অপরাধী না হয়েও কেন সাজা পাবেন ডা. জুবাইদা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩, ২০২৩ ১১:৪৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩, ২০২৩ ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

আমিরুল ইসলাম কাগজী ও অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আরেকটি ফরমায়েশি মামলায় ৯ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের এই ফরমায়েশি মামলায় তিনি একা নন,সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর সহধর্মিণী দেশের একজন মেধাবী হৃদরোগ চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানকেও । এই দুর্নীতি মামলায় তাঁকে জড়ানো হয়েছে ৩৫ লক্ষ টাকার এফডিআর এর অর্থ তিনি কোথায় পেলেন সেই তথ্য দেওয়া হয়নি অথবা গোপন করা হয়েছে-এই অভিযোগে।
এই ৩৫ লক্ষ টাকার এফডিআর এর উৎস খুঁজে বের করতে দুর্নীতি দমন কমিশন এই মামলাটি করে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অবৈধ মইন-ফখরুদ্দিনের আমলে। মামলার বিবরণীতে তারা দেখায় যে তারেক রহমানের টাকায় ডা. জুবাইদা ৩৫ লক্ষ টাকার এফডিআর করেছেন। কিন্তু এই ৩৫ লক্ষ টাকার আয়ের উৎস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ডা. জুবাইদা তাঁর স্বামীর সাথে যোগসাজসে অবৈধ পন্থায় এই ৩৫ লক্ষ টাকার মালিক হয়েছেন। মামলার এক অংশে ডা. জুবাইদা রহমানের মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়, তারেক রহমানের টাকায় বড়লোক হওয়ার অভিযোগে। এই মামলায় ২০০৭ সালের ৭ ডিসেম্বর তারেক রহমানকে শন অ্যারেস্ট দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।
এই দুর্নীতি মামলা চলতে পারে না বলে এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয় এবং হাইকোর্ট ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে।সেখানে বলা হয় এই ৩৫ লক্ষ টাকার মালিক হচ্ছেন সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু। তিনি হাইকোর্টকে বলে এসেছেন এই টাকা তিনি তার কন্যাকে দিয়েছেন বাড়ি ভাড়ার অংশ থেকে। হাইকোর্ট ইকবাল মান্দ বানুর কথায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন এবং স্বীকার করে নিলেন যে এই ৩৫ লক্ষ টাকার এফডিআর সম্পূর্ণ বৈধ। সেই বৈধ টাকা তিনি দিয়েছেন তার কন্যা জুবাইদাকে। ডা. জুবাইদা নিজের ট্যাক্সফাইল না থাকায় তিনি এই এফডিআর স্বামী তারেক রহমানের ট্যাক্সফাইলে প্রদর্শন করান। অর্থাৎ এটা অপ্রদর্শিত অর্থ নয়। এই ৩৫ লক্ষ টাকা বৈধ বলে রায় দিলেন হাইকোর্ট। এরপর ইকবাল মান্দ বানুর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলা থেকে তাকে অব্যহতি দেয়া হয়।
এরপর ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল হাইকোর্টের বিচারক ওবায়দুল হাসান ও বিচারক কৃষ্ণা দেবনাথের দ্বৈত বেঞ্চ হাইকোর্টের পূর্বের স্থগিতাদেশ বাতিল করে মামলা চালানোর নির্দেশ দিলে মামলা আবার সচল হয়। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে সেখানে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে ২০২২সালের ১৩ এপ্রিল আদেশ দেন। ব্যাস এরপর মামলা চলে রকেট গতিতে।
ডা.জুবাইদাকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকার জজ আদালতের স্পেশাল জজ জনাব আছাদুজ্জামানকে।সে দায়িত্ব তিনি রিলিজিয়াসলি পালন করেছেন। তিনি দেখলেন ৩৫ লক্ষ টাকার এফডিআর। একজন চিকিৎসকের কাছে এত টাকা আসলো কোত্থেকে? ৩৫ লক্ষ টাকা কিন্তু এক হাজার কোটি টাকার চেয়ে বেশি মূল্যবান। তাইতো রাতদিন ২৪ ঘন্টা খেটেখুটে সাক্ষী সাবুদ জোগাড়যন্ত্র করে রকেট গতিতে তিনি প্রমাণ করে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান অবৈধভাবে ৩৫ লক্ষ টাকা উপার্জনে তার স্বামী তারেক রহমানকে সহায়তা করেছেন। অতএব তাকে ৩ বছরের সাজা খাটতেই হবে। আর এই ৩৫ লক্ষ টাকার এফডিআর বাজেয়াপ্ত হবে।
এখন আমরা সাদা চোখে যা দেখলাম তা হলো —
৩৫ লক্ষ টাকার বিচার দুই বার দুই আদালত থেকে করা হলো
১। উচ্চ আদালত আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ ৩৫ লক্ষ টাকা দেওয়া এবং নেওয়া বৈধ বলে সৈয়দা ইকবাল মানদ বানুকে এই মামলা থেকে খালাস বা অব্যাহতি দিয়েছেন।
২। ঐ ৩৫ লক্ষ টাকার দান সূত্রে মালিক হলেন চিকিৎসক জুবাইদা রহমান। এই টাকার উৎস লেনদেন সব প্রক্রিয়া আইনসম্মত হয়েছে বলেই আপীল বিভাগ আইন সম্মত রায় দিয়েছেন। এবার আগস্ট ২, ২০২৩ তারিখে ঐ একই টাকা ৩৫ লক্ষ টাকার বিচার আবার করলেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জনাব আছাদুজ্জামান সাহেব। একই বৈধ টাকা।
রায় কোন আদালতেরটা বৈধ বা সঠিক বা আইনসস্মত ?
কেন চিকিৎসক জুবাইদা রহমান অপরাধী না হয়েও এই অপবাদ পেলেন।
এই অপবাদের বিচার বা দায় কে নিবে?
জনতার আওয়াজ/আ আ