অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তোলাই বিএনপির দর্শন : মির্জা ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তোলাই বিএনপির দর্শন : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২০, ২০২৫ ৯:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২০, ২০২৫ ৯:১৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

বিভাজন নয়, ঐক্যের রাজনীতি করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক সদস্য বিএনপিতে যোগদানের এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘যে কথাটা আমরা বলি সেটা হচ্ছে, শতফুল ফুটবে… সেই শতফুল থেকে একটা শ্লোগান, সেই বাগান থেকে বেরিয়ে আসবে সেটাই হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ। অনেক ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে, অনেক রক্তপাত হয়েছে বাংলাদেশে, অনেক বিভাজন হয়েছে… আমরা এখন এগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।”

তিনি বলেন, ‘‘গত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনৈতিক কাঠামো—সবকিছুকে ধ্বংস করে ফেলেছে। আমরা সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে একটা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই। যা এই কথাই আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ‘২৪ এর ৫ আগস্ট রাতেই একটা ছোট্ট বাণীর মধ্য দিয়ে বলেছিলেন— আমরা এই দেশে আর প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা চাই না, আমরা ভালোবাসার মধ্য দিয়ে মানুষকে জয় করতে চাই, একটা ঐক্যের রাজনীতি সৃষ্টি করতে চাই—সেটাই হচ্ছে মূল কথা।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘আজকে অনেকে অনেক কথা বলবে, স্বার্থের কথা বলবে এবং বলছেও। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন কথা বলছি। এখন আমাদের দর কষাকষি চলছে, এখন আমাদের স্বার্থগুলো সামনে এসে গেছে… কোনটাকে মেনে নেব, কোনটাকে মেনে নেব না—তাই না।”

‘‘কেউ বলছে যে পিআর করতে হবে, কেউ বলছে পিআর করা যাবে না… আমরা ওই সমস্ত পথে যেতে চাই না। আমরা ১৯৭১ সালে যে বাংলাদেশ তৈরি করেছিলাম, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং ‘২৪ সালের ৩৬ জুলাই আমরা অভ্যুত্থানে নতুন বাংলাদেশের আবির্ভাব দেখেছি—সেই বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই।”

’২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, সমেন সাহার নেতৃত্বে গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত অর্ধশতাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিএনপি মহাসচিবের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন।

নতুন যোগদানকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘আসুন আমরা আমাদের মধ্যে আরও বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলি।”

‘‘এই যে ভ্রান্ত ধারণা—বিশেষ করে বাইরের কিছু মানুষ, কিছু দেশ, কিছু মিডিয়া—তারা বাংলাদেশের ব্যাপারে একটা মিথ্যা প্রচারণা করার চেষ্টা করেছে। আমরা এই ধারণাটা পাল্টে দিতে চাই। আপনারা দেখেছেন যে দুর্গাপূজায় এবং তার আগের দুর্গাপূজাতেও আমাদের বিএনপির নেতা-কর্মীরা আপনাদের প্রতিটি মণ্ডপে গিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমার নিজের এলাকা ঠাকুরগাঁয়ে ২৬৫টি পূজামণ্ডপ আছে, সেখানে আমাদের নেতা-কর্মীরা পূজার আনন্দ ভাগ করে নিয়েছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আজকের সময়টা অনেক কঠিন। কিছু মানুষ চেষ্টা করছে, আমাদের যে একাত্তরের যুদ্ধে আমরা যে দেশ তৈরি করেছি, যে ঐক্য সৃষ্টি করেছি, ‘২৪ এর বিপ্লবে যে ঐক্য সৃষ্টি করেছি—সে ঐক্যের মধ্যে ভাঙন ধরাতে। বিভিন্ন রকম কথা বলে, বিভিন্ন রকম কর্ম করে ভাঙাতে চায়।”

‘‘আমরা অত্যন্ত সচেতনভাবে এই ভাঙনের বিপক্ষে। আমরা বাংলাদেশের মানুষ এক। আমরা যারা এই ভূখণ্ডে বাস করি, আমরা সবাই এক—হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং চাকমা, মারমা, উরাং—সবার সঙ্গে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের প্রতিটি সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা যেন লেখাপড়ার সুযোগ পায়, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ পায়, কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়—সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন যে, আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২২ সালে যে ৩১ দফা দিয়েছেন, সেই ৩১ দফায় খুব পরিষ্কার করে উল্লেখ করা আছে।”

তিনি বলেন, ‘‘আমরা সেই নেতা দেখতে চাই না, যে নেতা আওয়ামী লীগের মতো পালিয়ে যাবে। আমরা সেই নেতাকে চাই, যে যেকোনো মুহূর্তে সবাইকে নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দেবে… এই বিষয়গুলো আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে চাই।”

‘‘কপিল-সোমনাথ বাবু বলেছেন, তারা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটা বৃহত্তর সমাবেশ করবেন, যেখানে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন, কথা বলবেন। আমরা আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে চাই—আজ থেকে এই মুহূর্ত থেকে আপনাদের সমস্ত সুখ-দুঃখের ব্যাপারে সজাগ ও সচেতন থাকব, আপনাদের পাশে থাকব।”

সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলতে চাই—আমরা দেখতে চাই না যে, আপনারা আমাদের এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের কোনো রকম বিপদের মধ্যে ফেলেছেন বা কোনোভাবে সমস্যা তৈরি করেছেন… এটা আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই। আমার কাছে অনেক খবর আছে। দয়া করে এই সম্প্রদায়ের মানুষদের কেউই কখনো হয়রানি করবেন না কোনোভাবে।”

‘‘আপনারা আমাদের ভাই, আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং সমস্ত শক্তি নিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকব।”

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বিজন কান্তি সরকার ও রমেন বাবু বক্তব্য রাখেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ