অভিভাবককে পা ধরে মাফ চাওয়ানো সেই বিচারক প্রত্যাহার - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:১৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অভিভাবককে পা ধরে মাফ চাওয়ানো সেই বিচারক প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৩, ২০২৩ ৬:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৩, ২০২৩ ৬:৫০ অপরাহ্ণ

 

বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অভিভাবককে পা ধরে মাফ চাইতে বাধ্য করানোর অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা জজ রুবাইয়া ইয়াসমিনের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় সংযুক্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিনকে প্রত্যাহার করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের বিচার শাখা থেকে একপি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মিজানুর রহমানের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তাকে বদলি করতে সরকারের প্রস্তাবের সঙ্গে অত্র কোর্ট একমত পোষণ করেছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মাকে বিচারক বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিন তার পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছেন—এমন অভিযোগে স্কুলের সামনের রাস্তায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার বিকেলে স্কুলের সামনের রাস্তা বন্ধ করে কয়েক দফায় প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা নিয়মানুসারে পালাক্রমে শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে। কিছুদিন আগে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিনের মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। সোমবার শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দেওয়ার কথা ছিল তার। জজের মেয়ে হওয়ায় সে ঝাড়ু দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং এ নিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়।

ওই রাতে ফেসবুকে সহপাঠীদের বস্তির মেয়ে ও তার মা জজ উল্লেখ করে সে পোস্ট দেয়। এ ছাড়া সহপাঠীদের মাকে তার মায়ের মতো জজ হতে বলে।


বিষয়টি জানতে পেরে জেলা ও দায়রা জজ রুবাইয়া ইয়াসমিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে ওই ছাত্রীদের অভিভাবকদের ডাকতে বলেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে চার ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনের কক্ষে যান। ওই সময় ওই বিচারক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও জেলে পাঠানোর হুমকি-ধমকি দেন। এ ছাড়া দুই অভিভাবককে তার পা ধরে ক্ষমা চাইতে তিনি বাধ্য করেন।

শিক্ষকদের দাবি, জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়ায় দুই অভিভাবক ভয়ে জজের পা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন। পা ধরতে তাদের কেউ বাধ্য করেনি।

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিকেল ৩টার দিকে ক্লাস বর্জন করে তারা স্কুলের সামনে নওয়াববাড়ি সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। মঙ্গলবার দুই দফায় রাত ৮টা পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নিলুফা ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে যান। এ সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হযরত আলী ও প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখে।

পরে জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হাইকোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয় ঘটনাটি জেনেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিলুফা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যায়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ