পুলিশের ভূমিকায় ছাত্রলীগ! - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৭:১৬, রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পুলিশের ভূমিকায় ছাত্রলীগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৩ ৪:০৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৩ ৪:০৩ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে আটকে মারধর করে পুলিশে দিচ্ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। শুধু রাজধানীর হাতিরঝিল থানাতেই গত ছয় মাসে এ ধরনের অন্তত ছয়টি ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনকে কফিশপ থেকে আটকে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল বুধবারও পল্লবীতে মিছিলের প্রস্তুতির সময় তিন নেতাকর্মীকে আটকে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ পুলিশে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যান্য ঘটনার মতো পল্লবী থানার ওসি মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেছেন, পুলিশই তাদের আটক করেছে।

গত ১৪ নভেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের ওরফে মিশুক ও অমর একুশে হল শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জসিম খানকে মারধর করে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। গত রোববার ফেনীর দাগনভূঁইয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি আকবর হোসেনকে ঘেরাও করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, ছাত্রলীগ বলে কথা নয়; কাউকে আটকে মারধর করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

বিএনপির অভিযোগ, পুলিশের সমান্তরাল বাহিনী হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। বিরোধী দলের নেতাকর্মীর তালিকা করে আটক করছে। মারধর করে পুলিশে দিচ্ছে। মারধরের বিচার না করে, উল্টো আক্রান্ত ব্যক্তিকে ‘গায়েবি মামলা’য় গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে পুলিশ। এতদিন তৃণমূল পর্যায় থেকে এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ এলেও, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিকে মারধর করে পুলিশে দেওয়ায় হতভম্ব বিএনপি। হামলাকারীরা দায় অস্বীকার করলেও, ঘটনার পর নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটক এবং মারধরের ছবি ও ভিডিও দিয়েছিল।

ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খোকনকে ঘিরে ধরেছে। তাঁর গেঞ্জির কলার ধরে ক্যামেরার দিকে তাকাতে বলছে। একজনকে বলতে শোনা গেছে, ‘ওই, চেহারা দেখা। মাইরালামু কিন্তু এহন ধইরা।’ এর পর কিল-ঘুসি মারা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জিয়াদ ইসলাম খোকনের গেঞ্জির কলার ধরে পোজ দিয়ে ছবি তোলেন। পাশে ছিলেন ওয়ার্ডের সহসভাপতি আশিকুল ইসলাম।

বিএনপি ও জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, হরতাল-অবরোধে হাতিরঝিল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে টহল দেয় ছাত্রলীগ। বিরোধীদের ধরপাকড়ে নেতৃত্ব দেন থানা ছাত্রলীগ সভাপতি নুর উদ্দিন অপু। থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, ২২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রিয়াজ ফরাজী, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আশিকুর রহমান আশিকও এতে যুক্ত।

জামায়াতের অভিযোগ, গত ৫ মে রাতে নুর উদ্দিন অপুর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দলের সমর্থক ইউসুফ আলী মোল্লার মগবাজারের সোনালীবাগের বাসা থেকে ধরে নিয়ে পুলিশে দেয়। গত ৯ জুন দুপুরে অপুর নেতৃত্বে কয়েকজন রমনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরীক্ষা চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক শামসুল হুদাকে ধরে আনে। এর আগে তারা মোবাইল ফোনে জামায়াতের মিছিলের ভিডিও দেখায়। তাতে শামসুল হুদা অংশ নিয়েছিলেন। হাতিরঝিল থানা পুলিশের একজন উপপরিদর্শক সে সময়ে ছিলেন। পরে তাঁকে পুরোনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গত ১৯ জুন রাতে হাতিরঝিল থানা শিবির সভাপতি মাকসুদুর রহমানকে নয়াটোলার বাসার নিচ থেকে অপুর নেতৃত্বে তুলে থানায় নেওয়া হয়। ২৭ জুলাই রাতে হাতিরঝিল পশ্চিম থানার জামায়াত নেতা শামীম হোসাইনকে দৈনিক সংগ্রামের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় অপুর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁকে পিটিয়ে পুলিশে দেয়। ৩ আগস্ট হাতিরঝিল থানা জামায়াতের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলামকে ছাত্রলীগের ইব্রাহিম খলিল, আশিকুর রহমান আশিকসহ কয়েকজন তুলে নিয়ে পুলিশে দেয় বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত। যেসব নেতাকর্মীর নাম দলটি বলছে, তাদের সবাই সে সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। যদিও পুলিশের ভাষ্য, ছাত্রলীগ নয়, তারাই আটক করেছিল ওই ব্যক্তিদের।

মগবাজার এলাকার বাসিন্দা একজন সাংবাদিক জানান, কয়েকদিন আগে রাত ১টার দিকে তাঁকে ওয়্যারলেস গেট মোড়ে তল্লাশি করে সাদা পোশাকধারী কয়েক ব্যক্তি। অদূরে পোশাক পরা পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। সাদা পোশাকধারীরা তাঁর মোবাইল ঘেঁটে দেখতে চান, বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কিনা। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর পুলিশ এগিয়ে আসে। মোবাইল না দেখিয়ে ছাড়া পান। ওই সাংবাদিক জানান, তল্লাশি করা ব্যক্তিরা স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীকে তুলে আনার অভিযোগ অস্বীকার করে নুরউদ্দিন অপু সমকালকে বলেন, ধরাধরি পুলিশের কাজ। আর ছাত্রদল সভাপতিকে স্থানীয়রা পিটিয়েছে। ভিডিওতে ছাত্রলীগ নেতাদের দেখা যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা শেষ মুহূর্তে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে ফজলুর রহমান খোকন তাঁর বাসার পাশে নয়াটোলায় ‘কফি ক্লাবে’ গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সম্রাট ভূঁইয়ার সঙ্গে ছিলেন। রাত ৮টার দিকে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি জিহাদ ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সজীব, হাতিরঝিল থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরিয়াত হোসেন রাহুল, থানা ছাত্রলীগের কর্মী উদয় খানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী এসে খোকনকে মারধর শুরু করে।

‘কফি ক্লাব’-এর আশপাশের কয়েকজন দোকানি জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জিহাদের নেতৃত্বে কয়েকজন কফিশপে ঢুকে এক ব্যক্তিকে মারধর করে। মারতে মারতে হাতিরঝিল থানার দিকে নিয়ে যায়।

কফি ক্লাবের মালিক আবুল বাশার বলেন, দু’জন ক্রেতা চা খাচ্ছিলেন। এ সময়ে কয়েকজন এসে তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে। ওই দু’জন বিল মিটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের আটকে নিয়ে যায়।

তবে জিহাদ ইসলামের দাবি, পুলিশের ধাওয়ায় পালিয়ে যাওয়ার সময় খোকন মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন। তখন খোকনের কলার টেনে ধরে তোলে। মারধর করেনি।

যদিও পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। হাতিরঝিল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পালানোর সময় স্থানীয় জনতার সহায়তায় খোকনকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন জানান, তিনি আগে ঘটনার সম্পর্কে জানবেন, ওখানকার নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলবেন এবং তারপর মন্তব্য করবেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধকালীন শান্তি কমিটির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় গণতন্ত্রকামী নেতাকর্মীকে উৎপীড়ন করে পুলিশে দিচ্ছে। সমকাল

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ