আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও খালেদা জিয়ার লড়াই - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:১৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও খালেদা জিয়ার লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মার্চ ৯, ২০২৪ ৫:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মার্চ ৯, ২০২৪ ৫:২১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ‘নারী মুক্তি’ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের নিগ্রহের শিকার হয়ে কার্যত বন্দি হিসেবে সঠিক চিকিৎসাটুকুও পাচ্ছেন না। নিজের রাজনৈতিক অধিকার থেকে এক দশক ধরে বঞ্চিত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এই নেত্রী।
স্বৈরাচার এরশাদের সামরিক শাসনে দেশের মানুষ যখন নাভিঃশ্বাস ফেলছে তখন রক্ষণশীল এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের হাল ধরেন বেগম খালেদা জিয়া। টানা নয় বছর স্বৈরাশাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মাধ্যমে দুই দফা কারাবরণের কারণে তিনি পরিচিত হন আপোষহীন নেত্রী নামে।
সেই আপোষহীন চরিত্রকে এদেশের জনগণ এতোটা বেশি ধারণ করেছিল যে, প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরোনো রাজনৈতিক দলকে হারিয়ে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সরকার গঠন করেছিল তার ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বে।
দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম কান্ডারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে থেকে সবসময় অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূচনা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়।
একই সময় এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। বেগম খালেদা জিয়া প্রথমে বিএনপিকে নিয়ে ১৯৮৩ এর সেপ্টেম্বর থেকে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। একই সময় তার নেতৃত্বে সাত দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলের সাথে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু করে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে।
কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিধান্ত নিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বাঁধার সৃষ্টি হয়। ১৫ দল ভেঙে ৮ দল ও ৫ দল হয়। ৮ দল নির্বাচনে যায়। এরপর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল, পাঁচদলীয় ঐক্যজোট আন্দোলন চালায় এবং নির্বাচন প্রত্যাখান করে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া ‘এরশাদ হটাও’ এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। এর ফলে এরশাদ সংসদ ভেঙে দেন।
পুনরায় শুরু হয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। অবশেষে দীর্ঘ আট বছর একটানা নিরলস ও আপোসহীন সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া মোট পাঁচটি আসনে অংশ নিয়ে পাঁচটিতেই জয়লাভ করেন।
কঠিন বাস্তবতার সম্মুখে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি দেশকে নেতৃত্ব দেননি, নারী মুক্তির জন্য নিয়েছেন অসংখ্য পদক্ষেপ। নারীদের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া অনেক উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম হলো মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যাবস্থা চালু করা। মেয়েদের ন্যূনতম মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপবৃত্তি ব্যবস্থা চালু করেছেন শিক্ষাপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার উদ্যোগেই প্রাথমিক শিক্ষায় নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের আগ্রহ তৈরিতে ‘খাদ্যর বিনিময়ে শিক্ষা’ ব্যবস্থা চালু হয়।
বাংলাদেশে ধর্ষণ ও এসিড সন্ত্রাস দমন আইন প্রনয়ণও হয় বেগম খালেদা জিয়ার সময়। একই সময়ে সমাজে নারীদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যৌতুকবিরোধী আইন প্রণয়ন করেন তিনি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে নারী শিক্ষায় সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহিলা শিক্ষকের নিয়োগে কোটা আরোপের মাধ্যমে মেয়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা ছিল বেগম খালেদা জিয়ার প্রচেষ্টার অংশ।
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচারের ক্ষেত্রে স্পেশাল ট্রাইবুনাল গঠন করে দ্রুততম বিচারের জন্য তদন্তের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াসে। এছাড়া অপরাধভেদে ৭ বছর কিংবা ১৪ বছর অথবা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিল পাস হয় তার আমলে।
মহিলাদের অধিকার রক্ষা, কর্মক্ষমতাকে পূর্ণ মর্যাদায় কাজে লাগানোর লক্ষ্যে ন্যাশনাল ফর উইমেন গঠন করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মেয়েদের শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য জিয়াউর রহমানের গৃহীত পদক্ষেপ পুলিশ বিভাগে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি পুনরায় চালু করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।
তৃণমূল পর্যায়ের বস্তি এলাকা, দুস্থ নারী এবং গ্রামীণ মেয়েদের ক্ষেত্রে নিজস্ব তহবিল গঠনের মাধ্যমে স্বল্পকালীন ঋণ পদ্ধতি চালু করে নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে অবদান রয়েছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এই নেত্রীর।
নারী স্বাস্থ্যসেবা, নারী উন্নয়ন, নারী শিক্ষা সর্বোপরি নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খালেদা জিয়া এবং মিসেস লনের যৌথ প্রয়াসে কার্যযাত্রা শুরু করেছিল এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ফান্ড গঠনসহ চট্টগ্রামে ১০০ একর জায়গা দানের ব্যাবস্থা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
মহিলা বিজ্ঞানীদের সংগঠন উইস্টারকে সহায়তার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও ব্যাবহারিক কর্মকাণ্ডে কম্পিউটারের ব্যবহার ও মহিলা সংস্থাকে পূর্ণ সহায়তায় পৃষ্ঠপোষকের মাধ্যমে অসংখ্য মহিলাকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে। সূত্রঃ বাংলা আউটলুক

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ