গণতন্ত্র লাইফ সাপোর্টে, আ’লীগ ব্যস্ত সেলফিতে : সমাবেশে বিএনপি নেতারা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৩৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণতন্ত্র লাইফ সাপোর্টে, আ’লীগ ব্যস্ত সেলফিতে : সমাবেশে বিএনপি নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩ ২:৩২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩ ২:৩২ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে বড় সমাবেশ করেছে বিএনপি। সরকার পতনের এক দফা দাবিতে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির এ সমাবেশে নেতাকর্মীর ঢল নামে। সমাবেশে বিএনপি নেতারা বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র এখন লাইফ সাপোর্টে থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতারা ব্যস্ত সেলফিতে। গায়েবি মামলা ও গ্রেপ্তার করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। কারণ এ আন্দোলনের সঙ্গে সারাবিশ্ব রয়েছে। সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। দানবীয় সরকারের হাত থেকে দেশ, গণতন্ত্র ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে। এ সময় নেতাকর্মী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার শপথ করেন।

সমাবেশ ঘিরে বাদ জুমা রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হন। তারা ব্যানার-ফেস্টুন ও কারাবন্দি নেতাদের প্ল্যাকার্ড বহন করেন। সরকারবিরোধী স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকিম্পত করেন। বেলা ৩টায় সমাবেশ শুরুর আগেই ফকিরাপুল থেকে নাইটিংগেল মোড় পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে নেতাকর্মী অবস্থান নেন। আশপাশের অলিগলিতেও তাদের সঙ্গে দল সমর্থক বিভিন্ন পেশাজীবী ও সমর্থকরা অবস্থান নেন।
সমাবেশের আগে সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, আগামী সোমবার এক দফা আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তারা।

ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে সমমনা সব দল ও জোটকে নিয়ে এ আন্দোলন সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এককভাবে বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন– ছাত্রদল, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আজ শনিবার রংপুর থেকে শুরু হচ্ছে রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ। দেশের পাঁচ বিভাগে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

নয়াপল্টনের সমাবেশে নেতাকর্মীর সাজা ও মামলার চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, সরকার তত অজুহাত খাড়া করে গায়েবি মামলা ও গণগ্রেপ্তার চলাচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে চলমান আন্দোলন ব্যাহত করতেই এটি করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর প্রধান আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলানের কারাদণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশে ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে মানুষ খুনের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলছেন, তাদেরই টার্গেট করে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আদিলুর রহমান খান ও এলানকে এ জন্যই কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ সারাবিশ্ব সরকারের এ নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছে ও তাদের মুক্তি দাবি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রেজ্যুলেশন করে বলেছে, এ মামলা বাতিল করে তাদের মুক্ত করা হোক এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হোক, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হোক।

নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে বছরের শ্রেষ্ঠ কৌতুক আখ্যা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেছেন– ‘আমি এত ভালো ভালো নির্বাচন করি আর দেশে-বিদেশে প্রশ্ন করে, নির্বাচন ভালো হয় না।’ তাঁর এ বক্তব্য টক অব দি ইয়ার, বছরের শ্রেষ্ঠ কৌতুক। আওয়ামী লীগ ভালো নির্বাচন করে– এ কথা বিশ্বাস দূরে থাক শুনে ঘোড়াও হাসে।
তিনি বলেন, নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নীরব মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে। ভারতের গণমাধ্যম বলেছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন লাইফ সাপোর্টে। এর পরও সরকারের বোধদয় হয় না। তারা ব্যস্ত সেলফি নিয়ে।

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এভাবে মিথ্যা, গায়েবি মামলা ও আটক করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। আমরা আর মামলাকে ভয় পাই না। পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। আন্দোলন সফল হবেই।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকার জুতা মেরে গরু দানের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অসহনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ না করে ভোটের আগে নতুন ফন্দি হিসেবে ৩০০ কোটি টাকার গরু-ছাগল বিতরণ করছে। জনগণ এসব গরু-ছাগল চায় না, তারা ভোটাধিকার চায়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ চায়।’ স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশে আজকে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু হয়েছে। এটি করেছে বর্তমান সরকার।’
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের প্রতিপক্ষ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এ আন্দোলন দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র কুক্ষিগতকারীদের বিরুদ্ধে, ভোট চোরের বিরুদ্ধে। একটি ভয়াবহ রেজিমের বিরুদ্ধে। এই লুটেরাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।’

মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, যুবদলের শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ বক্তব্য দেন।সমকাল

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ