আমার স্মৃতিতে বি এন পি ও জিয়া পরিবারে কান্ডারী মরহুম আ,স,ম হান্নান শাহ্ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৩৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আমার স্মৃতিতে বি এন পি ও জিয়া পরিবারে কান্ডারী মরহুম আ,স,ম হান্নান শাহ্

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৫ ১০:২০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ৫, ২০২৫ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

 

নজরুল ইসলাম চৌধুরী
আজ ২৭শে সেপ্টেম্বর বি,এন,পি নেতা মরহুম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ,স,ম হান্নান শাহের নবম তম ( ৯বম তম ) মৃত্যু বার্ষীকি। ২০১৬ সালের এই দিনে সেই ১/১১ এর পরের বি,এন,পি এবং শহীদ জিয়া পরিবারের উপর কঠিন দুঃসময় ও অঘোর অমানীষা কালীন সময়ের অকুতোভয় বিপ্লবী কান্ডারী বি এন পি নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল( অবঃ) আ,স,ম হান্নান শাহ বি,এন,পি ও জিয়া পরিবার ও সারা দেশের কোটি কোটি মানুষকে কাঁদিয়ে চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন। আজ আমি আমার প্রানপ্রিয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবিভাবক শ্রদ্ধেয় মরহুম হান্নান শাহ্ ভাইয়ের বিদেহি আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে হ্রদয়ের বিষাদ বেদনা ও রক্তক্ষরণ নিয়ে কিছু স্মৃতি চারণ তুলে ধরছি।
মরহুম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ,স,ম হান্নান শাহ্’র মৃত্যু সংবাদে সারা দেশেই মুহুর্তের মাঝে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। যে শোকের ছায়া ভাষায় অবর্ণনীয়। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে দেশ জাতীর এমন ক্লান্তিকালে মরহুম আ স ম হান্নান শাহ্’র মত দেশপ্রেমিক নেতার প্রচন্ড অভাব।
১৯১৪সালে গাজীপুরের কাপাসিয়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে মরহুমের জন্মগ্রহন করছিলেন। তাঁর বাবা ফকির আব্দুল মান্নান। যিনি ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৮পর্যন্ত তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর ছোট ভাই শাহ আবু নঈম মোমিনুর রহমান বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের জেষ্ঠ বিচারপতি ছিলেন। স্ত্রী নাহিদা হান্নান ও এক কন্যা শারমিন হান্নান সুমি, দুই ছেলে শাহ রেজাউল করীম হান্নান ও শাহ রিয়াজুল ইসলাম সহ তাঁর নিজ জন্মস্থানে এবং সমগ্র বাংলাদেশে বি,এন,পি ও বি,এন,পি পরিবারের অজস্র গুনাগ্রাহী রেখে গেছেন। এক বর্নাঢ্য সামরিক জীবনের অধিকারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ,স,ম হান্নান শাহ ১৯৬২ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন লাভ করেছিলেন। তৎকালিন পাকিস্তানের সেনানিবাসে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হান্নান শাহ সহ্ অন্যান্ন সামরিক কমকর্তার সাথে তিনিও পাকিস্তানে কারাবন্দী ছিলেন। ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে স্বধীন সার্বভৌম দেশে প্রত্যাবর্তন করে বাংলাদেশ সেনাবাহীনিতে যোগদান করেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ,স,ম হান্নান শাহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বিগ্রেড কমান্ডার ও চট্টগ্রাম মিলিটারি একাডেমির কমান্ডেন্ট ছিলেন। এবং যশোরের স্কুল অব ইনফ্যান্টি এ্যান্ড ট্যাক্টিসের চীফ ইন্সট্যাক্টর ছিলেন। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রপাম সার্কিট হাউজের দেশ-বিদেশি গভীর ষড়যন্ত্রে বিপথগামী কিছু সেনা কর্মকর্তার হাতে শাহাদাত বরণ করেছিলেন তৎকালিন রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই সময়ের চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ,স,ম হান্নান শাহ এক দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম রাঙ্গুনীয়া ইন্জিনিয়ার কলেজের পার্শ্ববর্তি পাহাড়ের পদতল থেকে শহীদ জিয়ার মরদেহ ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন। সেই সুবাদে সেনা প্রধান এরশাদ সুকৌশলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ,স,ম হান্নান শাহ্ কে বাধ্যতামুলক অবসরে পাঠিয়েছিলেন।

এবং তাঁকে অবসর দেয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ের যূগ্ন-সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। পরবর্তিতে তিনি বি,এ,ডি,সির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। নিজেকে যথাযতভাবে সামলিয়ে তিনি ১৯৮৩ সালে ঐ পদ থেকে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন। আমি তখন ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব ছিলাম। তারেই সুবাদে আমার সাথে তাঁর পরিচয করে দিয়েছিলেন আমার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবনের অন্যতম অবিভাবক মরহুম আ স ম কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান ( অবসরপ্রাপ্ত)। যিনি আমাকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের একজন নিবেদিত কর্মি ও সংগঠক হিসাবে তাঁর স্নেহের বন্ধনে স্থান দিয়েছিলেন। জনাব মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে আমার অনেক অনেক স্মৃতি রয়েছে। যা বর্তমানে অনেকের নিকট অবিশ্বাস্য হবে। সেই সময়ে মরহুম আ স ম মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব। এক রহস্যময় কারনে তিঁনি আমাকে – – – মাস্টার বলে ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্ সহ অনেকের সাথে পরিচয় করে দিয়ে বলতেন,দল পাগল আমার বাবা নজরুল – অসাধনের সাধক। উল্লেখ্য যে মরহুম আ স ম মোস্তাফিজুর রহমান ও মরহম আ স ম হান্নান শাহ্ বৈবাহিক সুত্রে একে অরের আপন ভায়রা ভাই ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই হান্নান শাহ ঢাকা মহানগরী যুগ্ন-আহ্বায়কের দায়িত্বভার গ্রহন করে তিনি একজন সুদক্ষ রাজনৈতিক ও সংগঠক হিসেবে নিজেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সেই সময়ের সৈরাচার এরশাদ বিরোধি আন্দোলনের সময় বারবার তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করেছিলেন। হান্নান শাহ তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও নৈপুনতাঁর কারনে দলের চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়া তাকে বি,এন,পির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। ১৯৮৩ সাল থেকে আমি মরহুম আ স ম হান্নান শাহ্ এর মনি কোঠায় একজন বিশ্বস্ত সৈনিক ও সংগঠক ছিলাম। ( অনেকটা বলা চলে বিশ্বস্ত হাতের লাঠির মতই)
২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে হান্নান শাহকে বি,এন,পির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারিত ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছিল। পরবর্তি সষ্ঠ কাউন্সিলেও তিনি একই পদে পুণনির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর নির্বাচনি এলাকা গাজীপুর ৪নং আসন থেকে দুই দুই বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবং বি,এন,পি সরকারের পাঠ ও বস্ত্র মন্ত্রীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সেই সময়ে দেশের পাঠ ও বস্ত্র শিল্পের ক্ষেত্রে তিনি বিশাল সফলতাঁর দ্বার উম্মোচিত করেছিলেন।
আসছি মরহুম হান্নান শাহের সংক্ষিপ্ত কিছু স্মৃতিচারণ নিয়ে।: বি,এন,পির কঠিন ক্লান্তিকালীন সময়ে ১/১১ পরবর্তি দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র বি,এন,পি ও জিয়া পরিবারের প্রতি নেমে এসেছিল এক মহা টর্নেডো।সেই টর্নেডোর মূল লক্ষ্য ছিল বি,এন,পি ও জিয়া পরিবারকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে সমূলে উচ্ছেদ করা।

সেই নিরিখে সেনা সমর্থিত তত্বাবোধক সরকার সর্বপ্রথম ২০০৭ সালের ৭ই মার্চ বি,এন,পির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব জনাব, তারেক রহমান ও তাঁর সহোদর মরহুম আরাফাত রহমান কোকো কে গ্রেপ্তার করের কারাগারে নিক্ষেপ করে। তাঁর পরপরেই সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ ও ফখরুদ্দিন আর মেজর জেনারেল মাসুদ চৌধুরি গং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রয়ের মদদপুষ্ট আওয়ামী বাকশালিদের সাথে আতাত করে দেশনেত্রি বেগম খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে। এবং বেগম জিয়ার সাথে বি,এন,পির সকল দলীয় নেতা কর্মী ও তাঁর আত্মীয় স্বজনের সাথে সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অন্যদিকে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে ডি,বি হেফাজতে জিঙ্গাসাবাদের নামে এনে শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যায়। সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহামেদ ও জেনারেল মাসুদ চৌধুরি ও ফখরুদ্দীনদের নীল নকশায় বি,এন,পিতে সংষ্কারপন্থীদের একটি ভন্ডদলের উত্থান ঘটিয়ে বি,এন,পিকে খন্ড-বিখন্ড করার নিখুত চাল তৈরি করে। ঐসময়ের বি,এন,পির তৎকালীন মহাসচিব সহ অধিকাংশ নেতারাই নিশ্চুপ ও নিস্তব্ধ ছিলেন। অনেকেই সংষ্কারপন্থিদের উত্থানে সক্রিয় হয়েছিলেন। সেই মহাদুর্যোগের সময় চুপ থাকতে পারেন নি বি,এন,পি নেতা মরহুম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ,স,ম হান্নান শাহ। তিনি মঈন-ফখরুল গংদের বিরুদ্ধ সিংহের গর্জনে হুংকার দিয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়ে বি,এন,পির দুর্দিনের কান্ডারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সেই সময়েg যদি হান্নান শাহ্ দেশ ও দলপ্রেমের অবস্থান থেকে বি,এন,পির হাল না ধরতেন তবে আজকের প্রেক্ষাপট হয়ত ভিন্ন ভাবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হতো।

১/১১এর পর বি,এন,পির দুঃসময়ের মহান কান্ডারি অকুতোভয় সিপাহশালার হান্নান শাহ্ নিজের জীবন বাজি রেখে বি,এন,পি ও জিয়া পরিবারকে রক্ষার জন্য সেনা সমর্থিত তত্বাবোধয়ক সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। গৃহবন্দি খালেদা জিয়ার সাথে হান্নান ভাইয়ের পরামর্শ অনুযায়ি দেখা করার জন্য আমি জীবনবাজি রেখে উদ্যেগ গ্রহন করেছিলাম। পরপর ৫ দিন তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তা প্রহরী ও ডি,বি সদস্যদের কঠোরতার আর নিপীড়নের কারনে দেখা করতে ব্যার্থ হই। হান্নান ভাই মিডিয়াতে নেত্রীর সাথে দলের নেতা কর্মী সহ সর্বস্তরের লোকজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার তীব্র প্রতিবাদ করেন। ঐ সময় আমি হান্নান ভাইয়ের বাসায় পরিচিত হয়েছিলাম হান্নান ভাইয়ের অপর দুই সেনা সমর্থিত তত্বাবোধয়ক সরকারের কঠিন বিরোধী সৈনিক অব: মেজর মিজান ও মেজর হানিফ ভাইয়ের সাথে । এই দুজন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হান্নান ভাইয়ের সাথে বি,এন,পি ও জিয়া পরিবারকে রক্ষা করে দেশের গনতন্ত্রকে সুরক্ষার জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করছিলেন। আমি হান্নান ভাইয়ের সাথে সেই সময়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছায়ার মত আকড়ে ছিলাম। ঐ সংকট কালিন সময়ে হান্নান ভাই রয়টার্সের সাথে টেলিফোন সাক্ষাতকারে বেগম জিয়ার সাথে সর্বস্তরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগটি উত্থাপিত করেছিলেন। কিন্তু রয়টার্স বলছিল, সরকার তা অস্বীকার করছে। এটাকে তিনি সরকারের ভাওতাবাজি ও মিথ্যাচার বলে উল্লেখ করে বলে ছিলেন “যারা বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে ব্যার্থ হয়েছে তাদের মধ্যে আশির দশকের এক ছাত্রনেতা আমার এখানে উপস্থিত আছেন । রয়টার্স আমার সাথে কথা বলেছিলেন। আমি দ্ব্যার্থ ভাষায় বলেছিলাম পরপর ৫দিন আমি চেষ্টা করেও নেত্রির সাথে দেখা করতে ব্যার্থ হই।
হান্নান ভাইয়ের নির্দেশেই আমি নেত্রীর সাক্ষাৎ ও খোঁজ খবরের চেষ্টা অব্যাহত রেখে ছিলাম। ষষ্ঠ দিনের মাথায় আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি নেত্রীর সাথে দেখা করতে সক্ষম হই । আমার সাথে ছিল আমার আত্মার আত্মিয় ছোট ভাই তুল্য ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক আবুল হোসেন আবু। দেশ নেত্রীর বাসভবনে সাক্ষাৎ করার বিষয়টি পরদিন দেশের প্রায় জাতীয় পক্রিকায় “ফেনী জেলার ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরির বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ” শিরোনামে খবর ছাপানো হয়েছিল। পরদিন থেকে হান্নান ভাইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে আমি প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বিভিন্ন খবরা খবর আদান প্রদানের কাজে বেগম জিয়াকে কারাগারে প্রেরণের পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত তাঁর বাসায় যাতায়াত অব্যাহত রেখেছিলাম। (এমন সুযোগ যার মাধ্যমে হযেছিল তিনি ছিলেন সাবেক ডি এফ আই এর একজন উর্ধতন কর্মকর্তা) যেদিন রাতে মেডামকে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে সেই রাতের সেই মুহুর্তেও আমি বেগম জিয়ার প্রধান ফটকের সামনে প্রহারারত ছিলাম। অকুতোভয় বি,এন,পির দুর্দিনের কান্ডারী সরকারের অরাজনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধাচারন কেবল ঘরে বসেই করেননি। দেশের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত পর্যন্ত বি,এন,পির সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ ও তৃণমুল সকলকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য চারনের বেশে ঘুড়ে বিড়িয়ে ছিলেন। আমি তাঁর সাথে সেই সময়ের সার্বক্ষনিক সফরসঙ্গী হিসেবে যাদেরকে পেয়েছিলাম তাদের মধ্যে ছিলেন (জনাব/জনাবা) মেজর মিজান, মেজর হানিফ, রাজশাহীর মহিলা এম,পি জাহান পান্না, আশির দশকের ছাত্র নেতা কাজী খসরু, স্বপন চৌধুরী, খন্দকার বাবুল চৌধুরি, সরোয়ার আজম খান (মরহুম), ঈঁসা ভাই, ফোরকানি আলম, যুবদলের তদকালিন দপ্তর সম্পাদক জেড খাঁন মোঃ রিয়াজুদ্দিন নসু, আবুল হোসেন আবু, জান্নাতুল করিম ফেরদৌস খোকন ভাই সহ আরো অনেকেই । তখন সকলেই মনে করতেন আমি হান্নান শাহের রাজনৈতিক পি, এস । আসলে কিন্তু তা নয়। হান্নান ভাইয়ের সাথে আমার রাজনৈতিক নিবিড় সম্পর্কে ছিল সেই ১৯৮৫সালের স্বৈরাচারি এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলনের কোন এক অসাধ্য কাজকে সাধ্য করার মাধ্যমে । ( সেই অসাধ্য কাজ সাধ্য করার মূল বিষয়টি সংগত কারনে তুলে না ধরার জন্য আমি সম্মানিত সকল পাঠক বৃন্দের নিকট মার্জনা প্রার্থনা করছি) সেই দুর্বার আন্দোলনে হান্নান ভাইয়ের দেয়া অসাধ্য কাজ সাধনের ফলেই আমি তাঁর নিকট বিশ্বস্থতা ও আস্থাভাজন হয়েছিলাম। অসাধ্য কাজ গুলো সাধ্য করার জন্য হান্নান ভাইযের শেখানো পদ্ধতিতে আমাকে বহুরুপী কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করতে হযেছে। কখনো রিস্কা চারক, ভিক্ষুক, চানাচু বিক্রেতা, ডাক পিযন, ভারসাম্য হীন ও প্রতিবন্ধী সহ নানান রুপ ধারন করতে হয়েছে।
১/১১পরবর্তি আরেকটি স্মৃতিচারন তুলে না ধরলেই নয়। সেই সেনা সমর্থিত তত্বাবোধক সরকারের অমানুষিক নির্যাতনের সময় হান্নান ভাইকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছিল। অবিশ্বাষ্য হলেও সত্য যে, হান্নান ভাইয়ের নিপুন প্রশিক্ষনের নিরিখে আমি নারায়নগঞ্জের কারাগারে নেত্রী ও তাঁর চিরকুট সহ নানাহ খবারাখবর আদান-প্রদান করতে সক্ষম হয়েছিলাম। যখন হান্নান ভাই এবং বেগম জিয়ার খবরাখবরের যোগজাজশ গুরুত্বপূর্ন হয়ে পরত তখন কারাগার থেকে চিকিৎসার ছলে হান্নান ভাই ছুটে আসতেন পি,জি হাসপাতালে। আমি নিশ্চিত যে, সম্মানিত পাঠক বৃন্দ চমকে উঠবেন ! হান্নান ভাই পি,জি হাসপাতালে চিকিৎসকের সহকারি হিসেবে আমি ডাক্তারের রুমে অবস্থান নিতাম। সেখানেই চিরকুট ও খবরাখবরের আদান প্রদান হত। যাহা আমি দেশনেত্রির কাছে সরবরাহ করতাম। এসকল স্মৃতি সম্পর্কে হান্নান ভাইয়ের পি,এ জনাব. বাবুল ভাই সহ তাঁর দুই পুত্রগন অবগত আছেন। একবার হান্নান ভাই ও তাঁর সকল সফর সঙ্গী সহ রাজশাহী, দিনাজপুর ও নেত্রোকোণায় তিন দিনের সফর শেষে ঢাকাতে তাঁর ডি,ও,এইচ,এসস্থ বাসভবনে কোন এক সন্ধ্যায় ফিরে আসি। আমি হান্নান ভাইকে তাঁর বাসায় পৌছে দিয়ে মহাখালির মাসিক ভারা করা ” অবকাশ হোটেলে ” ফিরে আসছিলাম। খুবই ক্লান্তিতে আস্তে আস্তে পায়ে হেটে যাচ্ছিলাম। অর্ধপথ যেতে না যেতেই হান্নান ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বল্লেন “যেখানে যেই অবস্থায় থাকেন না কেন দ্রুত আমার নিকট আসুন। (উল্লেখ্য যে, মরহুম হান্নান ভাই আমাকে সবসময় নজরুল সাহেব বলে ডাকতেন) আমি রাওয়া ক্লাবের নিকটবর্তি স্থান থেকে পুনরায় বাসায় ফিরে আসি। আসা মাত্রই আমাকে একটি চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে বল্লেন, দ্রুত মেডামের বাসায় গিয়ে তিনার হাতে হাতে দিবেন। এবং বলবেন – অল্প সময়ের মধ্যে মেডামের জন্য কোন এক ব্যাক্তি এবং এক মহিলা ফলের ঝুড়ি নিয়ে আসবেন। নেত্রী যেন কোন অবস্থাতেই ঐ ফলের ভেতর ডাবের পানি এবং পাকা পেপে না খান”। আমি চিরকুট টি মেডামের হাতে হস্তান্তর করে এবং কথাটি ওনাকে অবহিত করে ফেরার পথেই বাসার প্রধান ফটকের সামনে একটি কালো গ্লাসের দামী গাড়ী দাড়ানো অবস্থায় দেখলাম। গাড়ী থেকে কোন এক মহিলা বিশাল এক ফলের ঝুড়ি নিয়ে বেগম জিয়ার বাসভবনের দিকে যাচ্ছিল । গাড়ীতে যিনি বসে থাকা সেই ভদ্রলোকটির মেডামের বাসায় প্রবেশের অনুমুতি ছিল না। ( জীবনে যদি কখনো মহান আল্লাহ সুবহানু ওয়া তালা সুযোগ করে দেন তা বি এন পির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে বলার চেষ্টা করব ইনশাহআল্লাহ্)। যাহা ছিল সেনা সমর্থিত মইন – ফখরুল সরাকারের সম্পূর্ন এক নাটক। আর সেই কারনেই মেডাম কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর প্রানে রক্ষার জন্য আমাকে হান্নান ভাইয়ের সান্নিধ্য থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছিল। কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল না। প্রায় এক বৎসর পরে পরিস্থিতির আলোকে আমার সাথে হান্নান ভাইয়ের পূনঃ যোগসাজশ শুরু হলেও প্রান নাশের হুমকিতে দুই হাজার এগারোতে (২০১১সালে) দেশত্যাগ করে ২০১৯ সার পর্যন্ত প্রবাস জীবন কাটাতে হযেচিল।
হান্নান ভাই অসুস্থ হওয়ার তিনদিন পূর্বে ৩রা সেপ্টেম্বর তাঁর বাসায় দীর্ঘক্ষন সময় কাটিয়েছিলাম। আমার সাথে ছিল ফেনী জেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক আবুল হোসেন আবু। সেই সময়ে জনাব হান্নান ভাই বড়ই আপসোস করে বলেছিলেন আমাকে ক্ষমা করবেন, আপনার প্রতিভা এবং একাগ্রতার কোন মূল্যায়ন আমি করতে পারিনি। তিনি তাঁর টেবিলে হাতের মুষ্ঠি দিয়ে টেবিলের ওপর আশাত করে বলে ছিলেন ” নজরুল সাহেব শহীদ জিয়ার দল অচিরে ভারতের দালালে ভরপুর হয়ে পড়বে। তাঁর অফিসে আমি আর আবু ছাড়া আর কেউ ছিল না। ( আরো অনেক কথোপকথন হওয়া বিষযটি ছিল খুবেই স্পর্শকাত) রুদ্ধদ্বার কক্ষে অতীতের মত নানাহ বিষয়ে একান্তে আলাপ হয়েছিল সেদিন সে আলাপ প্রসংঙ্গে এখানে না যাওয়াই শ্রেয়। তবে তা বাস্তবে বর্তমানে অনেক মিল পাচ্ছি। আজ আ স ম হান্নান শাহ্ র খুব খুব প্রয়োজন ছিল।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ,স,ম হান্নান শাহ শহীদ জিয়ার মতই আমার রাজনৈতিক ও সাংগঠিনক জীবনের আরেক মহান আদর্শ। আমি তাঁর রুহ-জগৎের মাগফিরাত কামনা করছি। হাশর জগতে মহান রাববুল আলামীন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। এই দোয়া রইল।

(নজরুল ইসলাম চৌধুরী)
(৮০ দশকের) সাবেক সভাপতি : জাতীয়তাবাদি ছাত্রদল ফেনী জেলা শাখা। ও সাবেক প্রচার সম্পাদক ফেনী জেলা বি এন পি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ