জেগে উঠো বীর জনতা,মুক্তি দাও আমাদের - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:০৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জেগে উঠো বীর জনতা,মুক্তি দাও আমাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৩ ৯:২৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৩ ৯:২৮ অপরাহ্ণ

 

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

আজ এস এম আদনান চৌধুরী এর পিতা অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক রুহুল আমিন চৌধুরী শাহীনবাগের নিজ বাসার মৃত্যুবরণ করেছেন। ছেলের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে অবশেষে তিঁনি সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। তিনি আর ছেলের ছবি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কিংবা ভিতরে, অথবা জাতীয় যাদুঘর এর সামনে চিৎকার করে বলবেন না আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও।তিনি বলবেন না আমি আজও জানানা কি অপরাধে আমার সামনে থেকে আমার ঘর থেকে ছেলেকে তুলে নিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে।তিনি আর বলবেন না আমার স্ত্রী কানিজ তার সন্তানের জন্য কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে গেছে। তিনি আর বলবেন না আমি কি আমার ছেলের মুখ দেখে মরতে পারবো?সবকিছু শেষ।শাহীনবাগের তার বাড়িতে এখন কান্নার আওয়াজ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না।আদনান এর বোনেরা হাউমাউ করে কাঁদছে আর তার মা চিৎকার করে বলছেন ও আল্লাহ! তুমি আমকে নিয়ে যাওনি কেন? কিভাবে আমার বাকী জীবন কাটবে।আমি আর কার কাছে বলবো (আদনান এর বাবা)তোমার সামনে থেকে কিভাবে আমার কলিজার টুকরাকে নিয়ে গেলে।তুমি যাও ওকে নিয়ে ঘরে আসো।আমার সবকিছু শেষ।কারো শান্তনা দেওয়ার কোন ভাষা ছিল না।উপস্থিত সবাই একযোগে কাঁদছিল। মৃত্যুর বেশকিছু আগে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সাংবাদিক ময়িয়ম চম্পা আদনান চৌধুরীদের বাসায় গিয়েছিলেন।সেদিন আদনান চৌধুরী এর বাবা যে কথা গুলো বলেছিল তা হুবহু তুলে ধরা হলো।

“এমএ আদনান চৌধুরীর বাবা রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, ২০১৩ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর রাত আড়াইটায় শাহীনবাগের নিজ বাড়ি থেকে র‌্যাব পরিচয়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় আদনানকে। স্ত্রীর পাশ থেকে তুলে নেয়া হয়। আদনান তেজগাঁও কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে মালয়েশিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা পেয়ে পড়তে যাবে- তার কিছুদিন আগেই তাকে নিয়ে যায়। আদনান তেজগাঁও থানা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে গুম বা নিখোঁজ হয়নি। আমাদের সবার সামনে থেকে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে যায়। এক বছর পর ২০১৪ সালের শেষে একবার খোঁজ পেয়েছিলাম সে আছে। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব জায়গায় আমরা খুঁজেছি। সবারই এক কথা- আমরা জানি না। ৪ ভাই বোনের মধ্যে আদনান সবার বড়। আদনানের শোকে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আদনানের বাবা ঢাকার একটি হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি বলেন, যারা গুম হয়েছে তারা ছাত্র, যুবক কিংবা বৃদ্ধ হোক তাদের খোঁজ আমরা চাই। সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যমে নিখোঁজদের পরিবারকে অতিসত্তর যেন তাদের বিষয়ে জানানো হয়। জাতীয় নেতৃবৃন্দের ওয়াদা করতে হবে সামনের দিকে ১টি মানুষও আর গুম হবে না। কোনো বৃদ্ধ পিতা-মাতা যেন সন্তান হারানোর কষ্ট না পায়। এটা জনগণের কাছে ওয়াদা করতে হবে।”আজ এই কথাগুলো অতীত। আদনান চৌধুরী এর মা কানিজ কি তার সন্তান এর মুখ দেখতে পারবে।গত ১০ বছর অপেক্ষা করছে আদনান এর মা সহ গুম হওয়া সন্তানদের স্বজনরা। তারা সবাই ভেবেছিল আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসবে তারপর সবাই যার যার মায়ের কোলে ফিরে আসবে। কিন্তু আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৪ যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচন তো জনগণের সরকার আসবেনা।এক তরফা এই নির্বাচন তো তামাশাভরা নির্বাচন। এখানে ওরাই ওরা মাঠে। সাধারণ মানুষকি জেগে উঠবে না।আর কতো লাশ,রক্ত, জেল,জুলুম, গুম,খুন ওরা করবে?কে ওদের থামাবে? কে হাল ধরবে?দুঃশাসন এর বিরুদ্ধে কে সবাইকে জাগিয়ে তুলবে।গুম হওয়া শুধু আদনান চৌধুরীর বাবা মৃত্যুবরণ করেননি।এই তালিকা অনেক লম্বা গুম হওয়া ড্রাইভার কাওসার এর মা কমলা বেগম, পারভেজ এর পিতা ও শ্বশুর, মুন্নার বাবাসহ অনেকেই আছে।আর কতো অপেক্ষা। নতুন সূর্য কবে উঠবে।নতুন বছরের নতুন সূর্য দেখতে ইচ্ছে করেনা।
এখনই সময়। বাঁচাও-বাঁচো,জাগিয়ে তোলো দেশবাসীকে। থামিয়ে দাও ৭ জানুয়ারি অবৈধ নির্বাচন।
তাহলেই আদনান চৌধুরী এর বাবা রুহুল আমিন চৌধুরী এর আত্মা শান্তি পাবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ