৮ থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ।

এদিকে টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বগুড়া ইয়াকুবিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের অন্তত ২৫ জন মেয়ে শিক্ষার্থী

ফেনী
ফেনীতে বিএনপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হয়েছেন। ফেনীর দাউদপোল থেকে পদযাত্রা নিয়ে জিরোপয়েন্টের দিকে যায় বিএনপি। এ সময় শহরের অপর একটি অংশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়ায় সংঘর্ষ এড়াতে বিএনপিকে ইসলামপুরের দিকে সরে যেতে বলে পুলিশ। কিন্তু উত্তেজিত বিএনপি নেতারা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এরই জেরে উভয়পক্ষের মধ্যে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, বিএনপি নেতাকর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুলিশকে লক্ষ করে ককটেল ও ইটপাটকেল ছোড়ে। পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়িতে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে শহরের ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় সংঘর্ষে জড়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী তাদের মধ্যে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। এসময় পৌরসভা কার্যালয় ভাংচুর করা হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে সংঘর্ষের সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা পাল্টা হামলায় সমগ্র এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় শহরের পৌরসভা কার্যালয় চত্বর, শাপলা চত্বর, আদালত সড়ক এলাকায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। প্রায় দু’ঘণ্টাব্যাপী এই তাণ্ডব চলাকালে পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট ও বিপণী বিতানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১২ নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন জেলা শহরে বিজিবি মোতায়েন করলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে।

এছাড়া নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের একদফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ