মামুনুল হক রাজনৈতিক প্রহসনের স্বীকার: খেলাফত মজলিস - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:১২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মামুনুল হক রাজনৈতিক প্রহসনের স্বীকার: খেলাফত মজলিস

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মার্চ ১৬, ২০২৪ ৩:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মার্চ ১৬, ২০২৪ ৩:৩১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
মাওলানা মামুনুল হক রাজনৈতিক প্রহসনের স্বীকার। যদিও তিনি সম্পূর্ন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। একটা মিথ্যা ষড়যন্ত্র মূলক মামলায় তাকে আটক রেখেছে ব‌লে অভিযোগ ক‌রে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দরা মামুনুল হকের মু‌ক্তির দা‌বি জা‌নি‌য়ে‌ছেন।

শ‌নিবার (১৬ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস আয়োজিত মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক এর দীর্ঘ কারাবাসে উদ্বিগ্ন ছাত্রজনতার অবস্থান কর্মসূচি এ দা‌বি জানায়।

প্রধান অতিথির বক্তব‌্য বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস সভাপ‌তি মাওলানা আবুল হাসান জালালি বলেন, মাওলানা মামুনুল হক রাজনৈতিক প্রহসনের স্বীকার। যদিও তিনি সম্পুর্ন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। একটা মিথ্যা ষড়যন্ত্র মূলক মামলা থেকে তাকে আপনার আটকে রেখেছেন। তাই আজকে আমরা জোর দাবি জানাই মাওলানা মামুনুল হক সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি দিন। আমরা খুব ভালো করেই জানি আপনারা কোন খুঁটির জোরে আজকে ক্ষমতায় টিকে আছেন। আপনাদের প্রধান শক্তি ভারত এবং দ্বিতীয় শক্তি দেশের পুলিশ বাহিনী যাদেরকে আপনারা জনগণের পক্ষে কাজ করতে না দিয়ে নিজেদের দলীয় কাজে ব্যবহার করছেন। আপনাদের মুনাফেকের চেহারা এই জাতির সামনে আজকে উন্মোচিত হয়েছে। আপনারা এর আগে আমাদের হেফাজতের নেতাদের সাথে কথা দিয়েছিলেন সকল আলেম-ওলামাদেরকে মুক্তি দিবেন। তাই সরকারকে আমি হুঁশিয়ার করে বলতে চাই অনতিবিলম্বে মাওলানা মামুনুল হক সাহেব সহ সকল আলেমদেরকে মুক্তি দিন।

সভাপ‌তির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপ‌তি কামাল উদ্দিন বলেন, মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হককে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল অন্যায়ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করে। তার আগে পরে অনেক আলেম-উলামা ও মাদরাসার ছাত্রদেরকে গ্রেফতার করা হয়। যাদের মধ্যে অনেকেই মুক্তি পেলেও মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হকসহ কয়েকজন নেতা দীর্ঘ ২১ মাস যাবত কারাগারে বন্দী রয়েছেন। মাওলানা মামুনুল হক শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন তিনি হাদিসের শিক্ষকতাসহ দ্বীনের বিভিন্ন কাজে নিয়েজিত ছিলেন। তার গ্রেফতারে অসংখ্য ছাত্র হাদিসের দরস থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পরিবারও তার অনুপুস্থিতির কারণে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। গ্রেফতারের পর তার নামে অন্যায়ভাবে ২৮টি নতুন মামলা দেয়া হয়েছে। আগের মামলাসহ মোট ৪১টি মামলা তাকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। যার প্রত্যেকটিই ভিত্তিহীন ও সাজানো।

বাংলাদেশ যুব মজলিসসহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের অপরাধ যখন বাংলাদেশ এর পঞ্চাশ বছর সুবর্নজয়ন্তী হয় তখন সে অনুষ্ঠানে ভারতের নরেন্দ্র মোদিকে আসতে মানা করেছিলেন। সেই প্রতিহিংসা আসে যারা থাকে সরকার সুযোগ খুঁজছিল কিভাবে মামুনুল হককে কারাবন্দী করা যায়। তাই পরবর্তী সময়ে একটা মিথ্যা উদ্দেশ্য মূলক বানোয়াট মামলায় তিন বছর ধরে মাওলানা মামুনুল হককে কারাবন্দী করে রেখেছে। আমরা অনতি বিলম্বে হকের মুক্তি চাই অন্যথায় ঈদের পর এদেশের আপামর জনতা মামুনুল হকের মুক্তির জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে।

বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সা‌বেক সভাপ‌তি মাওলানা আবদুল্লাহ আশরাফ বলেন, যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হকের ডাকে দেশের আপামর জনতা রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন তখনই ওই আওয়ামী লীগ সরকার তাকে গ্রেফতার করে জেলে ভরে রেখেছে। এরপর আমরা যতবার তার জামিনের জন্য আবেদন করেছি, ততবার নাকচ করে দিয়েছে। তার কারণ এই সরকার আদালতকে ব্যবহার করছে। প্রশাসনকে তার হাতের মুঠোয় নিয়েছে এই হিন্দুত্ববাদী সরকার।

বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হাবিবউল্লাহ বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের মামলা সম্পূর্ণ জামিনযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও জামিন পাওয়া যাচ্ছে না। একজন দাগী আসামির মতো হাতে হ্যান্ডকাপ, মাথায় হেলমেট ও গায়ে বুলেটপ্রুপ জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে আনা-নেয়া করা হয়। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এতে তিনি শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। এটা সম্পূর্ণ জুলুম ও অন্যায়। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। সরকারের এহেন আচরণে আমরা ক্ষুদ্ধ ও লজ্জিত।

ঢাকা মহানগরী সভাপতি ও খেলাফত ছাত্র মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান বলেন, এর আগে মাওলানা মামুনুল হকের মুক্তির দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে এবং কারাবন্দী উলামায়ে কেরামের মুক্তির দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রীও তাদেরকে দ্রুত মুক্তি দেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, এখনো মাওলানা মামুনুল হকসহ শীর্ষ আলেমদের মুক্তির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। মাওলানা মামুনুল হকসহ কারাবন্দী উলামায়ে কেরামের মুক্তির দাবিতে মাত্র ১৫ দিনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে লক্ষাধিক মানুষ স্বতস্ফূর্ত স্বাক্ষর করেছেন। এটি সাধারণ মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। তাই আমরা মনে করি তাকে আটকে রাখার মধ্য দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।

ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হককে প্রায় তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দী করে নির্যাতন করা হচ্ছে। মাওলানা মামুনুল হকের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে হয়রানিমূলক এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার বিপাকে পড়বে। মাওলানা মামুনুল হক দেশের আপামর জনসাধারণের প্রতিনিধি। তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

সভাপতি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ইমরান হুসাইন নুর বলেন, যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক ডাক দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের আপামর জনতা রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন তখনই আওয়ামী লীগ সরকার তাকে গ্রেফতার করে জেলে ভরে রেখেছে। আমরা সরকারকে বলতে চাই, পুলিশ প্রশাসন আপনার গোলামী করতে পারে, র‌্যাব আপনার গোলামী করতে পারে, আদালত আপনার গোলামী করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ আপনার গোলামী করবে না। জনগণ রাস্তায় নেমে আপনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মামুনুল হককে মুক্ত করবে।

আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সা‌বেক সভাপ‌তি মাওলানা মোল্লা মোহাম্মদ খালেদ ফয়জুল্লাহ, বায়তুলমাল বিভাগের সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সংগঠন বিভাগের সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ