প্রাকৃতিক নিয়মেই এই সরকারের পতন হবে : মঈন খান - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৭:২৩, রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রাকৃতিক নিয়মেই এই সরকারের পতন হবে : মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ১, ২০২৪ ৮:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ১, ২০২৪ ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.মঈন খান বলেছেন, প্রাকৃতিক নিয়মেই এই সরকারের পতন হবে। আমরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে চাই। কিন্তু সরকার বলছে, সবার একই চিন্তা করতে হবে। একই ধ্যান ধারণায় থাকতে হবে। এটাতো প্রকৃতির নিয়ম না। এভাবে প্রকৃতি টিকে থাকতে পারে না। আজকে সরকার দেশে যে অবস্থা তৈরি করেছে তা একটি অস্বাভাবিক ব্যবস্থা। এর পরিবর্তন হবেই।

সোমবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন, প্রহসনমূলক ও ডামি নির্বাচন বর্জনের আহবানে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ড. মঈন খান বলেন, নির্বাচন ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। ৩০০ আসনে কে কোথায় এমপি হবে সেটা বাংলাদেশের জনগণ সবাই এখন জানে। ৭ তারিখে আমরা একটা ফলাফলের ঘোষণা শুনবো। কি সেলুকাস! এখনে সংসদের সিট ভাগবাটোয়ারা প্রকাশ্যে হয়।

নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এই সরকারের উপরে যারা আস্থা হারিয়েছে তারা ভোট দিতে যাবে না। আওয়ামী লীগের ভোটাররাও ভোট দিতে যাবে না। কারণ তাদের প্রার্থী তো জয়ী হয়েই যাবে।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ দাবি করে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্যে যদি গণতন্ত্র না থাকে তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোথায় থাকলো? বাংলাদেশের মানুষকে পরম মোঘল সম্রাটেরাও বশ করতে পারেনি। ১৮ কোটি মানুষকে আওয়ামী লীগ বাকশালের রাস্তায় চালাবে তা হতে পারেনা। অতীতেও একবার চেষ্টা করেছে, পারেনি।

বাংলাদেশ গণতন্ত্রের জন্য সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, আজকে আমরা কোন বাংলাদেশে বাস করছি? কোথায় গণতন্ত্র? বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছিলাম দেশে খুশি মতো কথা বলবো। আমি যাবো যাকে খুশি তাকে ভোট দিবো। এটা তো আওয়ামী লীগেরই স্লোগান ছিল।কিন্তু এই স্লোগান তারা এখন আর দেয় না। তারা এখন দেয়, তোমার ভোট আমি দেব, সবার ভোট আমি দেব।

আলোচনা সভায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, দেশে একটা প্রহসনের নির্বাচন হচ্ছে। ৭ তারিখে কোনো ইলেকশন হচ্ছে না, এটা মুলত সিলেকশন হচ্ছে। আগে থেকেই সবকিছু ঠিক করে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশিয় সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করছে। এসরকার গণতন্ত্র হরণ করেছে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মানুষ এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ৭ তারিখে ভোট দিতে যাবে না। পৃথিবীতে কোনো স্বৈরাচার টিকে নাই। এ সরকারও টিকবে না। আওয়ামী লীগ এখন নিজেদের মধ্যে খুনাখুনি করছে। ৭ তারিখের নির্বাচন আওয়ামী লীগকে নির্বাসনে পাঠাবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আদালত ছয় মাসের জেল ঘোষণা করেছে। এটা কি বাংলাদেশের আইনের শাসনের একটি উদাহরণ? নাকি এই দখলকৃত রাষ্ট্রের সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নানাভাবে যে কাউকে জেলে ঢুকাবে, কাউকে হয়রানি করবে, এমনকি কাউকে গায়েব করে দিবে, এটি তারই একটি নতুন উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, ২৮ অক্টোবরে আওয়ামী লীগ পরিকল্পিত ভাবে সহিংসতা করে বিএনপির উপরে দায় চাপিয়ে দিয়েছে। এদেরকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হলে মানুষকে একত্রিত করে রাজপথে নামার সাহস সঞ্চার করতে হবে

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এ সরকারের আমলে দেশের বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ সরকারের আমলে মানুষের জান-মাল কোনো কিছুই নিরাপদ নয়। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দল হতে হিসেবে কোনো অস্তিত্ব নেই। সরকার ডামি প্রার্থী করে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, সরকার দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ শেখ হাসিনার হাতে জিম্মি হয়ে আছে। ৭ তারিখের নির্বাচন করে এ সরকার পার পেয়ে যেতে পারবে না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল, ২০ দলীয় জোটের শরীক জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ