অভিশ্রুতি নাকি বৃষ্টি; মর্গে পড়ে আছে নারী সাংবাদিকের মরদেহ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:০৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অভিশ্রুতি নাকি বৃষ্টি; মর্গে পড়ে আছে নারী সাংবাদিকের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মার্চ ২, ২০২৪ ৩:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মার্চ ২, ২০২৪ ৩:৩১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বৃষ্টি খাতুন নাকি অভিশ্রুতি শাস্ত্রী-এ দুই নামের জটিলতায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের মর্গে পড়ে আছে নারী সাংবাদিকের মরদেহ। হস্তান্তর নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। তাই লাশ নিতে এসে বিপাকে পড়েছেন তার বাবা।

শনিবার (২ মার্চ) সকাল পর্যন্ত তার লাশ হস্তান্তর করা হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার পর অভিভাবকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে বৃষ্টি খাতুন (অভিশ্রুতি শাস্ত্রী) কিছু তথ্য পাওয়া যায়। যা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি খাতুন (অভিশ্রুতি) ২০২১ সালের ৬ জুলাই ইস্যু করা জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম বৃষ্টি খাতুন হিসাবেই রয়েছে এবং সত্যতা পাওয়া গেছে। সেখানে পিতার নাম সবুজ শেখ এবং মাতার নাম বিউটি বেগম। তার উচ্চমাধ্যমিক এবং ইডেন মহিলা কলেজ প্রবেশপত্রেও একই রকম তথ্য আছে। এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট এনআইডির তথ্যের সাথে মিল পাওয়া গেছে।

তবে, তথ্য পাওয়া গেছে প্রায় ৮ মাস আগে তার ফেসবুক আইডির নাম অভিশ্রুতি বৃষ্টি থেকে অভিশ্রুতি শাস্ত্রী করেন তিনি। কিন্তু তিনি নাম পরিবর্তন করলেও ধর্ম পরিবর্তন করেছেন এমন কোন তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবার সুত্রে জানাযায়, তিনমাস আগেও বাড়িতে গিয়েছিলেন ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য। তাছাড়া সর্বশেষ ঈদও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উদযাপন করেছিলেন তিনি। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বৃষ্টি খাতুন নামেই মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর ইস্যু করা জন্ম নিবন্ধন সনদে আছে নাম অভিশ্রুতি লেখা হলেও বাবার নাম লেখা হয়েছে মো.সাবুরুল আলম এবং মায়ের নাম বিউটি বেগম। কিন্তু তার সিভিতে লেখা, বাবার নাম সাবুরুল আলম এবং মায়ের নাম অপর্ণা শাস্ত্রী। তিন জায়গায় তার বাবার নাম তিনটা আর মায়ের নাম দুইটা।

আবার রমনা কালী মন্দির কমিটির সভাপতি উৎপল সাহাকে তিনি বলেছেন, তার ফ্যামিলি বেনারসে ছিল এবং তার পিতৃ পরিচয়, বেনারসে বাবা ও মা একটি মন্দিরে সেবায়েত হিসাবে ছিল, সেই জায়গা থেকে আসছে। তার বাবা-মা ওখানে মৃত্যু বরণ করার পরে, কুষ্টিয়ার সবুজ শেখ ও তার স্ত্রী মূলত তাকে দত্তক নিয়েছিলেন।

ইডেন কলেজে তিনি নিজেকে বৃষ্টি বণিক নামে পরিচয় দিতেন। তাকে সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবে জানত। তবে একদিন রুমমেটরা আইডি কার্ড দেখে জানে তার নাম আসলে বৃষ্টি খাতুন। তখন এক রুমমেট তাকে রুম থেকে বের করে দেয়, বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি যে মিডিয়াতে চাকুরি করতেন সেখানে অভিশ্রুতি নামে, হিন্দু পরিচয়ে। এবং নতুনভাবে জবের জন্য যে সিভি পাঠাতেন অভিশ্রুতি নামে। সব মিলায়ে বিষয়টি অত্যন্ত সাসপিশাস। ধর্ম পরিবর্তনের চেয়ে এইখানে একটা ফেইক আইডেন্টিটি তৈরির ব্যাপারটাই বড় বিষয় হিসাবে উঠে এসছে।

খোকসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল আখতার জানান,মেয়েটির বাবাকে আমি আগে থেকেই চিনি। তার তিন মেয়ে তাও জানি। কিন্তু নামের পরিবর্তন বা অন্য ধর্ম গ্রহণের বিষয়ে কখনো শুনি নাই।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের ২ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও এনএসআই। এই অগ্নিকাণ্ডে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ