আওয়ামী লীগে ১০ প্রার্থীর লড়াই সিলেটে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগে ১০ প্রার্থীর লড়াই সিলেটে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৩ ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৩ ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

 

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

নানা জল্পনা সিলেটে। কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি। এরই মধ্যে একটি নাম ভেসে ভেড়াচ্ছে ভোটের মাঠে। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। দলীয় নেতাদের মুখে আছে অন্যদের নামও। কেউ বিপ্লবী। নানা মন্তব্যে ঝড় তুলছেন ফেসবুকে। অধ্যাপক জাকির ও ডা. শিপলুর নামও আলোচনায়। গতবার কামরানের সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন আসাদউদ্দিন আহমদ। এবারো তিনি মাঠে।

নৌকার জন্য আশাবাদী তিনিও। তবে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার একে একে নৌকার জন্য ১০ প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। তারা দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমাও দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, আগামী শনিবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা রয়েছে। ওই সভায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারে আওয়ামী লীগ। তার আগে সিলেটের ১০ প্রার্থীর দলীয় মনোনয়ন জমা পড়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী সিলেট আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হলেন- যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিট শাখা সিলেটের ডেপুটি কমান্ডার ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এটিএমএ হাসান জেবুল, সিসিক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ছেলে ডা. আরমান আহমদ শিপলু, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী ও ব্যবসায়ী-ক্রীড়া সংগঠক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম। মনোনয়নপত্র জমার পর এখন কেবল অপেক্ষা। মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে ঘোষণা করা হবে নাম। তবে- প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রীর ডাকের অপেক্ষায় ছিলেন সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঢাকায় দলীয় প্রধান সিলেটের নেতাদের নিয়ে সভা করার পর মনোনয়ন বোর্ডের সভা হয়েছিল। এবার সেটি না হওয়ার কারণে সিলেট আওয়ামী লীগের ভেতরে রক্তক্ষরণ বেশি হচ্ছে। সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকেই এখনো আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মানছেন না। এ কারণে এখনো আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে তাদের যোজন যোজন দূরত্ব রয়েছে। তবে- আনোয়ারুজ্জামান কিংবা অন্য যে কেউ নৌকা প্রতীক পেলে তার পক্ষে কাজ করবেন বলে ইতিমধ্যে মতামত দিয়েছেন তারা। নৌকা প্রতীক এবং প্রার্থীকে নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকবে না। কিন্তু গত দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য সুখকর নয়। যোগ্য প্রার্থী থাকার পরও আওয়ামী লীগ এ সিটি নির্বাচনে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। আর এজন্য দায়ী করা হয়েছিল দলীয় কোন্দলকে। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়। নেতায় নেতায় বিভক্ত থাকা সিলেট আওয়ামী লীগকে এক করতে কেন্দ্র থেকেই উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই উদ্যোগের ফলও এসেছে। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই এখন এক এবং ঐক্যবদ্ধ। তবে- ঐক্যবদ্ধ থাকা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র ও দায়িত্বশীল নেতারা এখনো ভালোভাবে সমঝে নেননি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতারা রয়েছেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে। ফলে আনোয়ারকে কেন্দ্র করে সিটি নির্বাচনের আগে সিলেট আওয়ামী লীগে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তৃণমূলেও পড়েছে এর প্রভাব। ফলে আনোয়ারুজ্জামানকে প্রার্থী দিলে কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়া চালাতে হবে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতারা। যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে ঢাকায় লবিং চালাচ্ছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। তিনি নগরে নৌকার টিকিটের জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছেন। সিলেটে আছে গ্রহণযোগ্যতাও। ফলে নৌকার টিকিটের জন্য আশাবাদী অধ্যাপক জাকির। তিনি জানালেন, ‘দল করছি, নৌকার জন্য আশাবাদী। আশা করি কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের হতাশ করবেন না।’ ডা. আরমান আহমদ শিপলু। বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ছেলে। ২০২০ সালে পিতা কামরানের মৃত্যুর পর থেকে মাঠে কাজ করছেন। শিপলুর প্রতি সহানুভূতি সবারই। কামরানের ছেলে বলে ভোটের মাঠে আছে পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতাও। আবেগের ভোটে শিপলুর আধিপত্য বেশি। ফলে শিপলুও আছেন ভোটের মাঠে আলোচনায়। শিপলু জানান, ‘দলের সিদ্ধান্ত মেনেই আমরা রাজনীতি করি। দল যে সিদ্বান্ত দেবে সে সিদ্ধান্ত মানতেই হবে। দলের সিদ্বান্ত চূড়ান্ত বলে জানান তিনি।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ