ময়লা নিতে গড়িমসি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:০৯, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ময়লা নিতে গড়িমসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুন ৩, ২০২২ ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুন ৩, ২০২২ ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ

 
  • প্রতিটি বাসা থেকে নেয়া হচ্ছে ময়লাবাবদ দ্বিগুণ বিল
  • বাড়ির সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ব্যাগভর্তি গৃহস্থালি বর্জ্য
  • জমে থাকা বর্জ্য থেকে সর্বত্র ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ
  • রাজধানীর একেক এলাকায় একেকরকম বিল আদায়
  • বিল নিয়ে আপত্তি করে ফেলে রাখা হয় ময়লা

বাসার সামনে রাখা হয়েছে পলিথিনভর্তি ময়লা। ময়লা নিতে করে গড়িমসি, বিল নির্ধারণ করেছে ইচ্ছামতো আর আদায় করছে সময়মতো। দুই-তিনদিনের জমে থাকা বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পরিচ্ছন্নকর্মীদের বলতে গেলে রেগেও যান তারা।

সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত বিলের অতিরিক্ত বিল নেয় ওয়ার্ডভিত্তিক গড়ে উঠা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিটি বাসা থেকে নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ ময়লাবাবদ বিল। তবে এলাকাভেদে তা নেয়া হচ্ছে তিন থেকে চারগুণ বেশি।

রেস্টুরেন্টের জন্য সিটি কর্পোরেশন থেকে এ বিল নির্দিষ্ট করা হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে নেয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর মনমতো করা নির্ধারিত ফি-তেই তা আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে বাসাবাড়ির বর্জ্য জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন নগরের বাসিন্দারা। অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ, আদায় ও বর্জ্য নিয়মিত না নেয়ার অভিযোগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের। ময়লার এ অব্যবস্থাপনা রোধে নিয়মিত তা তদারকির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

সিটি কর্পোরেশন আইনে বলা আছে, কর্পোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার পাত্র বা অন্য কোনো আধারের  ব্যবস্থা করবে। কর্পোরেশন সাধারণ নোটিস দিয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর ও জায়গা জমির দখলদারদের তাদের ময়লা বা আবর্জনা ওই পাত্র বা আধারে ফেলার জন্য নির্দেশ দিতে পারবে। কর্পোরেশন নির্ধারিত স্থান থেকে ময়লা সংগ্রহ করে ভাগাড়ে নিয়ে যাবে।

আর নাগরিকরা তাদের বাসাবাড়ির বর্জ্য কর্পোরেশনের নির্ধারিত বিনে পৌঁছে দেবে। কিন্তু দেখা গেছে, বর্তমানে বাসাবাড়ির বর্জ্য কোনো নাগরিকই সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেয় না।

এই সুযোগে গত ১৮ বছর ধরে গৃহস্থালি বর্জ্য সরিয়ে নিতে কাজ করছে ওয়ার্ডভিত্তিক গড়ে উঠা বিভিন্ন বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আর ২০০০ সাল থেকে প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডারও? (পিডব্লিউসিএসপি) বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

প্রথমদিকে বর্জ্য সংগ্রহবাবদ ফি নেয়া হতো ২০ থেকে ৫০ টাকা। পরে সিটি কর্পোরেশন থেকে বাসাপ্রতি ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে ময়লা নেয়া বাবদ এ ফি নেয়া হচ্ছে ১২০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। রেস্টুরেন্ট থেকে ইচ্ছামতো বিল আদায় করা হচ্ছে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, কর্পোরেশনের আওতাধীন বাড়ির মালিকরা তাদের বাড়ির মোট মূল্যের ১২ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে ৭ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স, তিন শতাংশ সড়ক বাতি ও দুই শতাংশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য। অর্থাৎ মোট হোল্ডিং ট্যাক্সের ২৫ শতাংশই দেয়া হয় ময়লা ব্যবস্থাপনার জন্য।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি ও দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসাবাড়ির সামনে ময়লা ফেলে রাখা হয়েছে। আর নতুন ওয়ার্ডগুলোতে ময়লা নেয়া নিয়ে এ অব্যবস্থাপনা আরও বেশি। নির্ধারিত ফির বিনিময়ে বাসাবাড়ি থেকে প্রতিদিন বর্জ্য নেয়ার কথা থাকলেও সব এলাকা থেকে ময়লা নিয়মিত নেয়া হচ্ছে না।

এদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার নামে পাঁচ থেকে ১০ গুণ খরচও বাড়ানো হয়েছে। আর রেস্টুরেন্ট বা খাবার হোটেলগুলো থেকে বর্জ্য নেয়ার কাজে নিয়োজিত প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছামতো বিল আদায় করছে। ময়লার বিল একেক এলাকা থেকে একেকরকম নেয়া হচ্ছে। এলাকাভেদে ১২০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

তবে অভিজাত এলাকায় ময়লা নিয়মিত নেয়ার জন্য বিল নিচ্ছে বহুগুণ বেশি। আবার একই এলাকার বাসিন্দার কাছ থেকে একেকরকম বিল নিচ্ছে। ফলে একরকম বাধ্য হয়েই এ বিল দিচ্ছেন নগরবাসী। পরিচ্ছন্নকর্মীদের ময়লা নিয়মিত না নেয়ার বিষয়ে বলতে গেলে তারা বাসিন্দাদের সাথে খারাপ আচরণ করে থাকেন। আর বাড়তি টাকা দিতে কেউ আপত্তি জানালেই বর্জ্য ফেলে রাখা হচ্ছে।

রাজধানীর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা মেহেরুন্নেছা মুন্নি বলেন, আমাদের বাসা থেকে দুই তিনদিন পরপর ময়লা নেয়। ময়লা জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আমাদের বাসায় অবস্থান করা কঠিন হয়ে যায়। আমাদের কাছ থেকে এ বিল মাসের শুরুতেই নিচ্ছে অথচ ময়লা সময়মতো নিচ্ছে না।

রাজধানীর দক্ষিণখানের বাসিন্দা হামিম বলেন, সপ্তাহ পার হয়ে যায়। তারপরও ময়লা নেয় না। বিল কিন্তু ঠিকই নিচ্ছে। যারা ময়লা নেয়ার দায়িত্বে রয়েছেন তারা তো ভাই ক্ষমতাশালী লোক। তাদের কিছু বলাও যায় না। কিন্তু কষ্ট তো আমাদের করতে হয়।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকার বাড়িওয়ালা ও বাসিন্দারা জানান, আমরা ঠিকই হোল্ডিং ট্যাক্স দিচ্ছি। ময়লার জন্যও সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছি। আবার প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানকেও ময়লা নেয়ার জন্য বিলও দিচ্ছি। আমরা সবকিছু দিচ্ছি তারপরও তারা নিয়মিত ময়লা নেয় না।

প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিডব্লিউসিএসপি) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন চুন্নু বলেন, ‘ময়লা নিয়মিত নেয়া হচ্ছে। তবে কোনো এলাকায় না নেয়া হলে সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিব। সিটি কর্পোরেশন থেকে ১০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে কথাটি ঠিক আছে।

তবে যেসব এলাকায় বেশি নেয়া হচ্ছে সেখানে হয়তো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই নেয়া হচ্ছে। কোনো পরিচ্ছন্নকর্মী যদি খারাপ ব্যবহার করে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের কাছে অভিযোগ দিলেই আমরা ব্যবস্থা নেব। ময়লা নেয়ার যে টেন্ডার তা যেন পিডব্লিউসিএসপিকেই দেয়া হয়।

কারণ আমরা নিয়মিত ময়লা নিয়মিত নিচ্ছি। ওয়ার্ড বা এলাকাভিত্তিক যে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করে, তাদের নেয়া ময়লার বিল কী সিটি কর্পোরেশন থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হয় কিনা জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরিফ-উল ইসলাম দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, মিডিয়ার সাথে আমাদের কথা বলা নিষেধ আছে। আপনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা মেয়র মহোদয়ের সাথে কথা বলতে পারেন।

কিন্তু বিষয়টি জানতে চাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মো. সেলিম রেজাকে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর সিতওয়াত নাঈম বলেন, কত টাকা ময়লার বিল নেবে তা সিটি কর্পোরেশন থেকেই নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কত টাকা নির্ধারণ তা আপনাদের বলতে পারব না। রিপোর্টারদের সাথে আমাদের কথা বলা নিষেধ আছে। আপনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, প্রত্যেক বাসা থেকে ১০০ টাকা করে ময়লার বিল নিতে হবে তা সিটি কর্পোরেশন থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। রেস্টুরেন্ট বা খাবার হোটেলের ক্ষেত্রে কোনো ফি নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। তবে তা আলোচনার মাধ্যমে বিল নেয়া হয়। সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে একাধিকবার ফোন দিলেও তাদের কেউই ফোন রিসিভ করেননি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ