আওয়ামী লীগকে লক্ষিন্দরের বাসর ঘর বানিয়ে থাকতে বললেন আলাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, নভেম্বর ২২, ২০২২ ৬:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, নভেম্বর ২২, ২০২২ ৬:২৯ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘তারেক রহমানকে নিয়ে এতই ভয় পান তাহলে লক্ষিন্দরের বাসর ঘর বানিয়ে সেখানে থাকেন যাতে কেউ দংশন করতে না পারে।’
তিনি বলেন, ‘তবে সেখানেও আপনারা নিরাপদ না। কারণ এত অপকর্ম খুন গুম করেছেন। মানুষকে এত অত্যাচার করেছে। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়েছে। চাঁদাবাজি করেছেন এর হিসাব একদিন আপনাদেরকে দিতে হবে। ওই সময়টা আর বেশি দূরে নয়।’
মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি সব কথা বলেন।
বিএনপি’র এ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের মহাসচিব বলেননি যে পাকিস্তান আমলে ভালো ছিলাম। এটা বলেছেন আপনার শিক্ষক ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘‘ব্রিটিশ আমলে খারাপ ছিলাম, তারচেয়ে খারাপ ছিলাম পাকিস্তানে, তারচেয়ে বেশি খারাপ আছি বাংলাদেশে।’’ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তো আপনার শিক্ষক আমরা তো ছোট মানুষ। আপনার শিক্ষক যেখানে বলেছে পারলে হেফাজতের মত তাকে দমন করেন, বিএনপিকে নয়। সম্মান তো কাউকে করতে শেখেন নাই। অপমান অপদস্ত করতে শিখেছেন। কথায় কথায় যা মন চায় বলতে থাকেন।’
যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের যত আকাম আছে তার নাটের গুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগ। ইন্ডিমিনেন্টের কথা বলে, বাংলাদেশের প্রথম ইন্ডিমিনিট দিয়েছে আওয়ামী লীগ। রক্ষী বাহিনী যত মানুষ হত্যা করেছে জাসদ দাবী করে তাদের ৪০ হাজার লোক হত্যা করেছে। এই হত্যা বিচার করা যাবে না জাতীয় সংসদে প্রথম ইন্ডিমিনিট পাস করে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের প্রথম ক্রসফায়ার আওয়ামী লীগ শুরু করেছে সিরাজ সিকদারকে দিয়ে। বাংলাদেশের প্রথম গুম করেছে আওয়ামী লীগ। জহির রায়হান কে গুম করে এটা শুরু করেছে তারা।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি খারাপ ও অপকর্ম প্রথম শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। আজ তারা দায়ভার দিতে চাচ্ছে অন্যের কাঁধে। এইটা হচ্ছে ইতিহাসের ট্রাজেডি। এইখান থেকে সঠিক ইতিহাসে আনতে হবে।’
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাদের জনজীবনে ৭ নভেম্বর যে জিনিসটা হয়েছিল। সেটা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে হয়েছিল এটা কিন্তু আমরা কেউ দাবি করি না। জিয়াউর রহমান কে ডেকে এনে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং সেটার সাথে এই জাসদের লোকেরা জড়িত ছিল। কর্নেল তাহের জড়িত ছিল। তারা নিজেরাই ক্ষমতা নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সাধারণ সৈনিকরা তাদের সে আশা আকাঙ্ক্ষা সফল হতে দেয়নি। তারা বুঝেছিলেন দুর্যোগের সময় এই লোকটা এসেছিলেন আবার চাকরিতে ফিরে গিয়েছিলেন তার কোন ক্ষমতার লোভ নাই। এইখানে জিয়াউর রহমানের প্রতি তাদের এত ক্ষোভ। কারণ রাজনীতিতে বিপক্ষ জনসমর্থন পেলে তাদের জন্য সমর্থনে ভাটা পড়ে।‘
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘৩ নভেম্বর যখন জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড ঘটে তখন জিয়াউর রহমান জেলে, ৬ তারিখ পর্যন্ত জেলে ছিলেন তিনি। তখন সেনাপ্রধানের দ্বায়িত্বে ছিলেন খালেদ মোশাররফ। তাহলে জিয়াউর রহমানের দায় কোথায়।’
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায় রফিকুল ইসলাম মাহতাবের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।
জনতার আওয়াজ/আ আ