আনোয়ারুজ্জামানের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কয়েস লোদী - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৪৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আনোয়ারুজ্জামানের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কয়েস লোদী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

 

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
সিলেট নগরে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। বললেন, বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ৫ই আগস্ট থেকে মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় মাঠে কাজ করছে। নেতাকর্মীদের বাসা ও বাড়িতে যে ভাঙচুর হয়েছে সেটি সিলেট আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কূটকৌশল বলে দাবি করেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সিলেট নগরে উত্তেজনা বিরাজ করে। আর এই উত্তেজনা কারণ- আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বাসাবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে।

প্রথমেই ভাঙচুর করা হয় সাবেক মেয়র ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পাঠানটুলাস্থ বাসা। এরপর একেক করে সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের হাউজিং এস্টেটস্থ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী টিলাগড়ের, সাবেক এমপি এডভোকেট রঞ্জিত সরকারের গোপালটিলার, সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের দর্শন দেউরী, সাবেক কাউন্সিলর ও নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আপ্তাব হোসেন খানের পীর মহল্লার, সাবেক কাউন্সিলর রুহেল আহমদের মেজরটিলার নুরপুরস্থ বাসায় ভাঙচুর করা হয়। এ ভাঙচুরের ঘটনায় গোটা নগরেই উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করে।

হঠাৎ করে শুরু হওয়া ভাঙচুরের ঘটনা ঠেকাতে নগরে র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি সেনা টহল জোরদার করা হয়। চালানো হয় অভিযানও। ঘটনার পর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান ও জালালাবাদ থানার ওসি হারুনুর রশীদ জানান, ছাত্র-জনতার ব্যানারে ওই বাসাগুলোতে ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ ওই বাসাগুলো পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় সিলেট থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী যুক্তরাজ্য থেকে রাতে একটি প্রেস ব্রিফিং করেন। ওই ব্রিফিংয়ে তিনি ঘটনার জন্য সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতা-কর্মীদের দায়ী করেন। একই সঙ্গে আনোয়ারুজ্জামান অভিযোগ করেন, নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর প্রকাশ্য মদদে তার বাসায় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

আনোয়ার দাবি করেন, ‘তার বাসা ভাঙচুরের সময় কেয়ারটেকারকে মারধর করেছে। একই সঙ্গে তার বাসাসহ নেতাদের বাসার সকল মালামাল লুট করেছে। বিএনপি’র বড় বড় নেতা সহনশীলতার কথা বলেন। আবার তাদের নেতাকর্মীরা বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। এটা কেন হচ্ছে’- এ প্রশ্ন তিনি সিলেটবাসীর কাছে রাখেন।

আনোয়ারুজ্জামান দাবি করেন, ‘সিলেটে কারো বাড়িঘরে হামলার ঘটনা কোনোদিন ছিলো না। হামলাকারী ছেলেরা ছাত্রদল পরিচয় দিয়ে এসে প্রকাশ্য হামলা ও ভাঙচুর করেছে’। ৮ মাস পর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ন্যাক্কারজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিলেটে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি’র বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে সেটা কোনোভাবে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন সিলেট বিএনপি’র একাধিক নেতা। তাদের মতে, সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রতিতে সবার আগে আঘাত করেছে আওয়ামী লীগ নেতারা। কয়েক বছর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আপ্তাব ও পাঙ্গাসের নেতৃত্বে মিছিল সহকারে গিয়ে নগরের হাউজিং এস্টেটে সিনিয়র জামায়াত নেতা ডা. সায়েফ ও হাফেজ আব্দুল হাই হারুনের বাসার ভেতরে পরিবারকে রেখে আগুন দিয়েছিলো। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মালেকের তেতলীস্থ বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পাশাপাশি ৪ঠা আগস্ট যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকশ’ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা এসব কার্যকলাপ করেছিলেন বলে সিলেটের সম্প্রতি বিনষ্ট হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যে দেয়া আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রীয়া জানিয়েছেন সিলেট নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। নগরের হাউজিং এস্টেটে তার বাসা। তার বাসার অদূরে হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরীর বাসায়ও হামলা হয়েছে। গতকাল তিনি মানবজমিন এর কাছে আনোয়ারুজ্জামানের দেয়া বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘বাসা বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কূটকৌশল। এ কৌশল তারা অতীতেও প্রয়োগ করেছে। এখানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন জড়িত থাকার যে কথা বলা হচ্ছে সেটি ঠিক নয়। কারণ ৫ই আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বিএনপিসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় মাঠে কাজ করছেন। সুতরাং ভাঙচুরের প্রশ্নই উঠে না’। তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে দীর্ঘ দুঃশাসনের কারণে হাসিনা সরকার গণ-মানুষের ক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। পরবর্তীতে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত এ সংগঠনের সদস্যরা ৫ই আগস্টের পর থেকে নানা প্রপাগাণ্ডা ও পরিস্থিতি ঘোলাটে করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় সিলেটে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য মিছিল, সেটি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ৭ মাস পর এসে ওই সংগঠনের কর্মীরা অযাচিত কাজ করছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে’। বিএনপিসহ ছাত্রদল এ ঘটনার গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। নগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কীভাবে মিছিল করে অপতৎপরতা চালায় সেটি খতিয়ে দেখতে তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীকে আহ্বান জানান।

মিছিল করায় ৮ জন গ্রেপ্তার : বুধবার ভোরে সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল করার দায়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্য রয়েছে- মদিনা মার্কেট এলাকার গার্ডেন গলি বাসার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, পাঠানটুলা এলাকার আমির খান গলির বাসিন্দা সোহেল আহমদ সানী, সিলেটের টুকেরবাজার নালিয়া এলাকার রমনী মোন করের ছেলে রবিন কর, নাইওরপুল এলাকার বঙ্গবীর ব্লক-বি-৮২ এর বাসিন্দা ফাহিম আহমদ, শামীমাবাদ এলাকার রহমান ভিলার বাসিন্দা রাজন আহমদ রমজান, পাঠানটুলা এলাকার আমির খান গলির বাসিন্দা বশির খান লাল ও খাদিমপাড়া এলাকার সোয়েব আহমেদ। কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের গতকাল আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ