আ’লীগ জোর করে নিজের প্রার্থীকে নির্বাচনে জেতাতে চায়নি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, মে ২৬, ২০২৩ ৯:০৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, মে ২৬, ২০২৩ ৯:০৪ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গাজীপুরের নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী বিজয়ী হলে দেশের মানুষ যতটা খুশি হতো তার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে। আওয়ামী লীগ জোর করে নিজের প্রার্থীকে নির্বাচনে জেতাতে চায়নি। গাজীপুরের সুষ্ঠু নির্বাচন সারাদেশে, বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। গতকালের নির্বাচনে গণতন্ত্র জয়লাভ করেছে।
শুক্রবার (২৬ মে) বিকেলে রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের চেষ্টাকারী আবু সাঈদ চাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. হুমায়ূন কবীর।
মির্জা ফখরুল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুলকে এই দেখলাম হাসপাতালে, এই আবার মাইকে ভাষণ দিচ্ছে। সারাদিন তিনি তোতা পাখির মত মিথ্যাচারের বুলি আওড়ায়।’
শেখ হাসিনার কাতারে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের জ্বালানি সংকট যাতে দীর্ঘায়িত না হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছুদিন আগে কাতারের আমীরের সঙ্গে আলোচনা করে এসেছেন। সেখানে কাতারের আমির আশ্বস্ত করেছেন যে বাংলাদেশে জ্বালানির অভাব হবে না। নিজের জন্য না গিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য তিনি কাতারে যান।’
শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অথচ দেশের একটা মহল দিনরাত শেখ হাসিনার দুর্নাম করে বেড়ায়, তারা দুঃসাহস করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়ার। হত্যার হুমকি কি স্লিপ অফ টাং? এর আগেও একবার রাজশাহীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। ওখানকার সাবেক মেয়র আরেকটা ১৫ আগস্ট এর কথা বলে। এসব আমরা সহ্য করব? নেত্রী বলেছেন সহ্য করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিলে তোমাদের ভোট কমে যাবে। কমতে কমতে তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।’
নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধরতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কেউ খারাপ কাজ করলে তাকে সংশোধন করুন, তাকে ভাল কাজে অনুপ্রাণিত করুন। শেখ হাসিনার উন্নয়ন, আমাদের ভালো আচরণ; এই দুই মিলেই আমাদের আগামী ইলেকশন।’
মির্জা ফখরুলকে তাচ্ছিল্য করে তিনি বলেন, ‘লন্ডন থেকে ধমক দেন তারেক জিয়া। সেই ধমকের কষ্টে হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল।’
বিদেশি লবিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আটলান্টিকের ওপারে তাকিয়ে ছিল শেখ হাসিনার সরকারের উপর নিষেধাজ্ঞার জন্য। নিষেধাজ্ঞার আশায় কেউ যায় লন্ডনে, কেউ যায় ওয়াশিংটনে, লবিস্ট নিয়োগ করে। নিষেধাজ্ঞা কই? আমাদের নির্বাচন আমরা করবো। আমরা কারো ভয়ে, আতঙ্কে আতঙ্কগ্রস্ত নই। কাবু হয়ে মাথা নত করার মানুষ শেখ হাসিনা নয়। শেখ হাসিনার পদত্যাগ, পার্লামেন্টের বিলুপ্তি বাংলাদেশের মানুষ চায় না।’
তত্ত্বাবধায়ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা নির্বাচন চায় না, তত্ত্বাবধায়ক চায়। তত্ত্বাবধায়ক হবে না, কোনো বিদেশি বন্ধু আমাদেরকে বলে নি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এই প্রসঙ্গে বলেন, We don’t care about caretaker government.’
তারেক জিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান অনলাইনে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বেড়ায়। আদালতের আদেশ মানছে না তারেক। মনের মত না হলে তারা আইন মানে না, আদালত মানে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা ভয় পেয়ে গেছে। যা কিছু নেগেটিভ, তাই তারা করে। সেদিন বিআরটিসির গাড়ি পোড়ে। তারা ভূমি অফিস, বাঁধ, রেল লাইন পুড়িয়ে দেয়, হাজার হাজার মানুষকে পুড়িয়ে মারে, এই হলো বিএনপি। যারা নির্বাচনে বাধা দিবে তাদের বিরুদ্ধে আমেরিকার পলিসি কার্যকর হয় কিনা আমরা দেখবো।’
গণসংযোগ বাড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাজধানীর অন্যান্য জায়গাতেও সমাবেশ করতে অনুরোধ করেন কাদের।
জনতার আওয়াজ/আ আ