মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করলে চট্টগ্রামে এবার থানা ঘেরাও করার হুমকি বিএনপির - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫৫, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করলে চট্টগ্রামে এবার থানা ঘেরাও করার হুমকি বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩, ২০২৩ ৫:২৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩, ২০২৩ ৫:২৭ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেছেন, গত ১৬ দিনে লোহাগাড়া, পটিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ এবং বোয়ালখালী থানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করে ৫টি গায়েবি মামলা করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এসব মিথ্যা মামলা সুষ্ঠু তদন্ত করে অবিলম্বে প্রত্যাহার না করলে থানা ঘেরাওয়ের মতো কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আবু সুফিয়ান বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ভোট চুরির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে বিএনপি। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচিতে দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে। সরকারের প্রতিটি ক্ষেত্রে দলীয়করণ, সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, মানুষের ওপর জুলুম নির্যাতন দেখে বিশ্ববাসী সরকারের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে আমেরিকা ভিসানীতি প্রয়োগ করেছে। দেশে-বিদেশে মানুষের কাছে আস্থা হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে সরকার।

তিনি বলেন, গত ১৬ জুলাই পটিয়া থানায়, ২০ জুলাই বাঁশখালী থানায়, ২২ জুলাই লোহাগাড়া থানায়, ২৮ জুলাই চন্দনাইশ থানায় এবং ১ আগস্ট বোয়ালখালী থানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করে পাঁচটি মামলা করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। প্রত্যেক মামলায় একই ধারাগুলো ব্যবহার করে শুধুমাত্র স্থান, সময়, বাদী এবং আসামিদের নাম ব্যতীত সম্পূর্ণ মিল রেখে ঘটনা বর্ণনা করেছে। প্রতিটি মামলায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের ধারা উল্লেখ করেছে, যাতে করে মামলা কঠিন হয়। অথচ ওইসময় ওই এলাকাতে কোনোপ্রকার জমায়েত, মিছিল সমাবেশ বা অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

আবু সুফিয়ান বলেন, চন্দনাইশ থানার মামলায় যাদের আসামি করা হয় তাদের মধ্যে পবিত্র হজ পালনের জন্য দেড় মাস সৌদি আরবে ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী ও সাইফুল করিম। তারা দেশে আসেন গত ৩০ জুলাই। অথচ ২৮ জুলাই চন্দনাইশ পৌরসভা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তার মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আগের দিন সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে হজে থাকা ওই দুজনসহ ১২০ জন মিলে তাকে মারধর করেছেন। ওই সময় তাদের হাতে ছিল লাঠিসোঁটা ও পেট্রোল বোমা। বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইন এবং ভাঙচুর মারধরের অভিযোগে এই মামলা হয়। ঘটনার সময় উল্লেখ করা হয়েছে ২৭ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টা। ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে পৌরসভার গাছবাড়িয়া এলাকা। অথচ সেদিন ওই এলাকাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। একইভাবে অন্যান্য থানায় গায়েবি মামলা হয়েছে।

পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা প্রজাতন্ত্রের চাকরি করেন, কোনো দলের নয়। প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা প্রদান করা আপনাদের দায়িত্ব। আপনারা কোনো দলের আজ্ঞাবহ না হয়ে জনগণের সেবক হয়ে থাকুন। হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের বন্ধ করে জনগণের অধিকার আদায়ে আমাদেরকে সহায়তা করুন।

তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাঁচ থানাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে দায়েরকৃত এসব মিথ্যা গায়েবি মামলায় বিএনপি নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এসব মামলা প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ