বিরোধী জোটের ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধে ঝরলো ৩ প্রাণ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:০১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিরোধী জোটের ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধে ঝরলো ৩ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ১, ২০২৩ ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ১, ২০২৩ ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

 

সূত্রঃ মানবজমিন
সরকার পতনের একদফা দাবিতে বিরোধী জোটের ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধের প্রথম দিন সারা দেশে থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিল রাজধানী ঢাকা। গতকাল ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও মহাসড়কে মিছিল বের করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় বিভিন্ন জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও বেশকিছু যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের গুলিতে বিএনপি’র দুই কর্মী ও সিলেট নগরীর লালাবাজারে পুলিশের ধাওয়ায় যুবদল নেতা দিলু আহমদ জিলু নিহত হন। জিলু হত্যার প্রতিবাদে সিলেট বিভাগে বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে সিলেট যুবদল। দুই কর্মী হত্যার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ জেলায় আজ আধাবেলা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওদিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ৩ পুলিশসদ্যসহ আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ঘটনাস্থল থেকে বিএনপি’র ৪ কর্মীকে আটক করা হয়।

চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ৩ গাড়িতে আগুন ও বিএনপি’র শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। মানিকগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল করতে গেলে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ মিছিল থেকে বিএনপি’র ৫ নেতাকর্মীকে আটক করে। ঢাকার মাতুয়াইলে পুলিশ-বিএনপি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।
এছাড়া কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এদিকে বিএনপি’র অবরোধের কারণে রাজধানী থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। রাজধানীতে স্বল্পসংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করলেও রাস্তাঘাট ছিল অনেকটা ফাঁকা। কোথাও কোনো ধরনের যানজট চোখে পড়েনি। আতঙ্কে লোকজন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হননি। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়িও খুব একটা চলাচল করতে দেখা যায়নি। ওদিকে অবরোধের প্রভাব পড়ে সদরঘাট লঞ্চঘাটেও। যাত্রী সংকটের কারণে লঞ্চ চলাচল করতে দেখা যায়নি। সারা দিনই লঞ্চঘাট ছিল ফাঁকা। যথাসময়ে ট্রেন চলাচল করলেও তেমন যাত্রী ছিল না। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের সব মহাসড়কে সকাল থেকেই পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়। অবরোধ বিরোধী অবস্থানে ছিল আওয়ামী লীগ। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দলটির নেতাকর্মীরা দিনভর সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। এছাড়া সারা দেশে তারা শান্তি সমাবেশ করেছেন।

এদিকে হরতালের পর ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির প্রথমদিন সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন, ২৯শে অক্টোবরের হরতালে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেভাবে মাঠে না থাকলেও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করেছে। অবরোধের প্রথম দিন রাজধানীসহ সব জেলা শহরে মাঠে ছিল বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে ছিলেন। তারা দাবি করছেন, বিএনপি’র চলমান কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের একধরনের মৌন সমর্থন রয়েছে। কর্মসূচি পালনে সাধারণ মানুষ বাধা দেননি। এতে দলের নেতাকর্মীরা অনেকটা উজ্জীবিত। সামনের কর্মসূচি আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবেন তারা।

বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বিএনপি’র নীতি-নির্ধারণী ফোরামের এক নেতা বলেন, জনগণের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে সরকার ২৮শে অক্টোবর মহাসমাবেশের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়। এরপর মহাসমাবেশে লোকসমাগম ঠেকাতে সরকার বাস বন্ধ করে দেয়া, নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার ও রাজধানীর প্রবেশমুখে তল্লাশিচৌকি বসায়। তাতেও মানুষের ঢল ঠেকাতে পারেনি। এরপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে সমাবেশ পণ্ড করে দেয়। এতে সরকারের চূড়ান্ত পরাজয় হয়। এরপর ২৯শে অক্টোবর বিএনপি’র ডাকা হরতাল সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হয়। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ৭২ ঘণ্টার অবরোধও সর্বাত্মকভাবে পালিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে না। এতে প্রমাণিত হয়, বিএনপি’র চলমান আন্দোলনে সাধারণ মানুষের নীরব সমর্থন রয়েছে। দেশের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর প্রতিনিধি জানান, সকালে কর্মসূচির শুরুতেই কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল ৮টার দিকে এ সংঘর্ষে রেফায়েত উল্লাহ তনয় (২৪) ও বিল্লাল হোসেন রনি (৪০) নামে বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনের দুই নেতা নিহত হন। উভয়েই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন। নিহত দু’জনের মধ্যে রেফায়েত উল্লাহ তনয় ছয়সূতী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং বিল্লাল হোসেন রনি ছয়সূতী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি। তাদের মধ্যে রেফায়েত উল্লাহ তনয় ছয়সূতী ইউনিয়নের বড় ছয়সূতী চকবাজার গ্রামের কাউসার মিয়ার ছেলে এবং বিল্লাল হোসেন রনি মাধবদী গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে। এদিকে জেলার ভৈরবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনার পর পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ভৈরব কমলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপি’র অস্থায়ী কার্যালয় ও উপজেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সুজনের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। অন্যদিকে সকালে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ সেখানে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদরের কাতিয়ারচর মোল্লাপাড়া এলাকার সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করার সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার সগড়া বিশ্বরোড এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হলে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে রেললাইন অবরোধ ও বিক্ষোভ করে অবরোধকারীরা।

নিহত রেফায়েত উল্লাহ তনয়ের চাচা মো. আবুল কালাম ও ভগ্নিপতি ফয়সাল মিয়া জানান, রেফায়েত উল্লাহ তনয় ছয়সূতী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি। দুই বছর আগে সে বিয়ে করে। তার ৬ মাস বয়সী একটি শিশু সন্তান রয়েছে। সকালে সে অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দিলে পুলিশ ও বিএনপি’র সংঘর্ষের সময় রেফায়েত উল্লাহ তনয় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যায়।

অন্যদিকে নিহত বিল্লাল হোসেন রনির মা নাজমা বেগম ও স্ত্রী আন্না বেগম জানান, সকালে এলাকা থেকে বিএনপি’র অনেক নেতাকর্মী আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য যাচ্ছিলো। এ সময় বিল্লাল হোসেন ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে অন্যদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে তারা খবর পান, বিল্লাল হোসেন রনি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত বিল্লাল হোসেন রনির মা নাজমা বেগম ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি মো. শরীফুল আলম বলেন, সারা দেশে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সকালে ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছিলেন। এই মিছিলে বিনা উস্কানিতে পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে আমাদের অঙ্গসংগঠনের দুইজন নেতা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন। আমরা পুলিশের এই বর্বরতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, সকাল ৮টায় সশস্ত্র অবস্থায় একদল সন্ত্রাসী অবরোধ সৃষ্টি করতে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় আমরা গুলির শব্দও শুনতে পাই। তাদের বাধা দিতে গেলে তারা চারদিক দিয়ে আমাদের ঘিরে ফেলে। আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা চালায়। প্রতিরক্ষার্থে আমরা রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করি। এ ঘটনায় আমিসহ থানার কর্তব্যরত এএসআই মান্নান, এএসআই সাকিনুর, এএসআই জুয়েলসহ কমপক্ষে ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

এদিকে অবরোধ কর্মসূচিতে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিশোরগঞ্জ জেলার জন্য তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে জানান অবরোধের শুরুতেই উত্তাপ বেড়ে যায় সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একাধিক স্থানে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নেমে পড়ে। এ সময় লালাবাজার, অতিরবাড়ি, চণ্ডিপুল বাইপাসসহ কয়েকটি স্থানে অবরোধ দিয়ে অন্তত ১৫টি যানবাহনে ভাঙচুর চালায় বিএনপি’র কর্মীরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। বাইপাসে ঢাকা থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে তারা। এসব ঘটনার পর সক্রিয় হয়ে উঠে টহলে থাকা বিজিবি ও পুলিশ। বিএনপি ও যুবদলের কর্মীরা জানিয়েছেন, সকাল ৯টার দিকে ১০টি মোটরসাইকেলের একটি বহর নিয়ে যুবদলের ২৫-৩০ নেতাকর্মী শহরতলীর লালাবাজার পয়েন্টে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি টিম ওই এলাকায় যায়। এ সময় লালাবাজারে পুলিশের ধাওয়ার পর গাড়িচাপায় যুবদলকর্মী দিলু আহমদ জিলু ও সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হন। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে লালাবাজার যায় গোলাপগঞ্জ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দিলু আহমদ জিলু। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ধাওয়া দিয়ে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন জিলু। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বেলা দুইটার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর আসে বলে জানান তিনি।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ জানিয়েছেন, সকালে পিকেটিং করার সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুইজন আহত হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। দুপুরের দিকে জিলু মারা যায়। এর আগে সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের লালাবাজারের নিকটবর্তী অতিরবাড়ি নামক স্থানে পিকেটিং চালায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলকর্মীরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যানবাহন চলার সময় তারা রাস্তায় নেমে গাছ ও ড্রাম ফেলে অবরোধ করে। এরপর তারা ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় অন্তত ১০টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে বিজিবি’র একটি টিম সেখানে যায়। এরপর পুলিশের টিমও পৌঁছায়। পরে পুলিশ ও বিজিবি’র সদস্যরা মিলে বিএনপি’র কর্মীদের ধাওয়া দেয়। পুলিশ ও বিজিবি’র সঙ্গে কিছু সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর বিএনপিকর্মীরা ওই এলাকা থেকে সরে যায়। এর পরপরই তারা লালাবাজার এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল।

এদিকে সকালে চণ্ডিপুল বাইপাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। সিলেট নগর বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীরা বাইপাসে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে ঢাকা থেকে আসা একটি বাসে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ ওই এলাকার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার সময় ওই এলাকা থেকে বিএনপি ও যুবদলের ৩ সদস্যকে আটক করে পুলিশ। সকাল ১০টার পর সিলেট ছাত্রদলের কর্মীরা ঢাকা-সিলেট রেলপথের বারখলা এলাকায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা রেললাইনে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশের টিম সেখানে যাওয়ার পর ছাত্রদলকর্মীরা পালিয়ে যায়।

এদিকে স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, চট্টগ্রামে অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে তিনটা বাস। আটক হয়েছেন শতাধিক নেতাকর্মী। নৌপথ ও রেলপথে অবরোধের তেমন প্রভাব না পড়লেও সড়ক যোগাযোগ অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাস্তায় হাতেগোনা কয়েকটি গণপরিবহন থাকলেও যাত্রী ছিল অনেক কম।সূত্রঃ মানবজমিন

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ