আব্দুল মোমেনের সঙ্গে লড়বেন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:৫৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আব্দুল মোমেনের সঙ্গে লড়বেন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ২৯, ২০২৩ ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ২৯, ২০২৩ ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

সিলেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে লড়বেন এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। ইতিমধ্যে মিসবাহ সিরাজের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের হাইকমান্ডের কাছে সিলেট-১ ও সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন মিসবাহ সিরাজ। কিন্তু থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। তবে নির্বাচনের পথ খোলা রাখায় সিলেট-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মিসবাহ সিরাজ। তার ভাই সিলেট জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও দক্ষিণ সুরমা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিলেট-১ আসন ও সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেবেন মিসবাহ। এরপর একটি থেকে প্রত্যাহার করে নিবেন। সেটি হতে পারে সিলেট-৩। সিলেট-১ আসনে তিনি প্রার্থী থাকবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে যেসব প্রস্তুতি নেয়া দরকার সেসব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে সিলেট-১ আসনে ১ ভাগ ভোটারের সমর্থন সংগ্রহ করা হয়েছে। সিলেট আওয়ামী লীগে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ পরিচিত নাম। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন। এরপর টানা ৩ বার তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি সিলেট জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠনের সময় তাকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বাদ দেয়া হয়। তবে; সিলেটের নেতাদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মিসবাহ সিরাজের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন; ২০০৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের এমপি হয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. আবুল মাল আব্দুল মুহিত। একই সময় মিসবাহ সিরাজও ছিলেন দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে। ফলে ওই সময় সাবেক অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে নানা বিষয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছিল মিসবাহ সিরাজের। এ কারণে সিলেটে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব দানা বেঁধেছিল।

এ নিয়ে মিসবাহ সিরাজের ওপর নাখোশ ছিলেন অর্থমন্ত্রী। তার ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করেন; ওই বিরোধের কারণে এখনো মন্ত্রী পরিবারের সঙ্গে মিসবাহ সিরাজের দূরত্ব রয়েই গেছে। দলীয় নিষেধ না থাকায় মিসবাহ সিরাজ এবার সিলেট-১ আসনে চ্যালেঞ্জ জানাতে যাচ্ছেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রীর ভাই, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনকে। এজন্য এ আসনে শেষ পর্যন্ত তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে যেতে পারেন। যদি তিনি প্রার্থী না হন এবং বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করেন তাহলে ২০১৪ সালের মতো সিলেটের মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে ওয়াকওভার পেয়ে যেতেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এ আসনটি মর্যাদাপূর্ণ। বলা হয়; এ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন সে দলই সরকার গঠন করে।

এজন্য এ আসনে যাদের মনোনয়ন দেয়া হয় তারা গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকেন। মিসবাহ সিরাজের আগে এ আসন থেকে প্রার্থী হতে সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. মুহিতের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। এ লড়াই তার জন্য হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দলের নেতাদের মতে; মন্ত্রী পরিবারের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে সাবেক মেয়র কামরান শেষ পর্যন্ত নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। দল ক্ষমতায় থাকলেও পরপর দু’বার তাকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল। এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- নেত্রীর যেহেতু কোনো নিষেধ নেই এ কারণে তৃণমূলের চাপে তিনি প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সিলেট-১ আসন থেকে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

এদিকে- সিলেট-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি। এ আসনে তারা প্রার্থী দিয়েছে বিগত সিলেট সিটি করপোরেশনের পরাজিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুলকে। তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, নজরুল ইসলাম বাবুল সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দল থেকে তাকে সিলেট-১ আসনের প্রার্থী দেয়া হয়েছে। তবে এ আসনে প্রার্থী হতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত নন। ফলে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনায় রয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এবার দল নির্বাচনে না থাকায় তিনিও প্রার্থী হচ্ছেন না। সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না।

সরকার পতনের একদফা দাবিতে বিরোধী জোটের ৮ম দফায় ডাকা ২৪ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আজ। সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সারা দেশে সর্বাত্মক এই অবরোধ পালন করবে তারা। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারা দেশে হরতাল পালন করবে তারা। এদিকে একই কর্মসূচি জামায়াত ও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণঅধিকার পরিষদসহ সমমনা দলগুলো।

উল্লেখ্য, গত ২৮শে অক্টোবর মহাসমাবেশে হামলার পর সরকারের পদত্যাগের এক দফার দাবিতে বিএনপিসহ সমমনা জোটগুলো ২৯শে অক্টোবর থেকে সারা দেশে দু’দফায় তিনদিন হরতাল ও সাত দফায় ১৫ দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ