নেই অফিস-কমিটি, বঞ্চিতরা হয়েছেন প্রার্থী - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:০৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নেই অফিস-কমিটি, বঞ্চিতরা হয়েছেন প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২৩ ৩:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২৩ ৩:২৪ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ব্যতিত নীলফামারীর চার আসনে যে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে তাদের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা কিংবা উপজেলা-জেলা পর্যায়ে বেশি ভাগের কোনো কমিটি বা অফিসের অস্তিত্ব নেই। সরকার ঘোষিত জাতীয় কোনো অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবস পালনে দেখা মিলে না তাদের।

জেলা ঘুরে দেখা গেছে, দলগুলোতে প্রার্থী হিসেবে স্থান পেয়েছে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি-জামায়াতের বিতর্কিত ব্যক্তিরা। নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী থাকলেও দুই একজনের ব্যতিত নির্বাচনী অফিসের দেখা মিলেনি। যাদের নির্বাচনী অফিস রয়েছে তাদের অনেকটা ভাটা পড়ার দশা। সকাল-সন্ধ্যা অফিসে আসে মাত্র কয়েকজন ব্যক্তিবর্গ। নির্বাচন পরিচালনা করছে দলে স্থান না পাওয়া বিতর্কিত নেতাকর্মীরা।

মাঠজুড়ে আওয়ামী লীগ সমার্থিত প্রার্থীদের বিশাল মিছিল, গণসংযোগ, পথসভা ও গাড়ি বহর-সোডাউনে মেতে উঠেছে কিছুটা নির্বাচনী আমেজ। জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা যেন কোণঠাসা হয়ে ঘাড়মুচরে পরে রয়েছে। হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাটে ব্যানার-ফেস্টুন এবং মার্কার দেখা গেলেও নেই প্রার্থীর লোকজনের দেখা।

যাদের মাধ্যমে চলছে বিএনএম ও তৃণমূল বিএনপির নির্বাচনী মাঠ

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে বিএনএমের প্রার্থী হিসেবে রয়েছে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ্য জাফর ইকবাল সিদ্দিকী। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসনটিতে জাপার প্রার্থী হিসেবে রয়েছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা তছলিম উদ্দিন। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় পরে জাফর ইকবাল সিদ্দিকী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সদ্য নিবন্ধন পাওয়া দল বিএনএমের প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এখন পর্যন্ত নিজ আসনে পরিচিতি রয়েছে জাতীয় পার্টির জাফর ভাই!, আসনে নির্বাচনী অফিস খুলছেন। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত দলীয় একটি অফিসের মুখ দেখাতে পারেননি। জাপার একাংশকে সাথে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

জাতীয় পার্টির আগের কমিটিতে জাফর ইকবাল সিদ্দিকী জেলা সভাপতি হিসেবে ছিলেন। কিন্তু চলতি বছর ৬ অক্টোবর দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে সকল পদ-পদবি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় রাতারাতি কাঁধে তুলে নিয়েছেন নোঙর। গত ১০ বছরে দেখা যায়নি মাঠে কিংবা রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে। ব্যবসায়িক কাজে সময় পার করেছেন সৈয়দপুর-রাজধানীতে।

জাপার ডিমলা উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি জাকারিয়া হোসেন রাজু জানান, জাতীয় পার্টিতে যাদের স্থান রয়েছে তারা অনেকে বিতর্কিত। এজন্য আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি এবং জাপার নির্বাচন করছি না।

টেপা খড়িবাড়ী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, আমাদের কাছে জাতীয় পার্টির চেয়ে প্রার্থীর হিসেবটা মূখ্য তাই আমরা জাফর সাহেবের নির্বাচন করতেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতাকর্মী কিছুই নই। জাতীয় পার্টি করি, ভবিষ্যতেও করে যাব।

অপরদিকে, জাতীয় পার্টির সাবেক জেলা কমিটির আহ্বায়ক, বর্তমান জেলা জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা ও নীলফামারী-১, ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাড. এন.কে আলম চৌধুরী তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ নিয়ে নির্বাচন করছে। কিন্তু তিনি কয়েকদিন আগে জাপার জেলা দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে দলীয় প্রার্থী এবং আহ্বায়ক হতে চেয়েছেন। তবে ভাগ্যে জোটেনি জাপার লাঙল।

তাই রাতারাতি আয়ত্ত্বে নিলেন সমশের মুবিন চৌধুরী ও তৈমুর আলম খন্দকারের ‘সোনালী আঁশ’। যা জেলার অনেকের কাছে অপরিচিত। দুইটি আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য নিজের দলের পরিচিতি তো দূরের কথা, প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি দলীয় কার্যালয়, খুলতে পারেননি নির্বাচনী অফিস। নির্বাচনের সময় পাশে নেই সুদিনের নেতাকর্মী বা সমর্থকরা। সভা-সমাবেশ যেন স্বপ্নের অদৃষ্ট আলোকচ্ছোটা।

ইসঈমাইল নামের এক জাপা কর্মী জানান, আলম চৌধুরী যতদিন জাতীয় পার্টিতে ছিলেন ততোদিন সম্মানের পাত্র। তিনি আমাদের প্রাণ পুরুষ ছিলেন। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন। তার পাশে যারা ছিলেন তারা সকলে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তিনি প্রত্যাখিত ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

জাফর ইকবাল সিদ্দিকী ও এন.কে আলম চৌধুরীর ব্যক্তি কেন্দ্রীক পরিচিতি ব্যাপক। সাধারণ ভোটারের মাঝে দলের নাম-পরিচয় ফুটাতে পারেনি। তারা দু’জনে নতুন প্রজম্মের কাছে নতুন ব্যক্তি। একদিকে নিজের পরিচিতি অন্যদিকে স্তম্ভ ছাড়া রাজনৈতিক সংগঠন।

জাতীয় পার্টি (জেপি) হাসির খোড়াক নাকি চমক

জাতীয় পার্টি (জেপি) বেশ আলোচনায় ররেছে। সকলে জানে জাতীয় পার্টি মানে লাঙল। কিন্তু এটা আবার কোন জাতীয় পার্টি, যদি জাতীয় পার্টি হয় তাহলে বাইসাইকেল কেন? এমন প্রশ্ন সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিরাজমান। তারা যেন হাসি-ঠাট্টার পাত্র। নেই কোনো অফিস কিংবা কমিটি, নেই কোনো নেতাকর্মী আজ প্রথম জানলাম যে দেশে আরেকটা জাতীয় পার্টি আছে। এমনটা জানিয়েছে ডিমলা উপজেলার সোনাখুলী গ্রামের আইয়ুব আলী।

কংগ্রেস কি নির্বাচনে মাধ্যমে পরিচিতি জোগাতে পারবে?

নীলফামারী-২ (সদর উপজেলা) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির ডাব প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোরছালিন ইসলাম। জন্মসূত্রে নীলফামারীর সন্তান হলেও ব্যবসায়ীক সূত্রে ঢাকার বাসিন্দা। পরিচয় মিলাতে পারেনি গ্রামের বাড়ির আশপাশের লোকজনের কাছে। নির্বাচনে হাল ধরেছে যেন বৈঠা ছাড়া মাঝির মতো। কিন্তু সদর তো দূরের কথা, জেলায় তাদের কোনো অফিসের দেখা মিলেনি। মাঠে চলছে নির্বাচনী আমেজ, প্রার্থী পড়ে রয়েছেন রাজধানীর বাসায়।

রামগঞ্জ গ্রামের তৌহিদুর রহমান জানান, কিংস পার্টি হিসেবে তাদের আবির্ভাব হয়েছে। তাদের ওয়ার্ড-ইউনিয়ন, উপজেলা-জেলায় একজন নেতাকর্মীর দেখে মিলে না, নেই কোনো কমিটি।

এ বিষয়ে ‘ডাব’ প্রতীক প্রার্থী মোরছালিন ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। জেলায় কমিটি আছে কিনা সেই বিষয় অজানা। জেলায় দলীয় অফিস কোথায় আছে নাকি নেই বলতেই পারেননি তিনি। অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কাল-পরশু আসবেন এলাকায়।

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন খলিলুর রহমান। তার রাজনীতির শুরুটা ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাত ধরে পরে বিএনপির রাজনীতিতে মিশে যায়। তবে, পালা বদলের শেষ কোথায়? ক্ষমতার নেশায় আবার দলের পরিবর্তন! হাল ধরলেন কিংস পার্টি খ্যাত তৃণমূল বিএনপির। তাদের হয়ে করছেন নির্বাচন। অবস্থান প্রায় নীলফামারী-১ আসনের মতোই রয়েছে। প্রচার-প্রচারণায় অনেকটাই এগিয়ে তারা। শহর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাঁটিয়েছে ব্যানার-পোস্টার। মাঠে প্রচারণার লোকজন না থাকায় অটোগাড়ি আর মাইকই প্রচারের সম্বল।

আনিছুর নামের এক জামায়াত কর্মী জানান, খলিলুর রহমান শিবির করতো, পরে বিএনপিতে যোগদান করে। এবার শুনতেছি তিনি নাকি সোনালী আশঁ নিয়ে নির্বাচনে করছেন। কোনো মিছিল মিটিং এখনো দেখা যায়নি। জলঢাকা বাজারে গেলে দুই একটা পোস্টার চোখে পড়ে।

চমক সাবেক বিএনপি নেতা/ বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি

সারাদেশের বিশিষ্টজন রাজনৈতিক ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে দলের চেয়ারম্যান জেনারেল মুহাম্মাদ ইব্রাহিম বীর প্রতিকের গ্রহণযোগত্যা আর ব্যাপক পরিচিতি থাকলেও সাধারণ ভোটারের কাছে তাদের সাংগঠনিক পরিচিতি নেই বললেই চলে। জেলায় নেই কোনো দলীয় কার্যালয়।

এ আসনে যে প্রার্থী বাদশা আলমগীর রয়েছেন তিনি এক সময় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন। পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। দলের সাথে পরিচয় শিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সেক্রেটারি ও বর্তমান সংগঠনের মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুনের সুবাদে। আর সেই সুবাদে তিনি অমাবস্যার চাঁদের মতো প্রার্থী হয়ে উঠেছেন।

জামায়াতে ইসলামীর এক উপজেলা নেতার বরাতে জানা গেছে, শুনেছি জেলার বাইরে থাকাকালীন জামায়াতে সাংগঠনিক সর্বোচ্চ মানে উন্নতি হতে না পারায় বাদশা আলমগীর সংগঠনের পিছু ছেড়ে অন্য কিংস পার্টি তথা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির হয়ে নির্বাচনে গেছেন। তিনি সংগঠনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত নেই।

জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখার সেক্রেটারী আন্তাজুল ইসলাম জানান, খলিলুর রহমান এক সময়ে শিবিরের কর্মী ছিলেন। সে কখনো জামায়াতে ইসলামীর সাথে ছিলেন না। বাদশা আলমগীর আমাদের জনশক্তি ছিলেন না। ১৯৯৩ সাল থেকে জলঢাকা জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম বাদশা আলমগীর কখনো জামায়াতে কাজ করেনি। আগে যেহেতু বাইরে ছিলেন সেখানে সম্পৃক্ত থাকতে পারে এলাকায় জামায়াতের ধারের কাছেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে তৃণমূল বিএনপির আব্দুল্লাহ আল নাসের অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নোঙর প্রতীকে নির্বাচনের অংশ নিয়েছে। তারা দু’জনে সাইব্রেরীয় অতিথি পাখির মতো। শীত এলে যেমন বাংলাদেশে পশ্চিমাঞ্চল থেকে অতিথি পাখিরা এ অঞ্চলে আসে। তেমনি তৃণমূলের নাসের ও বিএনএমের এম সাজেদুল করিম। এলাকায় তেমন কোনো পরিচিতি না থাকলেও নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচিতি লাভের জন্য এসেছে।

রোহানুর নামের এক ব্যক্তি জানান, তাদের সম্পর্কে কিছুই বলার নেই। তারা আমাদের অতিথি পাখি। এত দিনে তাদের নামও জানতাম না। দেখতেছি দাঁড়ি-টুঁপি পড়ে মার্কা টানিয়েছে। এর আগে একজন অতিথি আসলেন ৫ বছর কোনো উন্নতি দেখতে পারেনি সৈয়দপুরবাসী। সৈয়দপুর এতো বড় শহর কোথাও দলীয় কিংবা নির্বাচনী কোনো অফিস নেই।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ পারভেজ জানান, বিগত কমিটিতে জাফর ইকবাল সিদ্দিকি জেলা সভাপতি হিসেবে ছিলেন। তিনি, লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন সেখানে বিজয় লাভ করেছিলেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে তাকে মনোনয়নপত্র না দেওয়ায় দল থেকে ছিটকে পড়েন। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন এবারে তাকে না দিলে বাংলাদেশ জাতীয়দবাদী আন্দোলনের মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন। এনকে আলম চৌধুরী জেলা কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছে। যারা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাজ করছে তাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংগঠনকে অবগত করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে যে কোনো ফয়সাল আসবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ