কারাগারে আব্বাসের সঙ্গে অসদাচরণ করা হচ্ছে: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ৪, ২০২৩ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ৪, ২০২৩ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বিএনপির শীর্ষ নেতারা কারাগারে উল্লেখ করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা কারাগারে। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রচন্ড অসদাচরণ করা হচ্ছে। তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। তার উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগে তিনি আক্রান্ত। গ্রেপ্তারের পর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে, সেখানে তাকে কোন ঔষধ পর্যন্ত দেয়া হয় নাই। এক মনুষ্যত্বহীন অবিচারে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। শনিবার ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায়শই বলেন- জনগণ নাকি তার সঙ্গে আছে। কয়েকদিন আগে বিদেশি একটি সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, জনগণই নাকি তার মূল শক্তি। তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিজে পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিচ্ছেন না কেন? জনগণ সঙ্গে থাকলে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে ভয় পাচ্ছেন কেন? কেন আপনি নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপিসহ বিরোধী দলের কর্মসূচিতে নৃশংস হামলা চালিয়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে কারান্তরিন করেছেন? কেন আপনি দেশব্যাপী ব্যাপক ধর-পাকড় করছেন বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। নেতাকর্মীদের ধরতে গিয়ে তাদের বাসায় না পেয়ে তার বাবা বা ভাইকে ধরে আটক করছেন?
রহুল কবির রিজভী বলেন, উদ্ভট গায়েবি মামলার নতুন নতুন মডেল আমরা দেখতে পাচ্ছি।
ঢাকাতে গ্রেপ্তার যুবদল নেতা মামুন বরিশালে ককটেল নিক্ষেপের মামলা করা হয়েছে। জেলে থেকে নাকি ট্রাকে পেট্রোল নিক্ষেপ করেছেন বিএনপি নেতা কাঁকন। এ সমস্ত হাস্যকর তামাশার মামলা দিয়ে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের জুলুম আর হয়রানির ভয়ঙ্কর আবর্তের মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে ফসলের মাঠসহ বনে বাদারে নানা অনাবাসযোগ্য জায়গায় নেতাকর্মীদের আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ২৮শে অক্টোবরের ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে যেগুলো প্রকাশ পেয়েছে তার প্রতিটাতেই দেখা যায় পুলিশের পাশে লাঠিসোটা নিয়ে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা হাঁটছে। আইনশৃঙ্খলা ও আওয়ামী ক্যাডার যৌথ বাহিনীর আগ্রাসনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী আগ্রাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে। বিএনপি ডাকা হরতাল ও অবরোধে পুলিশ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ একযোগে মোকাবেলা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী ক্যাডাররা একে অপরের পরিপূরক।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও আহতদের তথ্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, এসময়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ১৭৬ জনের অধীক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মামলা দায়ের করা হয়েছে ৬টি এবং আসামী করা হয়েছে ৫৭৫ জনের অধীক নেতাকর্মীকে।
জনতার আওয়াজ/আ আ