অচিরেই শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার সাধ চূর্ণ বিচূর্ণ হবে: রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:০৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অচিরেই শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার সাধ চূর্ণ বিচূর্ণ হবে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২৩ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২৩ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের জনগণের আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে প্রকাশ্যে লড়াইয়ে নেমেছেন শেখ হাসিনা। অচিরেই তার ক্ষমতায় থাকার সাধ চূর্ণ বিচূর্ণ হবেই ইনশাআল্লাহ । এখন একমাত্র করুণ পতনই শেখ হাসিনার নিয়তি।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) রাতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘মাত্র একজন ব্যক্তির অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার উদগ্র লিপ্সার কারণে বাংলাদেশ এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়েছে। বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। ভোট ডাকাত শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী দুর্নীতিবাজরা দেশটাকে তাদের লুটপাটের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে। আওয়ামী লুটেরা চক্র শুধু অর্থনৈতিকভাবে দেশটাকে দেউলিয়া করেনি, দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতাও বিপন্ন করে দিয়েছে। এই লুটেরা চক্র শুধু বর্তমান প্রজন্মকেই নয় দেশের ভবিষৎ প্রজন্মকেও ঋণে ডুবিয়েছে। ভবিষৎ প্রজন্মের উজ্জ্বল সম্ভাবনার পথও কঠিন করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নিশিরাতের সরকারের দুর্নীতি দুঃশাসনের কারণে এমনিতেই জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। অর্ধাহারে অনাহারে কাটছে, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, স্বল্প আয়ের মানুষের দিনকাল। এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে সংসার পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন। চরম অর্থনৈতিক মন্দার এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার আবারো ক্ষমতায় থাকার সিল মোহরের একতরফা ভাগবাটোয়ারার প্রহসনের নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা শ্রাদ্ধ করার আয়োজন চলছে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘গণঅভিপ্রায়কে উপেক্ষা করে নৌকা, ডামি আওয়ামীলীগ এবং কতিপয় নাম গোত্রহীন ভূঁইফোড় দলছুট লোকজনকে নিয়ে ডামি নির্বাচন নাটক মঞ্চায়ন করার জন্য জনগণের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনষ্টের হিসাব মাফিয়াচক্রের দোসর সিইসি কাজী হাবিবুল আওয়াল গংকে দিতে হবে। ইতিমধ্যে সরকারের মন্ত্রীরাও বলতে শুরু করেছে এই পাতানো প্রতিযোগিতাহীন ভূয়া নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে তারা ঘোরতর সন্দিহান।’

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এক সভায় বলেছেন, আমরা বিশাল ষড়যন্ত্রের মধ্যে আছি, আমাদের ৭ তারিখ নির্বাচন, আমরা এখনো জানি না সেটা হবে কিনা? একটা অনিশ্চিত অবস্থা। বাস্তবতা হলো-দেশের ১৮ কোটি জনগণ এই নির্বাচন করতে দিবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া কোনো নির্বাচন দেশের মাটিতে হবে না। আমি এই মুহূর্তে একতরফা প্রতিযোগিতাহীন ভোটারদের সাথে তামাশার নির্বাচনের সার্কাস বন্ধ ও সংসদ ভেঙে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।’

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘কম্বোডিয়ার ৩৮ বছরের একনায়ক হুন সেনের ‘রাজ্যাভিষেক’ মডেলের নির্বাচনের পথে হাঁটছেন বাংলাদেশের একনায়ক শেখ হাসিনা। কম্বোডিয়ায় যেভাবে বছরের পর বছর নির্বাচনী তামাশার মাধ্যমে স্বৈরাচার হুন সেন নিপীড়ন- দুঃশাসন চালিয়েছে, শেখ হাসিনার তার চেয়ে অনেক বেশি অত্যাচার চলাচ্ছেন। কম্বোডিয়ার মতোই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের একমাত্র আস্থাভাজন সর্বাধিক জনপ্রিয় বিরোধী দল বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করছে।’

তিনি বলেন, ‘আইনের ম্যারপ্যাঁচে ফেলে কম্বোডিয়ার প্রধান বিরোধী দল ক্যান্ডেললাইট পার্টিকে নিষিদ্ধ করে হুন সেন। গত জুলাইয়ের নির্বাচন হয়েছে সেদেশে। হুন সেনের দল কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টি (সিপিপি)-সহ ১৮টি দল। তার মধ্যে বাদবাকি ১৭টি দল ছিল হুন সেনের তৈরি করা ‘কিংস পার্টি’। এই ১৭টি দল ছিল কার্যালয় সর্বস্ব। জনগণের মাঝে তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। কোনো দলেরই জনভিত্তি ছিল না। নির্বাচনে একচেটিয়া জয় পায় হুন সেনের দল কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টি (সিপিপি)। বিদেশে নির্বাসনে থাকা ১৭ জন বিরোধী রাজনীতিবিদকে ২০ থেকে ২৫ বছরের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হয়। নিজের তৈরি করা কিংস পার্টিকে প্রতিদ্বন্দ্বী বানিয়ে অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করেছিলেন হুনসেন। নির্বাচনে কোথাও সহিংসতা হয়নি। নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো দল প্রশ্ন তোলেনি। কারণ সেই নির্বাচন ছিল আওয়ামীলীগের এবারের নির্বাচনের মতো “আমরা আর মামুরা’’ মার্কা নির্বাচন।

রিজভী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রসহ গণতান্ত্রিক বিশ্ব কম্বোডিয়ার হুন সেনের এই সিল মোহর নির্বাচনের তামাশা বন্ধের জন্য বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও হুঁশিয়ারি দিলেও তা উপেক্ষা করে পাতানো নির্বাচন করে। নির্বাচনের পর ক্ষমতায় থাকতে পারেনি একনায়ক হুন সেন। বাংলাদেশেও স্বৈরাচার কবলিত কম্বোডিয়ার চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বের সমস্ত হুঁশিয়ারি ও আহ্বান উপেক্ষা করে পাতানো ডামি নির্বাচনের সার্কাস করছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার এই নির্বাচনি প্রহসন জেনে গেছে গোটা বিশ্ব।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘বিশেষ বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে মামলা, হামলা এবং গণগ্রেপ্তার করে বিএনপিসহ ৬০টির বেশি রাজনৈতিক দলকে মাঠ ছাড়া করতে চালানো হচ্ছে অমানুষিক নিপীড়ন। রাজবাড়ীসহ জেলায় জেলায় লাল বাহিনী তৈরী করে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার নির্যাতনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে দণ্ড দিয়ে বিএনপি’র নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, বিএনপি চাইলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এই পাতানো-নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রধান প্রতিপক্ষকে মাঠ ছাড়া করা এবং তারা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে তা নিশ্চিত করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেররিজম-২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছে এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমুহ বাংলাদেশে বিরোধীদলের ওপর জুলুম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরছে। গতকাল জাতিসংঘ পুনরায় বলেছে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে সবার অংশগ্রহণে। কিন্তু শেখ হাসিনা কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে এক সর্বনাশা ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছেন। এর পরিণতি তাঁর জন্য শুভ হবে না।’

এ সময় রিজভী আওয়ামী সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুণঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে, বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসা এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সকল বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এবং অবৈধ তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর উদ্যোগে আগামীকাল রবিবার ভোর ৬টা হতে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে রাজপথ-রেলপথ-নৌপথে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালনের জন্য আহ্বান জানান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ