বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না, শেখ হাসিনার পদত্যাগ চায় : আব্দুর রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:২০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না, শেখ হাসিনার পদত্যাগ চায় : আব্দুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ৫, ২০২৩ ৫:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ৫, ২০২৩ ৫:০৮ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
শনিবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিশিষ্ট ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শহিদ শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আব্দুর রহমান বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের শুক্র একটি রাজনৈতিক অপশক্তি আজকে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। নতুন করে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা শেখ হাসিনার অর্জন ও অগ্রগতিকে রুখে দিতে এক মহাচক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেন শেখ হাসিনার পদত্যাগ করতে হবে। এতদিন শুনেছি তার একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চান। এখন শুনি তাদের এক দফা শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আমার একটি প্রশ্ন রয়েছে তাদের কাছে যারা বিশেষ করে নানা ধরনের ওকালতি ও দৌড়ঝাঁপ করছেন। সেই রাজনৈতিক অপশক্তিটি কি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চায় নাকি তাদের মূল লক্ষ্য হলো শেখ হাসিনার পদত্যাগ। তাদের মূল লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন নয়, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে শেখ হাসিনার পদত্যাগ।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। কোনো একজন পলাতক দণ্ডিত আসামির ইশারায় শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বাংলাদেশের শুরু থেকে স্বাধীনতা পর্যন্ত প্রথম এবং প্রধান শক্তি হলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রধানমন্ত্রী সবসময় এই ছাত্রলীগকে নিয়ে গর্ব করেন। ছাত্রলীগ দেশের যে কোন অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিজেদের প্রস্তুত রেখেছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আপনাদের অশুভ স্বপ্নকে জীবনের তরে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবে।

দেশের মানুষ সংবিধানিকভাবে নির্বাচন চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য দেশের সব মানুষ প্রস্তুত হয়ে গেছে। তারা সংবিধানিকভাবেই এদেশে নির্বাচন চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া। সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পথে যারা অন্তরালের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, যারা নির্বাচনকে ভণ্ডুল করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান, যারা বাংলাদেশকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করতে চায়, তাদের স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না।

শেখ কামাল দক্ষ সংগঠন ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা শেখ কামালের ৭৪তম জন্মদিন আমরা পালন করছি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কি শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা করা। নিশ্চয়ই তা নয়। বঙ্গবন্ধুর পরিবার হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে তারা হত্যা করেছিল। কামাল ভাই সেতার বাদক ছিলেন। তিনি একজন নাট্যকর্মী ছিলেন। তিনি কবিতা পছন্দ করতেন। খেলার জগতে আধুনিকতার ছাপ বিশেষ করে ফুটবলে তিনি এনেছেন। তারা শুধু শেখ কামালকে হত্যা করিনি, সেতারের সুরকে যারা ভালোবাসে, কবিতার শব্দকে যার আত্মস্থ করে, যারা নাটকের মর্মবাণী বোঝে এবং জীবনে ধারণ করে তারা এ কাজ কখনোই করতে পারে না। তিনি সবকিছুর মধ্যে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

আলোচকের বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, এ মাসে শেখ কামাল জন্মগ্রহণ করেন। ঘাতকের নিষ্ঠুর বুলেটের আঘাতে তিনি এ মাসেই মৃত্যুবরণ করেন। শেখ কামাল একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। সুঠাম দেহের অধিকারী শেখ কামাল যখন ক্রিকেটের প্রচলন ছিল না তখন তিনি ক্রিকেট খেলতেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলের বাস্কেটবলের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃহল প্রতিযোগিতায় এস এম হলকে বারবার চ্যাম্পিয়ন করেছেন। তিনি মঞ্চনাটকেও যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। কলকাতায় মঞ্চ নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নাট্য সংসদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সেই নাট্য সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সংগঠক হিসেবে দক্ষ সংগঠক ছিলেন। তিনি ফুটবলে জন্য কাজ করেছেন। তিনি একজন বিদেশি কোচকে এদেশে এনে এদেশের ফুটবল টিমকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। তিনি যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে তার সাংগঠনিক আদর্শ ও নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা অলিম্পিকে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারতো।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র জীবনে শেখ কামালের বিরুদ্ধে আমরা অনেক কথা শুনতাম। আমাদের মেজর ডালিমের স্ত্রীর কথা বলা হতো, ব্যাংক ডাকাতির কথা বলা হতো। অথচ এগুলো ছিল মিথ্যা তথ্য। এগুলোকে পুঁজি করে একটি রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা তখন চালানো হয়েছিল। এসব কথা বলে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এগুলোর মাধ্যমে ক্ষণিকের জন্য নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু মিথ্যাকে কখনো চূড়ান্ত বিচারে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। চূড়ান্ত বিচারের সে সমস্ত বিষয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই আমরা আজ সংগঠক শেখ কামালকে নিয়ে আলোচনা করি‌।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার যাতে না হয় সেজন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হলো। এটি ছিল একটি অধ্যাদেশ। খুনি ষড়যন্ত্রকার খন্দকার মোস্তাক সেটি করেছে। কিন্তু এই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করল জিয়াউর রহমান। আমরা যখন বলি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে জিয়া রহমান জড়িত তখন যারা বিএনপি করেন তারা মানতে চায় না।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ